যে কারণে টানা ৮ বছর শুধু দেশের গানই গেয়েছেন বুলবুল

ইমতিয়াজ বুলবুল বেড়ে ওঠেন একজন গিটারিস্ট হিসেবে। একাত্তরে সাড়ে ১৪ বছর বয়সে অংশ নেন মুক্তিযুদ্ধে। পরবর্তী সময়ে শুধু গিটারে সীমাবদ্ধ না থেকে গান লেখা, সুর করা ও সংগীত পরিচালনায় যুক্ত হন তিনি।

দেশ স্বাধীনের পর বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) দেশাত্মবোধক গান দিয়ে সুরকার হিসেবে যাত্রা শুরু করেন আহেমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল। সেসময় টানা ৮ বছর তিনি শুধু স্বদেশের গানই করেছেন। এ প্রসঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে বুলবুল বলেছিলেন, ‘আমি একজন গিটারবাদক ছিলাম। যুদ্ধের দিনের কথা মনে হলেই চোখের সামনে ভেসে উঠত সেই রোমহর্ষক দিনগুলোর স্মৃতি, হত্যাযজ্ঞের দৃশ্য। যাঁদের হারিয়েছি, অনুভব করলাম তাঁদের জন্য কিছু করা দরকার। সেই থেকে টানা আট বছর আমি শুধু দেশের গান করেছি। অন্য গান করিনি।’

এরপর ১৯৭৮ সালে ‘মেঘ বিজলি বাদল’ সিনেমার মাধ্যমে সুরকার ও সংগীত পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন।

আমৃত্যু সংগীতের সঙ্গেই ছিলেন এই সুরস্রষ্টা। ১৯৮৪ সালে বেলাল আহমেদ পরিচালিত ‘নয়নের আলো’ সিনেমায় তাঁর লেখা ও সুরে প্রতিটি গান ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। তাঁকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। সেই কালজীয় গানগুলো হলো—‘আমার সারাদেহ খেয়ো গো মাটি’, ‘আমার বাবার মুখে প্রথম যেদিন’, ‘আমার বুকের মধ্যেখানে’ ও ‘আমি তোমার দুটি চোখের দুটি তারা হয়ে থাকব’। 

সক্রিয়ভাবে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন ইমতিয়াজ বুলবুল। ছবি: সংগৃহীত

ক্যারিয়ারে প্রায় দুই শতাধিক চলচ্চিত্রে সংগীত পরিচালনা করেছেন ইমতিয়াজ বুলবুল। তাঁর সুর ও সংগীতে ‘সব কটা জানালা খুলে দাও না’, ‘মাঝি নাও ছাইড়া দে’, ‘সেই রেললাইনের ধারে’, ‘সুন্দর সুবর্ণ তারুণ্য লাবণ্য’, ‘একতারা লাগে না আমার দোতারাও লাগে না’, ‘আমার গরুর গাড়িতে বউ সাজিয়ে’, ‘আম্মাজান আম্মাজান’, ‘পড়ে না চোখের পলক’ প্রভৃতি গান উল্লেখযোগ্য।

২০০১ সালে ‘প্রেমের তাজমহল’‌ এবং ২০০৫ সালে ‘হাজার বছর ধরে’ সিনেমার জন্য শ্রেষ্ঠ সংগীত পরিচালক হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান তিনি। দেশের সংগীতে অনবদ্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১০ সালে তিনি একুশে পদকে ভূষিত হন।

প্রসঙ্গত, আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের জন্ম ঢাকায়। ১৯৫৬ সালের ১ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন তিনি।