‘ইশরাত নিশাত নাট্য পুরস্কার’ পেতে পারেন যাঁরা

প্রয়াত নাট্যজন ইশরাত নিশাতের অবদানের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁর নামে ২০২১ সালে প্রবর্তিত হয় মর্যাদাপূর্ণ নাট্য পুরস্কার। থিয়েটারের মোট ৮টি শাখায় গত বছর ‘ইশরাত নিশাত নাট্য পুরস্কার’ প্রদান শুরু হয়। তবে এ বছর ৩৩টি নাটক থেকে মূল্যায়ন করে মোট ৯টি বিভাগে পুরস্কারটি ঘোষণা হবে। শনিবার (৩ ফেব্রুয়ারি) এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছে ইশরাত নিশাত নাট্য পুরস্কার বাস্তবায়ন কমিটি। বিস্তারিত তুলে ধরে তাঁরা জানান, নাট্যকর্মীদের আকাঙ্ক্ষার পরিপ্রেক্ষিতে এ বছর যুক্ত হওয়া ক্যাটাগরিটি হচ্ছে শ্রেষ্ঠ পোশাক পরিকল্পক।

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত ওই সংবাদ সম্মেলনে মনোনয়নপ্রাপ্তদের নাম ঘোষণা করা হয়। জানা যায়, আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হচ্ছে পুরস্কার বিতরণী।

শ্রেষ্ঠ প্রযোজনার মনোনয়ন পেয়েছে প্রাচ্যনাটের ‘অচলায়তন’, তাড়ুয়ার ‘আদম সুরত’, আরশিনগরের ‘সিদ্ধার্থ’ নামের তিনটি নাটক। শ্রেষ্ঠ নির্দেশক ক্যাটাগরিতে রয়েছেন প্রাচ্যনাটের আজাদ আবুল কালাম (অচলায়তন), তাড়ুয়ার বাকার বকুল (আদম সুরত) ও আরশিনগরের রেজা আরিফ (সিদ্ধার্থ)। শ্রেষ্ঠ নাট্যকার হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন বাকার বকুল (আদম সুরত), মুক্তনীল (ভগবান পালিয়ে গেছে) ও শাহাদুজ্জামান (নাজুক মানুষের সংলাপ)।

শ্রেষ্ঠ অভিনেতা (পুরুষ) বিভাগে রয়েছেন ‘আদম সুরত’ নাটকের খায়রুল আলম হিমু, ‘অচলায়তন’ নাটকের প্রদ্যুৎ কুমার ঘোষ ও ‘দ্যা রেস্পেকটফুল প্রস্টিটিউট’ নাটকের রমিজ রাজু। শ্রেষ্ঠ অভিনেতা (নারী) বিভাগে পুরস্কার পাওয়ার সম্ভাব্য তালিকায় আছেন ফৌজিয়া করিম অনু (হার্মাসিস ক্লিওপেট্রা), সঞ্জিতা শারমীন (দ্যা রেস্পেকটফুল প্রস্টিটিউট) ও সানজিদা প্রীতি (অচলায়তন)। 

২০২৩ সালে ইশরাত নিশাত নাট্য পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান। ছবি: সংগৃহীত

শ্রেষ্ঠ মঞ্চ পরিকল্পক হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন আহম্মেদ অপু (আদম সুরত), চারু পিন্টু (ভগবান পালিয়ে গেছে) ও মো. সাইফুল ইসলাম (অচলায়তন)। শ্রেষ্ঠ আলোক পরিকল্পক ক্যাটাগরিতে পুরস্কার পেতে পারেন অনিক কুমার (সিদ্ধার্থ), মো. সাইফুল ইসলাম (অচলায়তন) ও হেনরি সেন (আদম সুরত)। শ্রেষ্ঠ সংগীত পরিকল্পক তালিকায় জায়গা করে ‍নিয়েছেন জনি সেন রুবেল (ভগবান পালিয়ে গেছে), নীল কামরুল (অচলায়তন) ও সমুদ্র প্রবাল (আদম সুরত)। 

নতুন বিভাগ শ্রেষ্ঠ পোশাক পরিকল্পক ক্যাটাগরিতে মনোনয়ন পেয়েছেন আফসান আনোয়ার (অচলায়তন), এনাম তারা সাকি (আদম সুরত) ও যৌথভাবে জিনাত জাহান নিশা ও নুসরাত জাহান জিসা (সিদ্ধার্থ)।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে থিয়েটারের নাট্যকর্মীদের প্রাপ্তি বা মূল্যায়নে এ রকম পুরস্কার প্রদান এটাই প্রথম। এ যাবৎকাল মঞ্চ নাটকে অবদানের জন্য পদক দেওয়া হলেও সামগ্রিকভাবে কোনো পুরস্কারের প্রচলন ছিল না। এ বিষয়কে বিবেচনায় রেখেই দেশের বরেণ্য নাট্যব্যক্তিত্ব ও গুণীজনদের সম্পৃক্ত করে একটি বাস্তবায়ন কমিটি এই কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। চেয়ারপারসন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন নাট্যব্যক্তিত্ব ও বীর মুক্তিযোদ্ধা নাসির উদ্দিন ইউসুফ। কো-চেয়ারপারসন হিসেবে রয়েছেন অভিনেত্রী সারা যাকের।