ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী তানজিন তিশার শারীরিক অবস্থা এখন অনেকটাই ভালো। বৃহস্পতিবার (১৬ নভেম্বর) দুপুরের পরই হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরেছেন। তারপর ফেসবুকে দীর্ঘ এক পোস্টে তিনি ‘আত্মহত্যার চেষ্টা’কে ‘ভুল সংবাদ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাতেও অবশ্য অভিনেত্রীকে নিয়ে ধোঁয়াশা কাটছিল না, যে কারণে আবারও লাইভে এসে ভক্তদের উদ্দেশ্যে কথা বলেন। যেখানে তাঁর কথায় আত্মহত্যার গুজব ছড়িয়ে পড়া ও ফারহানের সঙ্গে প্রেমের প্রসঙ্গটিও উঠে এসেছে।
গতকাল রাতে ফেসবুক লাইভে প্রেমের গুঞ্জন নিয়ে তিশা বলেন, ‘অনেকেই জিজ্ঞাসা করেছেন স্ট্যাটাসের শেষে কেন আমি মুশফিক আর ফারহানের নামটি নিয়েছি? কারণ, আপনারা সবাই মুশফিক আর ফারহানের সঙ্গে আমাকে জড়িয়ে কথা বলছিলেন; এ কারণেই আসলে তার নামটি সেখানে নেওয়া।’
মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া দীর্ঘ স্ট্যাটাসটি খোলাসা করতেই লাইভে এসেছেন তিশা। আত্মহত্যার গুজব প্রসঙ্গে তিশা বলেন, ‘আমি শারীরিকভাবে সত্যিই খুব সিক (অসুস্থ) ছিলাম। সঙ্গে ফুড পয়জনিং ও গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা হচ্ছিল। এছাড়াও অনেক ঝামেলায় ছিলাম। আমার ফেসবুক হ্যাকড হয়েছিল। সব কিছু মিলিয়ে একটু স্ট্রেসে (চাপ) ছিলাম। হ্যাঁ, আই ওয়াজ আপসেট মেন্টালি ফর মাই পার্সোনাল থিংস। তারপর রাতে যেটা হয় সাধারণত কিছু মেডিসিন নিই। সঙ্গে স্লিপিং পিল নিতে হয়। ঘুমাবো বলে এদিন রাতে স্লিপিং পিলটা একটু বেশি নিয়েছিলাম। আসলে খেয়াল করিনি স্লিপিং পিলের এম.জি. একটু বেশি ছিল। আমাকে যেটা প্রেসক্রাইভ করা হয়েছিল সেটা এই মিডিসিন না। তো কিছুক্ষণ পর খারাপ লাগা থেকে বাসায় বমি করতে শুরু করে দিই। তারপর জরুরি ভিত্তিতে আমাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তখন আমার কোনো সেন্স (চেতনা) ছিল না। সরকারি একটা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর ওনারা মনে করেছে হয়তো এটা সুইসাইড কেইস, তারপর পান্থপথের একটা বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সাধারণত এ ধরনের ঘটনায় ওয়াশ করা হয়, কিন্তু ডাক্তার বলেছিলেন চাইলে আমার পরিবার সেটা না করে এভাবেই আমাকে ভর্তি রাখতে পারেন আমার পরিবার। কিন্তু আমার পরিবার সিদ্ধান্ত নেয় যে তাঁরা কোনো রিস্ক নেবে না, তাই ওয়াশ করাবে। তখন আমাকে ওয়াশ করানো হয়। সকালে ঘুম থেকে ওঠে দেখি আমি হাসপাতালে ভর্তি। এবং ঘুম থেকে ওঠে দেখতে পাই আমাকে নিয়ে নিউজ হয়েছে, তানজিন তিশা আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন!’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার বাবা মারা যান দুই বছরও হয়নি। তারপর থেকে আমি খুব স্ট্রংভাবে লাইফ লিড করছি। এবং আমার বাবা আমাকে একটা স্ট্রং মেয়ে বানিয়ে পৃথিবী থেকে চলে গেছেন। তো এই জায়গা থেকে আমার মনে হয়, আমি আমার জীবনের সব কিছুতেই ফাইট (লড়াই) করতে পারব। বাবা চলে যাওয়ার পর আমার মনে হয়েছে যে, ‘বাবা চলে গেছেন, এখন জীবনে আর এমন কিছু নেই যেটার জন্য এর চেয়ে বেশি কষ্ট আমি পাব। কিংবা যেটার জন্য আমাকে সুইসাইড করতে হবে!’
শেষে তিনি বললেন, ‘আমার মনে হয় পুরো স্ট্যাটাসটি আমি মুখে ক্লিয়ার করেছি। ব্যাপারটা এতো ইজি (সহজ) না। আত্মহত্যা এতো ইজি না। আমরা সবাই মানুষ, দুঃখ-কষ্ট থাকবে। আমার বাবা চলে গেছেন দুই বছর হয়ে গেছে, সেই রেশ থেকেই তো উঠতে পারিনি। এছাড়া আমি এমন একজন মানুষ যে অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে পছন্দ করি। যদি কোনো দিন দেখি আমার সঙ্গে অন্যায় হয়েছে, তবে সেটার জন্য যা প্রতিবাদ করার আমি করব, কিন্তু আত্মহত্যা কখনও করব না। এটা অনেক বাজে একটা বিষয়।’
প্রসঙ্গত, তানজিন তিশার অসুস্থতা নিয়ে নানা কথা চাউর হয়েছিল। নাট্যাঙ্গনে গুঞ্জন, অভিনেতা মুশফিক আর ফারহানের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে আছেন তিশা। ক’দিন ধরে তাঁদের মধ্যে ঝামেলা চলছিল। বুধবার রাতে তিশা রাজারবাগের বাসা থেকে ফারহানের উত্তরার বাসায় যান। সেখান থেকে ফিরে ঘুমের ওষুধ সেবন করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন!