আজকের ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে পুরো বাংলাদেশ। ৫.৭ মাত্রার কম্পনে মানুষ আহত, ঘরবাড়ি দুলছে, কোথাও কোথাও দেখা যাচ্ছে ফাটল। কিন্তু জানেন কি, এই ভূখণ্ডে এমন ভূমিকম্প হয়েছে, যা বদলে দিয়েছে মানুষ তো বটেই, বদলে দিয়েছে আমাদের সংস্কৃতি, এমনকি এক মহান মরমী কবির জীবনও।
ইতিহাস বলছে, ভূমিকম্প শুধু ধ্বংসই রেখে যায়নি, রেখে গেছে এক গভীর মানবিক ট্র্যাজেডি, যা হাছন রাজার কবি হয়ে ওঠার পেছনে রহস্যময় ভূমিকা রেখেছে। গত কয়েক শতকে দুটি ভূমিকম্প ছিল ৮ মাত্রর উপরে। তার একটিতেই এমনটা ঘটেছিল।
১৮৯৭ সালের ভূমিকম্প
১৮৯৭ সালের ১২ জুন এটি শিলং প্ল্যাটুতে আঘাত হানে। এই ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৮.২। এটা গ্রেট ইন্ডিয়ান আর্থকোয়েক নামে পরিচিত। এটার ঝাঁকুনি দিল্লি, পেশোয়ার পর্যন্ত অনুভূত হয়েছিল।
এই ভূমিকম্পে মেঘালয়, সিলেট, ময়মনসিংহ ও ঢাকায় ১৬শর বেশি মানুষ মারা যায়। ভূতত্ত্ববিদ ড. সৈয়দ হুমায়ুন আখতারের ভাষ্য মতে, এই ভূমিকম্পের পর ইংরেজরা ভয়ে তাবু টাঙিয়ে বসবাস শুরু করেছিল। এছাড়া অনেকে নৌকাতেও বাস করেছেন কয়েক মাস।
ড. আনোয়ার হোসেন ভূঁঞা বলেন, ‘লিখিত আছে যে, হাছন রাজার একটি পোষা হাতি ছিল যেটি ভূমিকম্পের কারণে সৃষ্ট একটি ফাটলে পরে মারা যায়। এঘটনার পর হাছন রাজা মর্মাহত হন এবং তিনি এর পরে মরমী কবি হয়ে উঠেন।’
জানা যায়, হাছন রাজার প্রিয় হাতির নাম ছিল ‘লাল বা বাহাদুর’ (মতান্তরে হাতির নাম নিয়ে ভিন্নতা আছে)। সেই ঘটনা তাকে গভীরভাবে নাড়া দেয় এবং তার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
১৭৬২ সালের ভূমিকম্প
এছাড়াও এর বহু আগেই, ১৭৬২ সালের ভূমিকম্প আরও চরম ধ্বংস ডেকে এনেছিল। টেকনাফ থেকে মিয়ানমার পর্যন্ত প্রায় ৪০০ কিলোমিটার লম্বা ফল্টলাইনে ঘটে ৮.৫ মাত্রার কম্পন। এই কম্পনে সমুদ্র থেকে তিন মিটার ওপরে উঠে আসে সেন্টমার্টিন দ্বীপ—যা এর আগে ছিল প্রায় ডুবে থাকা একটি দ্বীপ।