নিষ্ঠুর এক অলিগার্কের ছেলে। ধন–সম্পদের ভিড়ে জন্ম। বেড়ে ওঠা অর্থ ও অস্ত্রের ঝনঝনানি দেখতে দেখতে। হুট করে মরে যায় মা। বাবা যেন ছেলেকে তখন আরও নিজের মতো করে গড়ে তুলতে চায়। কিন্তু হুট করে এক ঘটনায় বাবা–ছেলের দুটি পথে দুটি দিকে বেঁকে যায়। মাঝে সেতু হিসেবে থাকে কেবল একমাত্র ছোট ভাই।
ক্র্যাভেনের ক্র্যাভেন হয়ে ওঠার আগের কাহিনি কিছুটা তো বলাই হলো। নিষ্ঠুর অলিগার্কের ওই বড় ছেলেই এক সময় হয়ে ওঠে ক্র্যাভেন। ‘দ্য হান্টার’ নামে ত্রাস হয়ে ওঠে সে। এক্ষেত্রে অন্যান্য সুপারহিরোর মতো এই সুপারভিলেনেরও অতিমানবীয় ক্ষমতা আছে। মূলত বাবার সাথে শিকারে গিয়ে সিংহের কামড়ে ও এক রহস্যময় পানীয় পান করে এমন ক্ষমতার অধিকারী হয় ক্র্যাভেন। বাবা–ভাইয়ের থেকে দূরে গিয়ে এরপর ক্র্যাভেনের একলা জীবনের যাপন শুরু হয়। আর্থিক লাভের জন্য অন্য প্রাণীদের হত্যা করা মানুষের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো শুরু করে ক্র্যাভেন। ফলে তারাও হান্টারকে শায়েস্তা করার উপায় খুঁজতে থাকে। এভাবেই এগোয় কাহিনি।
আর এ কারণেই হয়তো বক্সঅফিসে নিদারুণভাবে মুখ থুবড়ে পড়েছে ‘ক্র্যাভেন: দ্য হান্টার’। ১৩০ মিলিয়ন ডলার বাজেটের ছবিটি থেকে দর্শকেরা এমনভাবেই মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন যে, ক্র্যাভেন তৈরির খরচও তুলে আনতে পারবে কিনা, তা নিয়েই সংশয় উঠে গেছে। সাম্প্রতিককালে ভেনম ফ্র্যাঞ্চাইজি দিয়ে যেভাবে সিনেমার ব্যবসায় আলোর মুখ দেখেছিল মারভেল কমিকস, তা বেশ খানিকটা ফিকে করে দিয়েছে ক্র্যাভেন। স্বাভাবিকভাবেই তাই নতুন করে ভাবতেই হবে মারভেল কর্তৃপক্ষকে।
এক কথায়, ‘ক্র্যাভেন: দ্য হান্টার’ দেখার আগে প্রত্যাশার পারদ শূন্যের কোটায় নামিয়ে নিতে পারলে ভালো হবে। একমাত্র তখনই ২ ঘণ্টারও বেশি সময় বিনিয়োগের পর দর্শক হিসেবে হতাশার বোধ কম হবে হয়তো। অবশ্য সিনেমা দেখার চেয়ে পপকর্ন খাওয়াই যদি বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়, তাহলে ভিন্ন কথা!
রেটিং: ৩.৬০/৫.০০
পরিচালক: জে.সি. শ্যানডোর
চিত্রনাট্য: রিচার্ড ওয়েঙ্ক, আর্ট মার্কাম ও ম্যাট হোলোওয়ে
অভিনয়শিল্পী: অ্যারন টেইলর–জনসন, রাসেল ক্রো, আরিয়ানা ডিবোস প্রমুখ
ভাষা: ইংরেজি
ধরন: অ্যাকশন, থ্রিলার
মুক্তি: ১২ ডিসেম্বর ২০২৪