সিঙ্গেল স্ক্রিনে ‘রাক্ষস’র একদিনে আয় ৪১ লাখ

মাল্টিপ্লেক্সে সফলতার পর ‘রাক্ষস’ মুক্তি পেয়েছে সিঙ্গেল স্ক্রিন হলে। সেখানেও দারুণ সাড়া ফেলেছে রোমান্টিক অ্যাকশন থ্রিলার ঘরানার এই ছবি। জানা গেল, সিঙ্গেল স্ক্রিনে মুক্তির প্রথম দিন, অর্থাৎ শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ছবিটি আয় করেছে ৪১ লাখ টাকার বেশি। 

ছবিটির এ আয়ে দারুণ খুশি হল মালিকরা। বগুড়ার ঐতিহ্যবাহী ‘মধুবন’ সিনেমা হলের প্রোপাইটার আর এম ইউনুস রুবেল বলেন, ‘‘শুক্রবার ছুটির দিনে ‘রাক্ষস’ সিনেমার সবগুলো শো হাউসফুল ছিল। শুরুতে আমাদের ধারণা ছিল আজ হয়তো দর্শক কমবে। কিন্তু সেটা ঘটেনি। আজও সবগুলো শো হাউসফুল যাচ্ছে। সিনেমাটি নিয়ে দর্শকের প্রতিক্রিয়া দারুণ। মনে হচ্ছে সিনেমাটি দীর্ঘদিন চলবে।”

রাজধানীর ‘মধুমিতা’ হলের কর্ণধার ইফতেখার উদ্দিন নওশাদ বলেন, ‘রাক্ষস পুরোপুরি কমার্শিয়াল সিনেমা—সিঙ্গেল স্ক্রিনে ভালো ব্যবসা করছে। ছুটির দিনে (শুক্রবার) দর্শক আশানুরূপ ছিল। আজও ভালো আছে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে সিনেমাটি দিয়ে ভালো ব্যবসা হতে পারে।’

ঈদুল ফিতরে শুধু মাল্টিপ্লেক্সে মুক্তি পেয়েছিল রাক্ষস। তারপর চলতি সপ্তাহ থেকে ৩০টির মতো সিঙ্গেল স্ক্রিনে চলছে এ ছবি। প্রযোজনা সংস্থা ও প্রদর্শক সমিতির বরাতে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আনন্দ সিনেমা (কুলিয়ারচর), মনিহার সিনেমা ও মনিহার সিনেপ্লেক্স (যশোর), মম ইন ও মধুবন (বগুড়া), রাজ তিলক (রাজশাহী), সুগন্ধা (চট্টগ্রাম), মধুমিতা (ঢাকা), আনন্দ (ঢাকা), শ্যামলী (ঢাকা), সৈনিক ক্লাব (ঢাকা), সিনেস্কোপ (নারায়ণগঞ্জ), স্বপ্নীলসহ (কুষ্টিয়া) আরও বেশকিছু হলে চলছে রাক্ষস। আগামী সপ্তাহে হল সংখ্যা দ্বিগুন হবে বলে জানিয়েছেন সিনেমাটির অন্যতম প্রযোজক শাহরীন আক্তার সুমি।

রাক্ষস মূলত ‘বরবাদ ইউনিভার্স’-এর অংশ হিসেবে নির্মিত। সিনেমাটিতে সিয়ামের বিপরীতে অভিনয় করেছেন কলকাতার সুস্মিতা চ্যাটার্জি। এছাড়াও রয়েছেন আলী রাজ, সোহেল মণ্ডলসহ আরও অনেকে। বিশেষ একটি গানে অংশ নিয়েছেন বলিউড অভিনেত্রী নাতালিয়া জানোসজেক। এটি প্রযোজনা করেছে রিয়েল এনার্জি প্রডাকশন।

তৃতীয় সপ্তাহে সিনেমাটির দর্শক সাড়া নিয়ে নির্মাতা মেহেদী হাসান হৃদয় বলেন, ‘ভালো সিনেমা দর্শকদের কাছে ধীরে ধীরে হলেও স্থান পাবে। প্রথমে মাল্টিপ্লেক্সে আমাদের শো কম হওয়ায় দর্শকদের অনেকে সিনেমাটি দেখতে এসেও দেখার সুযোগ পাননি। ফলে এখনও দর্শকদের চাপ রয়েছে। তৃতীয় সপ্তাহে এসেও সিনেমাটি অলমোস্ট হাউজফুল যাচ্ছে। সিঙ্গেল স্ক্রিনেও সিনেমাটি বড় সাড়া পাচ্ছে। কারণ সিঙ্গেল স্ক্রিনের দর্শকরা যে ধরনের সিনেমা দেখে আনন্দ পান তার সবই এতে রয়েছে।’

বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও ভারতের মুম্বাইতে হয়েছে এ সিনেমার শুটিং। এটি পরিচালকের দ্বিতীয় সিনেমা। প্রথম সিনেমা ‘বরবাদ’ করে দারুণ আলোচনায় আসেন তিনি।