কলকাতার আরজি কর হাসপাতালে একজন তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণকাণ্ডে উত্তাল গোটা ভারত। এ ঘটনায় রাজপথে নেমে বিচারের দাবি তুলেছেন টলিউড তারকারা। তাঁরা ওই তরুণী চিকিৎসকের ছদ্মনাম দিয়েছেন ‘অভয়া’। ধর্ষণকাণ্ডে প্রতিবাদে জানিয়েছেন গায়ক অরিজিৎ সিংও। সোমবার (২৬ আগস্ট) তিনি নিজের এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেল থেকে লাইভে এসে, অভয়াকে নিয়ে কথা বলেন। সঙ্গে কলকাতাকে নিয়ে লেখা একটি গানও গেয়ে শোনান। এর ২৪ ঘণ্টা পর তিনি ফেসবুকেও একটি দীর্ঘ পোস্ট দিয়েছেন।
অরিজিৎ তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক হ্যান্ডেলে লিখেছেন, ‘২০২৪ সালের ৯ আগস্ট কলকাতার কেন্দ্রস্থলে ঘটা একটি ট্র্যাজেডি গোটা জাতিকে তার মূল থেকে নাড়িয়ে দিয়েছে। আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে এক তরুণী শিক্ষানবিশ ডাক্তারের নৃশংস গণহত্যা প্রতিবাদের ঝড় তুলেছে ভারতজুড়ে। এই গানটি ন্যায়বিচারের জন্য একটি আর্তনাদ, অগণিত নারীদের গলার আওয়াজ, যা নিয়ে তাঁরা ভুক্তভোগী।’
প্রতিবাদে শামিল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘চলুন আমরা সকলে অভয়ার সাহসিকতার প্রতি শ্রদ্ধা জানাই, যে তরুণ ডাক্তার মারা গিয়েছেন, যিনি নির্ভয়ে প্রতিবাদ করেছিলেন। লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য নিয়ে নারীরা যে লড়াই করে চলেছেন, তাদের হয়ে আওয়াজ তুলি আমরা। আমাদের এই গান, সারা দেশের ডাক্তারদের কণ্ঠস্বর, যারা বিপদের সম্মুখীন হওয়া সত্ত্বেও অক্লান্তভাবে সেবা করেন। এটি কেবল একটি প্রতিবাদী গান নয়, এটি একটি ডাক যে, মহিলাদের সুরক্ষা ও মর্যাদার জন্য আমাদের লড়াই এখনও শেষ হয়নি।’
যোগ করে গায়ক লেখেন, ‘আমরা যখন এই গান গাইব, আমরা তাদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কথা মনে রাখব যারা সামনের সারিতে ছিলেন সবসময়, আমাদের ডাক্তার, আমাদের সাংবাদিক এবং আমাদের ছাত্ররা, যাদের শুধু সম্মান দিলেই হবে না, সুরক্ষাও দিতে হবে আমাদের। এই গান একটা আওয়াজ হয়ে উঠুক। আশা, ন্যায়বিচারের আবেদন এবং পরিবর্তনের ডাক তুলুক। একসঙ্গে, আমরা যেন নিশ্চিত করার চেষ্টা করতে পারি, এ রকম ট্র্যাজেডি আর কখনও ঘটবে না।’
গানটি নিজের ইউটিউব চ্যানেলে আপলোড করেছেন অরিজিৎ, যা তিনি ট্রিবিউট দিয়েছেন নিজের মা, মাস্টারমশাই ও দিদাকে।
‘আর কবে আর কবে/ কণ্ঠ শক্তি পাবে/ আর কবে আর কবে?’—এমন গানের কথায় প্রতিবাদ জানিয়েছেন গায়ক।
অন্যদিকে, প্রতিবাদে নিজের রাজপথে নামার আশঙ্কাও সামনে এনেছেন অরিজিৎ। ওই এক্স লাইভে তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘অনেকেই ভাবছে আমি রাস্তায় নামব। কিন্তু সবাই তো নামছে। সুপ্রিম কোর্টের ওপর আশা রাখছি। তবে আমার শুধু ভয় হচ্ছে, যে উত্তর চাইছি সেটা পাব না! তবুও আশা তো রাখতেই হবে। ভয়, কেউ না এটার সুযোগ নেয়। যেন কোনো বিশৃঙ্খলা তৈরি না হয়।’