‘স্কুইড গেম’ সিরিজের জ্যামিতিক নকশাগুলোর মানে কী

স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম নেটফ্লিক্সের সবচেয়ে আলোচিত সিরিজ ‘স্কুইড গেম’। মুক্তির পর প্রথম-দ্বিতীয়—দুই কিস্তিই দর্শকদের কাছে সমানভাবে জনপ্রিয়তা কুড়িয়েছে। এবার মুক্তি পেতে যাচ্ছে সিরিজটির তৃতীয় অথবা শেষ কিস্তি। 

এ সিরিজে দর্শকরা মুখোশধারী গার্ডদের মুখাবয়বে ত্রিভুজ, বর্গক্ষেত্র ও বৃত্তের মতো বিভিন্ন জ্যামিতিক নকশা দেখতে পান। সম্প্রতি নেটফ্লিক্স আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কথা বলতে গিয়ে নির্মাতা হোয়াং দং-হিউক সেইসব নকশার অন্তর্নিহিত অর্থ সম্পর্কে মুখ খুললেন।

স্কুইড গেম বানাতে গিয়ে সবচেয়ে বেশি ভালোলাগার বিষয় কোনটি ছিল—এমন প্রশ্নে হোয়াং বেছে নেন সেইসব জ্যামিতিক নকশাগুলোকে। তিনি বলেন, ‘যদি আমাকে একটি বেছে নিতে হয়, তাহলে বলব সিরিজে আমি যেসব জ্যামিতিক নকশা ব্যবহার করি—বৃত্ত, ত্রিভুজ ও বর্গক্ষেত্র।’

সংবাদ সম্মেলনে নির্মাতা হোয়াং দং-হিউক। ছবি: সংগৃহীত

যোগ করে বলেন, ‘আসলে স্কুইড গেমের ধারণাটি যখন প্রথম আমার মনে এসেছিল, তখনই এই নকশাগুলোও মনে আসে, কারণ আমি আক্ষরিক অর্থেই নিজেকে স্কুইড গেম খেলার মতো একজন শিশু হিসেবে ভাবছিলাম।’

সেইসব জ্যামিতিক নকশার মাধ্যমে হোয়াং আসলে কী বোঝাতে চেয়েছেন, এ সম্পর্কে তাঁর ব্যাখ্যা—‘এই তিনটি নকশা লেট ক্যাপিটালিজমের সীমাহীন প্রতিযোগিতার প্রতিনিধিত্ব করে এবং আমাদের শো-তে মুখোশধারী গার্ডদের বিভিন্ন শ্রেণি দেখানোর জন্যও এটি ব্যবহার করা হয়।’

তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি যে এই সাধারণ ও মৌলিক জ্যামিতিক নকশাগুলো এবং কীভাবে সেগুলো আমাদের শো (স্কুইড গেম) এবং এখনকার সমাজে আমরা যেসব সমস্যার মুখোমুখি হই, তার প্রতীকী হয়ে উঠেছে।’

স্কুইড গেম সিরিজে মুখোশধারী গার্ডদের মুখাবয়বে বিভিন্ন জ্যামিতিক নকশা রয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

হোয়াং আরও বলেন, ‘শুরুতে যখন আমি প্রথম এই নকশাগুলোর কথা ভেবেছিলাম, তখন মনে হয়েছিল এটা আমার একটা অদ্ভুত আবিষ্কার, তাই আমি এটার প্রতি বেশ আগ্রহী হই এবং সেসবই আমার মনে আসে।’

প্রসঙ্গত, ওয়েব সিরিজটির শেষ কিস্তি দেখার অপেক্ষা ফুরাতে চলেছে শিগগিরই। আগামী ২৭ জুন নেটফ্লিক্সে উন্মুক্ত হচ্ছে এটি।

তৃতীয় কিস্তির অফিশিয়াল সারসংক্ষেপে বলা হয়েছে: ‘একটি ব্যর্থ বিদ্রোহ, এক বন্ধুর মৃত্যু এবং একটি গোপন বিশ্বাসঘাতকতা। সিজন ২-এর রক্তাক্ত পরিণতির পরের অভিজ্ঞতা থেকে শুরু, নেটফ্লিক্সের সবচেয়ে জনপ্রিয় সিরিজের তৃতীয় ও শেষ কিস্তিতে খোঁজ মিলবে গি-হুনের, ওরফে প্লেয়ার ৪৫৬, যদিও এটি তার সর্বনিম্ন পয়েন্ট।’

সূত্র: দ্য মিরর