সংবাদের জেরে শাকিবের ‘তাণ্ডব’ থেকে বাদ নায়িকা!

শাকিব খান অভিনীত এক সিনেমায় কাজের সুযোগ এসেছিল অভিনেত্রী নিদ্রা দে নেহার। একটি সূত্র জানায়, একদিন শুটিংও করেছেন তিনি। কিন্তু হঠাৎ করেই বাদ পড়ে গেলেন ছবিটি থেকে। কেন? সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে একের পর এক অপেশাদার আচরণের অভিযোগ তুলেছেন নেহা।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একটি দীর্ঘ স্ট্যাটাসে নিজের ক্ষোভ ও হতাশার কথা জানান তিনি। সেই পোস্টে ছিল অভিনয় ছাড়ার হালকা ইঙ্গিতও। তবে সরাসরি যোগাযোগে নেহা স্পষ্ট করেছেন—তিনি অভিনয় ছাড়ছেন না, বরং এমন অপেশাদার পরিবেশে আর কাজ করতে চান না।

নেহার ভাষ্য অনুযায়ী, এক সাংবাদিকের প্রশ্নে ছবিটির কথা জানানো হয়। পরে সে তথ্য সংবাদ হয়—যেখানে তাঁকে ছবির নায়িকা হিসেবে উল্লেখ করা হয়। কিন্তু সেই সাক্ষাৎকারে ‘সিনেমাটি’র নাম উল্লেখ করেননি তিনি। তবুও এতে ক্ষুব্ধ হয় প্রযোজনা টিম।

নিদ্রা দে নেহা। ছবি: ফেসবুক থেকে নেওয়া

‘আমি তখনও খবরটা দেখিনি। কিন্তু ওরা ধরে নিল আমি করিয়েছি। আমার সঙ্গে চেঁচামেচি শুরু করে। বললাম, আমি করিনি। এরপর তারা যা করার করল—বাদ দিয়ে দিল’, বলেন নেহা।

বাবার চিকিৎসা বাতিল করেও সিনেমাটির কাজ করতে গিয়েছিলেন বলে ইনডিপেনডেন্ট ডিজিটালকে জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী। তিনি বলেন, ‘আমার বাবা ক্যানসারের রোগী। তাকে মুম্বাই নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু ছবিটির জন্য সে পরিকল্পনা বাদ দিই, টিকিট বাতিল করি, মে পর্যন্ত ডেট দিই। তারপরও এমন ব্যবহার!’

তাঁর দাবি, সিনেমাটির সংশ্লিষ্ট কেউ তাঁকে গোপনীয়তা বজায় রাখার কথা বলেনি। এমনকি ছবির চুক্তিপত্রেও সই হয়নি। ঈদের পর সই করার কথা ছিল।

নিদ্রা দে নেহা। ছবি: ফেসবুক থেকে নেওয়া

‘সাইন করিনি, বলা হয়নি গোপন রাখতে, তাহলে কেন এমন করা হলো?’—প্রশ্ন নেহার।

তিনি মনে করেন, এমন আচরণ পুরোটাই অপেশাদারিত্ব। তাঁর ভাষ্য, ‘ধরুন, আমি যদি সংবাদ করিও, তাও কি এমন আচরণ করা যায়? তারা তো আমাকে অফিসিয়ালি বলেনি বিষয়টি গোপন রাখতে। সাধারণত কোনো টিম কিছু গোপন রাখতে চাইলে বসে আলোচনা করে। তা-ও হয়নি।’

নিজের অভিনয়ের প্রতি আত্মবিশ্বাসী নেহা বলেন, ‘‘আমি কম কাজ করেছি, কিন্তু প্রতিটাই মানসম্পন্ন। ‘আধুনিক বাংলা হোটেল’-এর ‘হাঁসের সালুন’-এ আমার চরিত্র ছিল মাত্র ১০ মিনিটের। তবুও বিদেশি গণমাধ্যমে পর্যন্ত লেখা হয়েছে আমার কাজ নিয়ে। কোয়ালিটি না থাকলে তারা ডাকত না।”