সদ্য প্রয়াত জল্লাদ শাহজাহান ভূঁইয়ার মৃত্যুতে শোকাচ্ছন্ন ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা ফারুক আহমেদ। তাঁর সঙ্গে কাটানো মুহূর্ত নিয়ে করলেন স্মৃতিচারণ।
সবশেষ বই মেলায় প্রকাশিত হয়েছিল জল্লাদ শাহজাহানের আত্মজীবনীমূলক বই ‘কেমন ছিলো জল্লাদ জীবন’। একই প্রকাশনী থেকে প্রকাশ পেয়েছিল ফারুক আহমেদের বই ‘স্মৃতিতে হুমায়ূন আহমেদ’। এই সূত্রে বই মেলাতেই পরিচয় হয়েছিল দুজনের।
সামাজিক মাধ্যমে জল্লাদের সঙ্গে তোলা কয়েকটি স্থিরচিত্র প্রকাশ করে অভিনেতা লিখেছেন, ‘‘জল্লাদ শাহজাহান ভূঁইয়া। এ বছর বই মেলায় কিংবদন্তী পাবলিকেশনস থেকে তার লেখা একটা বই প্রকাশ হয়েছিল। বইটির নাম ‘কেমন ছিলো জল্লাদ জীবন’। মেলার কিংবদন্তী প্রকাশনীতে আমার লেখাও একটি বই ছিল। বই মেলার প্রায় ১৫ দিন আমি কিংবদন্তী স্টলে বসেছি। জল্লাদ শাজাহানের সাথে আমার কিংবদন্তীর স্টলেই পরিচয়। তার দীর্ঘ জেল জীবন, জল্লাদ হওয়ার গল্প, ফাঁসি দেওয়ার সময় তার মনের অবস্থা, ফাঁসির সময় আসামির ক্রিয়া—এসব বিষয় তার কাছে জানতে চেয়েছি। সে খোলামেলা ভাবে আমার কথার উত্তর দিয়েছে।’’
আলাপচারিতার স্মৃতি হাতড়ে ফারুক আহমেদ লেখেন, ‘একদিন আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, মুক্ত জীবন কেমন লাগছে? সে মাথা নিচু করে বলল, ভালো না। আমার কেউ নাই। কিচ্ছু নাই। ভালো লাগে না। আমি বোকার মত তার দিকে তাকিয়ে রইলাম। আহারে জীবন! জীবনের ৪০ বছরেরও বেশি সময় জেলের চার দেয়ালের ভিতর কাটিয়ে মুক্ত জীবন পেয়েও বলে ভালো লাগে না! আমি তাকে আবার জিজ্ঞেস করলাম, কী করলে আপনার ভালো লাগবে? সে সাথে সাথে উত্তর দিল, মরে গেলে। জল্লাদ শাজাহান আজ দুপুরে মরে গেছে। তার চাওয়া পূরণ হয়েছে। ওপারে ভালো থাকবেন জল্লাদ শাজাহান।’
প্রসঙ্গত, আজ ২৪ জুন চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেছেন জল্লাদ শাহজাহান ভূঁইয়া। দীর্ঘ দিন জেল জীবন কাটিয়েছেন তিনি। এ সময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ৬ আসামিসহ ৬০ জনের ফাঁসি কার্যকর করেছেন।