চিরঘুমের দেশে পাড়ি জমালেন ‘একটা চাদর হবে চাদর’খ্যাত জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী জেনস সুমন। হৃদরোগ আক্রান্ত হয়ে আজ বেলা ১২টার দিকে রাজধানীর জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৪৭ বছর। ইনডিপেনডেন্ট ডিজিটালকে এ তথ্য জানিয়েছেন গায়কের ঘনিষ্ঠ ছোটভাই নাদিম।
তিনি জানান, আজ সকাল থেকে বুকে তীব্র ব্যথায় ভুগছিলেন সুমন। তারপর দ্রুত তাঁকে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু শেষমেশ আর বাঁচানো যায়নি। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরই তিনি মারা গেছেন বলে জানান কর্তব্যরত চিকিৎসকরা।
নাদিম আরও জানান, গতকালও সুস্থ-স্বাভাবিক ছিলেন জেনস সুমন। আজ সকাল থেকে হঠাৎ তাঁর বুকে ব্যথা শুরু হয়। ধীরে ধীরে পরিস্থিতি আরও গুরুতর হয়ে দাঁড়ালে জরুরিভিত্তিতে তাঁকে হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর চিকিৎসকরা গায়ককে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
মৃত্যুকালে জেনস সুমন তাঁর স্ত্রী ও দুই মেয়েকে রেখে গেছেন।
নব্বই দশকের শেষদিকে সংগীতাঙ্গনে যাত্রা শুরু করেন এই গায়ক। ২০০২ সালে বিটিভির একটি ম্যাগাজিন অনুষ্ঠানে ‘একটা চাদর হবে চাদর’ গানটি প্রচার হলে দেশজুড়ে ব্যাপক সাড়া ফেলেন তিনি। গায়ক হিসেবে অর্জন করেন তুমুল জনপ্রিয়তা।
এর আগে, ১৯৯৭ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম একক অ্যালবাম ‘আশীর্বাদ’। একে একে তিনি উপহার দেন ‘আকাশ কেঁদেছে’, ‘অতিথি’, ‘আশবাদী’, ‘একটা চাদর হবে’, ‘আয় তোরা আয়’, ‘চেরী’সহ বেশকিছু অ্যালবাম। ২০০৮ সালে ‘মন চলো রূপের নগরে’ অ্যালবামের পর দীর্ঘ বিরতিতে যান তিনি। সবশেষ সেই ১৬ বছরের বিরতি ভেঙে গত বছর জি-সিরিজ থেকে প্রকাশ করেন ‘আসমান জমিন’ শিরোনামের নতুন একটি গান। একক ও মিক্সড অ্যালবাম মিলিয়ে প্রায় ৩০০ গান গেয়েছেন তিনি।