৬ পর্বের এই ওয়েব সিরিজটি গত ৩১ অক্টোবর মুক্তি পেয়েছে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম হইচই–এ। মূলত গত বছরের নভেম্বরে মুক্তি ‘পর্ণশবরীর শাপ’ নামের ওয়েব সিরিজেরই সিক্যুয়েল এটি।
তন্ত্রবিশেষজ্ঞ ভাদুড়ী মশাইকে নিয়েই আবর্তিত হয়েছে পুরো গল্প। এবারের কাহিনি নিয়ে হইচই বলছে, ‘বিখ্যাত তন্ত্রবিশেষজ্ঞ, ভাদুড়ী মশাই এক ভয়ঙ্কর রহস্যের গহ্বরে প্রবেশ করেন যখন আরেক শক্তিশালী তান্ত্রিক ভানু ফিরে আসে মৃতদেহের ক্ষুধায়। সময় আরও সঙ্গিন হলে, ভাদুড়ী মশাই ও তার সঙ্গীরা কি পারবে তাদের প্রিয়জনদের এই বিপদ থেকে রক্ষা করতে?’
কাহিনির বর্ণনার শেষে থাকা সংশয় অবশ্য সিরিজের শেষেও আছে। বলা হয়েছে, টু বি কন্টিনিউড। অর্থাৎ দ্বিতীয় অধ্যায় আসছে শিগগিরই। আর সেখানেই হবে চূড়ান্ত লড়াই। এটা হয় আসলে ভালো তান্ত্রিক ও খারাপ তান্ত্রিকের মধ্যে।
হইচই বলছে, নিকষছায়া নামের ওয়েব সিরিজটি প্রকৃতির দিক থেকে ‘পৌরাণিক ভৌতিক’। সুতরাং ভূত যেমন আছে, তেমনি পৌরাণিক রহস্যও আছে। এর ওপর যখন তন্ত্র–মন্ত্র চলে আসে, তখন বিষয়টি উপভোগ্য হয় বটে। ‘নিকষছায়া’ শুরু থেকেই এই সব মশলার মিশেলে জমাট গল্প উপহার দেওয়ার চেষ্টা করে গেছে। রহস্যে বা ভয়ের আবহে ঢোকার জন্য কোনো ভণিতা করেনি। বরং খুব দ্রুতই ঢুকে গেছে মূল গল্পে। ফলে ধান ভানতে শিবের গীত শুনতে হয়নি মোটেই। গল্পে ঢোকার পর এগিয়েও গেছে বেশ দ্রুতবেগে। তাই থ্রিল যে তৈরি করতে পেরেছে নিকষছায়া, সেটি বলাই যায়।
সিরিজে ভাদুড়ী মশাইয়ের চরিত্রে ছিলেন গতবারের মতোই চিরঞ্জিত চক্রবর্তী। তান্ত্রিকের চরিত্রে এই গুণী অভিনেতাকে দেখতে পারাটা সত্যিই উপভোগ্য। এমন চরিত্রের জন্য তিনি উপযুক্তও বটে। তাঁর তীক্ষ্ম উচ্চারণ, গম্ভীর আচরণ—সবই চরিত্রটিকে আরও জীবন্ত করে তুলেছে।
তবে হ্যাঁ, পরিচালক পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় এবারের সিরিজে আগেরবারের চেয়ে বেশ এগিয়ে। সিরিজের ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক খুবই ভালো। স্পেশাল ইফেক্টসের কাজও চলনসই। সিরিজ হিসেবে ‘নিকষছায়া’ বেশ ঝকঝকে, টান টান এবং বিরক্তির উদ্রেক করে না কোনোভাবেই। কিছু বিষয় খাপছাড়া লাগে বটে। দুই পুলিশের মাঝ দিয়ে সন্দেহভাজনের হাস্যকরভাবে পালিয়ে যাওয়া তেমনই একটি উদাহরণ। তবে সেসবের পরিমাণ অল্প। বরং ভয়ের আবহ আছে পর্যাপ্ত পরিমাণে। মিথিক্যাল হরর জনরায় একজন দর্শক তো তাই খোঁজে, নাকি?