যেমন আছেন ফরিদা পারভীন

সংকটাপন্ন অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি বরেণ্য সংগীতশিল্পী ফরিদা পারভীন। রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত থেকে তিনি লাইফ সাপোর্টে রয়েছেন। এর আগে তিনি হাসপাতালটির নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন ছিলেন।

ইনডিপেনডেন্ট ডিজিটালকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ফরিদা পারভীনের বড় ছেলে ইমাম। তিনি বলেন, ‘আম্মু গতকাল রাতে থেকেই লাইফ সাপোর্টে আছেন। এখন আল্লাহ ভরসা, সবাই আম্মুর জন্য দোয়া করবেন।’

এর আগে গত আগস্টে ডায়ালাইসিস করতে গিয়ে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলেও বেশ কয়েকদিন আইসিইউতে ভর্তি ছিলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত এই শিল্পী। সেসময় তাঁর উন্নত চিকিৎসার জন্য রাষ্ট্রীয় সহযোগিতা প্রত্যাশা করেছিল পরিবার। কিন্তু পরে পারিবারিক দ্বিধা-দ্বন্দ্বের কারণেই সেই সহায়তা আর নেওয়া হয়নি। যদিও এবার রাষ্ট্রীয় সহায়তা জরুরি বলে জানাচ্ছে শিল্পীর পরিবার। কিন্তু এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি বলে জানান ইমাম।

হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘কিংবদন্তি শিল্পীদের জন্য পৃথিবীর সব দেশেই রাষ্ট্রীয় সহায়তার ব্যবস্থা থাকে। কিন্তু আমরা এখনও তেমন সভ্য হয়ে উঠতে পারিনি। বিষয়টি দুঃখজনক। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় থেকেও আম্মুর কোনো খোঁজ-খবর সেভাবে কেউ নেননি।’ 

যোগ করে তিনি বলেন, ‘এর আগে আম্মুর শারীরিক অবস্থার খোঁজ-খবর নিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, এমনকি মির্জা ফখরুল ইসলাম সাহেব নিজে এসে আম্মুকে হাসপাতালে দেখে গেছেন। আমরা তাঁদের কাছে কৃতজ্ঞ। এখন রাষ্ট্রীয় সহযোগিতার বাইরেও কেউ যদি আম্মুর পাশে দাঁড়াতে চান, আমরা তাঁদেরকে সাধুবাদ জানাই।’

২০১৯ সাল থেকে কিডনি ও শ্বাসকষ্টজনিত অসুখে ভুগছেন ফরিদা পারভীন। চলতি মাসের ৩ সেপ্টেম্বর ডায়ালাইসিস করাতে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হলে শারীরিক অবস্থার গুরুতর অবনতি হয়। জরুরিভিত্তিতে তাঁকে তখন আইসিইউতে নেওয়া হয়। এর আগে গত মাসেও আইসিইউতে ভর্তি ছিলেন তিনি।

প্রসঙ্গত, নজরুলসংগীত ও দেশাত্মবোধক গানের মাধ্যমে ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন ফরিদা পারভীন। কিন্তু তিনি সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়তা পেয়েছেন লালনসংগীতের জন্য। সংগীতে অনবদ্য অবদানের জন্য ১৯৮৭ সালে তিনি একুশে পদকে ভূষিত হন।