কবে আসছে শাওকীর ‘গুলমোহর’?

‘গুলমোহর’ সিরিজে অভিনয়ের জন্য প্রথমবার বাংলাদেশে এসেছিলেন জনপ্রিয় অভিনেতা শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়। গল্প শুনেই এ সিরিজে কাজ করতে সম্মতি দেন তিনি। এর সঙ্গে বাংলাদেশে শুটিং করার ইচ্ছেটা মিলে যাওয়ায় ভক্তরা প্রথমবারের মতো দেশের কোনো কনটেন্টে দেখতে যাচ্ছেন তাঁকে।

শাশ্বত চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘এটা একটা পরিবারের গল্প। এতে অনেক কিছু আছে, তবে আমার চরিত্রে আছে ইমোশন। এমন কাজ খুব কমই হচ্ছে আজকাল। এর সঙ্গে আরেকটা বিষয় আমাকে খুব আগ্রহী করেছে, সেটা হলো বাংলাদেশে শুটিং। কাজের আগেই আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম, শুটিং কোথায় হবে? ওরা বললো বাংলাদেশে। কাজ করতে রাজি হয় গেলাম।’

সৈয়দ আহমেদ শাওকী। ছবি: চরকি

চরকি অরিজিনাল এ সিরিজ নির্মাণ করেছেন সৈয়দ আহমেদ শাওকী। তাঁর নির্দেশনায় প্রথমবারের মতো কাজ করলেন শাশ্বত। জানালেন, শাওকীদের টিম খুবই আত্মবিশ্বাসী। অভিনেতা বলেন, ‘শাওকী তার কাজের ব্যাপারে খুব পরিষ্কার। তিনি জানেন কী করতে চান, কীভাবে করতে চান।’

৫ মে রাতে চরকির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশ পেয়েছে গুলমোহর সিরিজের পোস্টার। যেখানে জানা গেছে গুরুত্বপূর্ণ সব চরিত্র সম্পর্কে। এতে অভিনয় করেছেন সারা জাকের, ইন্তেখাব দিনার, মোস্তাফিজুর নূর ইমরান, সুষমা সরকার, মীর নওফেল আশরাফী জিসান, সারিকা সাবাহ, তৌফিকুল ইসলাম ইমন, মোস্তফা মনোয়ারসহ অনেকে।

গুলমোহর লুকে সুষমা সরকার। ছবি: চরকি

জানানো হয়েছে সিরিজটি মুক্তির তারিখও। চরকিতে নির্মাতা শাওকীর প্রথম নির্মাণ মুক্তি পেতে যাচ্ছে আগামী ১৪ মে রাত ১২টায় (১৫ মে)। এটি তাঁর পরিচালিত তৃতীয় সিরিজ। পরিচালক জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত এটি তাঁর সবচেয়ে বড় স্কেলের কাজ।

মিস্ট্রি-ড্রামা ঘরানায় নির্মিত সিরিজটির পোস্টারের ক্যাপশন আরও একটু রহস্য বাড়িয়ে দিল যেন! এতে লেখা হয়েছে, ‘ক্ষমতার লোভে কেটে গেছে সম্পর্কের সুর!’ এমন একটি বাক্য কীসের ইঙ্গিত দেয়? নির্মাতা আগেই জানিয়েছেন এটি একটি পরিবারের গল্প। তাহলে কী এ পরিবারকে ঘিরেই মিস্ট্রি আর ড্রামার আনাগোনা?

ইন্তেখাব দিনার বলছেন, ‘গুলমোহর একটি পরিবারের মধ্যেকার বিশ্বাস-অবিশ্বাস, রহস্যঘেরা ষড়যন্ত্রের গল্প। আর শাওকী সেই গল্পকে এমনভাবে তুলে ধরেছে যে তাকে ম্যাজিশিয়ান বলেতই হয়।’

ইন্তেখাব দিনার। ছবি: চরকি

অভিনেত্রী সুষমা সরকারের কাছে পরিচিত-সাধারণ থেকে অসাধারণ হয়ে ওঠা এক গল্প গুলমোহর। তিনি বলেন, ‘ক্ষমতা, লোভ, ঈর্ষা কীভাবে মানুষের বিশ্বাস, ভালোবাসা ও মানবিক সম্পর্কগুলোকে দুমড়ে-মুচড়ে দেয় তার একটা রিফ্লেকশন পাওয়া যাবে এখানে। শাওকীর গুলমোহর তাই রক্তের সম্পর্কের ভেতরে থেকেও অন্য এক সম্পর্কের গল্প।’ 

গুলমোহর হলো পরম্পরা অথবা কর্মের বয়ান, যার শেষে অবধারিতভাবে কর্মফল রয়েছে—এভাবেই গুলমোহরকে ব্যাখ্যা করেন অভিনেতা মোস্তাফিজুর নূর ইমরান। অন্যদিকে, গল্পের ব্যাখ্যায় না গিয়ে অভিনেতা মীর নওফেল আশরাফী জিসান বলেন, ‘গুলমোহর সৈয়দ আহমেদ শাওকীর নির্মাণ। এটাই আমার জন্য যথেষ্ট। আশা করছি দর্শকরাও ফ্যামিলি-মিস্ট্রি-ড্রামা উপভোগ করবেন।’ 

এ সিরিজ অভিনেত্রী সারিকা সাবাহর কাছে স্বপ্নের মতো। তাঁর মতে, ‘গুলমোহর একটা আবেগ, পাশাপাশি নিষ্ঠুরতাও।’

গুলমোহর-এর সঙ্গে ক্ষমতা-লোভ, বিশ্বাস-অবিশ্বাস, সম্পর্ক, পরম্পরা, কর্মফলের মতো বিষয়গুলোকে জড়িয়েছেন অভিনয়শিল্পীরা। নির্মাতার মুনশিয়ানায় এগুলো কীভাবে আসবে দর্শকদের সামনে—সেটাই এখন দেখার পালা। আলোচিত নির্মাতা সৈয়দ আহমেদ শাওকী এ সিরিজের মাধ্যমে প্রায় ৩ বছর পর ফিরছেন পর্দায়।