শুভশ্রীর সঙ্গে নাচলেন, কথা বললেন মঞ্চে! তারপরও কেন ক্ষমা চাইতে হলো দেবকে

মঞ্চে দেব ও শুভশ্রীর হাত মিলিয়ে দাঁড়ানো, দু’জনের পোশাকে রঙের মিল, আর ভক্তদের উল্লাস—৪ আগস্টের সন্ধ্যায় ‘ধূমকেতু’র ট্রেলার মুক্তি যেন এক উৎসবে পরিণত হয়েছিল। কে বলবে, একসময় এই দুই তারকা একে অপরের দিকে তাকাতেও চাইতেন না!

অতীতের কথা এখন রূপকথার মতো শোনালেও, বাস্তবে তা ছিল বেশ টালমাটাল। সম্পর্ক ভাঙনের পর দেব-শুভশ্রী সমীকরণ একেবারেই বদলে গিয়েছিল। বলাবলি ছিল, ‘আর কোনও দিন একসঙ্গে কাজ করবেন না’। শুভশ্রী বিয়ে করলেন পরিচালক রাজ চক্রবর্তীকে, আর দেবের জীবনে এলেন রুক্মিণী মৈত্র। দর্শকও ধরে নিয়েছিলেন—এই জুটি হয়তো চিরতরে পর্দা থেকে বিদায় নিল।

কিন্তু ভাগ্যের খেলাও বড় অদ্ভুত। এক দশক আগে শুট হওয়া ধূমকেতু অবশেষে মুক্তির মুখে। আর সেই ছবির প্রচারে দুই প্রাক্তন সহ-অভিনেতাকে একই মঞ্চে দেখা গেল—হাসি, খুনসুটি আর পুরনো দিনের ছোঁয়া নিয়ে।

দেবের ঠাট্টায় উঠে এল শুভশ্রীর অভিনীত ‘সন্তান’ ছবির প্রসঙ্গ, আর শুভশ্রীর রসিক জবাব—‘তুমি আমার মতো কাউকে আর কোনও দিন পাবে না’। মুহূর্তেই অনুষ্ঠানকক্ষে ফেটে পড়ল হাততালির শব্দ। দর্শকেরা যেন আবার দেখতে পেলেন সেই পুরনো দেব-শুভশ্রী রসায়ন।

কিন্তু মঞ্চের উষ্ণতা সোশ্যাল মিডিয়ায় গড়াল অন্যদিকে। নেটিজেনদের মিম, কটাক্ষ, মন্তব্যের নিশানা হয়ে উঠলেন রাজ চক্রবর্তী ও রুক্মিণী মৈত্র। রসিকতার আড়ালে অনেকেই ছুড়ে দিলেন তির্যক মন্তব্য।

এই পরিস্থিতিতে দেব নিজেই এগিয়ে এসে ক্ষমা চাইলেন—রাজ, রুক্মিণী ও শুভশ্রীর কাছে। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, ‘আমরা সিনেমার জন্য অতীত ভুলেছি। মানুষ আমাদের ইতিবাচক দিক দেখতে চায়। মঞ্চে ওঠার আগেই বলেছিলাম, নেতিবাচক কিছু নয়।’

প্রযোজক হিসেবেও দায় স্বীকার করলেন দেব। বললেন, ‘সমাজমাধ্যমে কিছু ভিউ পাওয়ার জন্য অনেক মিম তৈরি হয়েছে। প্রযোজক হিসেবে আমি তিন জনের কাছেই ক্ষমা চাইছি।’

তবে এক চিমটি হাসি মিশিয়ে দেব যোগ করলেন—‘যত কটাক্ষ হবে, তত প্রচার বাড়বে। তাই ছবির জন্য এতে আমার লাভই হবে।’