প্রথমবার রেকর্ডিংয়ে ‘গানপোকা’, পহেলা মে আসছে নতুন গান

দেশের সংগীতাঙ্গনে সুপরিচিত ব্যান্ড ‌‘গানপোকা’। দীর্ঘ ১৪ বছরের পথচলায় তাঁদের গান শ্রোতাদের মুখে মুখে, যদিও সেসব গানের কোনো অফিসিয়াল স্টুডিও ভার্সন বা রেকর্ড নেই। অবশেষে অনুরাগীদের এই অপেক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে! প্রথমবারের মতো অফিসিয়াল মিউজিক ভিডিও প্রকাশ করতে যাচ্ছে গানপোকা।

আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবসে (১ মে) মুক্তি পাচ্ছে ব্যান্ডটির বহুল প্রতীক্ষিত গান ‘গতিজড়তা’। এটি তাঁদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত হবে। 

‘পতনের প্রবাহতে বুকভাঙা গান’ স্লোগানকে ধারণ করে পথচলা এই ব্যান্ডের নতুন গানটির কথা লিখেছেন চঞ্চল মাহমুদ। মিউজিক ভিডিও নির্মাণ করেছেন মাহমুদুল হাসান। অ্যানিমেশন তৈরি করেছেন আলভী।

কনসার্টে গানপোকা। ছবি: ফেসবুক থেকে নেওয়া

নিজেদের ‘গানের শ্রমিক’ হিসেবে উল্লেখ করে ব্যান্ড সদস্যরা জানান, শ্রমজীবী মানুষের প্রতি সংহতি জানাতেই পহেলা মে দিনটি বেছে নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বর্তমান সময়ে পূর্ণাঙ্গ অ্যালবামের প্রচলন কমে যাওয়ায় ভিন্ন পরিকল্পনায় এগোচ্ছেন তাঁরা। ‘গতিজড়তা’ তাঁদের আসন্ন অ্যালবামের প্রথম গান হিসেবে প্রকাশিত হচ্ছে। 

গানপোকা’র গানের অন্যতম বৈশিষ্ট্য দোতারানির্ভর সুর ও তাল। দীর্ঘদিনের সাধনা ও পরিশ্রমে ইতিমধ্যে তাঁরা ১০-১২টি মৌলিক গান তৈরি করেছে। ভোকাল ও সুরকার রশিদুজ্জামান রাশেদ বলেন, ‘গানের গভীরতা ও অনুভবকে গুরুত্ব দেওয়ার কারণেই প্রতিটি গান তৈরি করতে সময় লেগেছে।’

অন্যদিকে, কপিরাইট জটিলতা এড়াতে অফিসিয়াল রেকর্ডিংয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ব্যান্ডটি। ভোকাল মিথুন হাসান জানান, তাঁদের গান অনেকে আগে থেকেই রেকর্ড করে নিজেদের নামে প্রচার করেছেন, যা থেকে নানা সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।

স্টুডিও ভার্সন না থাকলেও বিভিন্ন কনসার্টে লাইভ পারফরম্যান্সের মাধ্যমে গানপোকা এরইমধ্যে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। সেই ধারাবাহিকতায় এবার তাঁরা আনছে অফিসিয়াল সাউন্ড ও ভিজ্যুয়াল অভিজ্ঞতা। আসন্ন অ্যালবামটি উৎসর্গ করা হয়েছে ব্যান্ডের প্রয়াত দুই সহযোদ্ধা—‘আমবাগানে’ গানের গীতিকবি মাহমুদ হাসান তারেক এবং ‘নদী’ গানের গীতিকার হাসনাত প্রধানকে।

বর্তমান লাইনআপে রয়েছেন নাজমুল নিশান (পারকেশন), বেনাম চন্দ্র বর্মণ (ড্রামস), রামানুজ চক্রবর্তী অপু (ড্রামস), অনিন্দ্য বিশ্বাস (গিটার), আব্দুল্লাহ আল নোমান (বেজ গিটার), রওশন কবির বিপুল (দোতারা), মিথুন হাসান (ভোকাল ও খমক) ও রশিদুজ্জামান রাশেদ (ভোকাল ও দোতারা)।