প্রয়াত গায়ক জুবিন গার্গের মৃত্যুকে ঘিরে চলমান তদন্তে বড় ধরনের আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে ভারতের আদালত। গুয়াহাটির ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট তার সাবেক ম্যানেজার সিদ্ধার্থ শর্মার মালিকানাধীন ‘মহাবীর অ্যাকুয়া’ প্রতিষ্ঠানের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে তার নিয়ন্ত্রণাধীন ছয়টি ব্যাংক হিসাবও জব্দের আওতায় আনা হয়েছে।
মামলার তদন্তে উঠে এসেছে, সিদ্ধার্থ শর্মা বিপুল পরিমাণ অর্থের উৎস সম্পর্কে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হয়েছেন। আয়কর রিটার্নসহ প্রয়োজনীয় আর্থিক নথি উপস্থাপন করতে না পারায় আদালত ৪৯ পৃষ্ঠার চার্জশিট গ্রহণ করে কঠোর অবস্থান নেয়। অভিযোগ অনুযায়ী, জুবিন গার্গের কাছ থেকে আত্মসাৎ করা অর্থই তিনি নিজের ব্যবসায় বিনিয়োগ করেছিলেন।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ রয়েছে, প্রায় ১.১০ কোটি রুপি ‘মহাবীর অ্যাকুয়া’তে বিনিয়োগ করা হয়, যার বৈধ উৎস দেখাতে পারেননি অভিযুক্ত। তদন্তকারী কর্মকর্তার জমা দেওয়া নথিতে আরও ইঙ্গিত পাওয়া গেছে—অর্থ আত্মসাৎ, তহবিল স্থানান্তর এবং কালো টাকা সাদা করার মতো গুরুতর অনিয়মের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি।
এই মামলার সূত্রপাত ২০২৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বরের একটি মর্মান্তিক ঘটনায়। সেদিন সিঙ্গাপুরে একটি নর্থ-ইস্ট ফেস্টিভ্যালে অংশ নিতে গিয়ে আকস্মিকভাবে মৃত্যুবরণ করেন জুবিন গার্গ। তার বয়স হয়েছিল ৫২ বছর। ঘটনাটি ভারতীয় বিনোদন অঙ্গনে গভীর শোকের পাশাপাশি নানা প্রশ্নও উত্থাপন করে।
পরবর্তীতে হিমন্ত বিশ্বশর্মা-এর নির্দেশে আসাম সরকার বিশেষ তদন্ত দল সিআইটি গঠন করে। তদন্তের অগ্রগতিতে জুবিনের ঘনিষ্ঠদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে, যার মধ্যে ম্যানেজার সিদ্ধার্থ শর্মা অন্যতম।
বিচারক শর্মিলা ভূঞা পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেন, অভিযুক্তের আয়-ব্যয়ের মধ্যে স্পষ্ট অসামঞ্জস্য রয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে উপস্থাপিত নথিগুলো গুরুতর আর্থিক অনিয়মের ইঙ্গিত দেয়। মামলাটি এখনো তদন্তাধীন থাকলেও আদালতের এই সিদ্ধান্তকে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।