এসএসসিতে ফেল, খবর শুনেই স্ট্রোক করেন পলাশের মা

অভিনেতা জিয়াউল হক পলাশ এখন দর্শকদের কাছে পরিচিত এক মুখ। ভিন্নধর্মী অভিনয় আর কমেডির মাধ্যমে অল্প সময়েই জায়গা করে নিয়েছেন দর্শকের হৃদয়ে। তবে পর্দার হাসির আড়ালে লুকিয়ে আছে তার দীর্ঘ সংগ্রামের গল্প।

সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে জীবনের কঠিন সময়ের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এই অভিনেতা। সেখানে তিনি মায়ের কথা বলতে গিয়ে জানান, ‘আমার এই নিউজটা শুনে আমার আম্মা তখন ব্রেইন স্ট্রোক করছিলেন এবং প্রায় ৫ বছর প্যারালাইজড ছিলেন।

আম্মার বাম হাত, বাম পা এবং জিহ্বা প্যারালাইজড ছিল। কথা বলতে পারতেন না। আম্মার সাথে লিখে লিখে আমার কথা বলতে হতো।’

পলাশ জানান, শিক্ষাজীবনের শুরুটা ছিল দারুণ সফল। প্রায় তিন হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে মেধাতালিকায় তৃতীয় হয়ে ভর্তি হয়েছিলেন গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি হাই স্কুলে। সেই সাফল্যে তার মা ছিলেন ভীষণ আনন্দিত। কিন্তু ২০০৯ সালে এসএসসি পরীক্ষায় ফেল করার পর পুরো পরিবারে নেমে আসে কঠিন সময়। ছেলের ফলের ধাক্কা সামলাতে না পেরে তার মা স্ট্রোকে আক্রান্ত হন।

পলাশের পরিবারের কেউ আগে কখনও বিনোদন অঙ্গনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। বাবা মুজিবুল হকের স্বপ্ন ছিল ছেলে প্রকৌশলী হবে। সেই লক্ষ্য নিয়েই তাকে ভর্তি করানো হয়েছিল ঢাকার গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি স্কুলে। কিন্তু ছোটবেলা থেকেই পলাশের আগ্রহ ছিল অভিনয় ও বিনোদন জগতকে ঘিরে।

নিজের সংগ্রামের দিনগুলোর কথা বলতে গিয়ে পলাশ বলেন, ‘আমি যখন ফিল্মমেকার হওয়ার স্বপ্ন দেখি, বাবা তখন বেশ শঙ্কায় ছিলেন। অনিশ্চিত ভবিষ্যতের কথা ভেবে বাবা রেগে যেতেন। ঘর ছেড়ে যখন ছবিয়ালে কাজ শুরু করি, প্রতি শুক্রবার লুকিয়ে বাসায় আসতাম। মা তখন চুপিচুপি আমাকে কিছু টাকা হাতে ধরিয়ে দিতেন।’

মায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে এই অভিনেতা আরও বলেন, ‘আমার মা মাধ্যমিকের গণ্ডিও পার হতে পারেননি। অথচ তিনি আমাদের দুই ভাই-বোনের পাশাপাশি চার মামা ও খালাকেও নিজেদের বাসায় রেখে মানুষের মতো মানুষ করেছেন। আজ যখন দেখি সেই মা আর আড়ালে নেই, সবার সামনে সগৌরবে দাঁড়িয়ে আছেন তখনই একজন সন্তান হিসেবে নিজেকে সার্থক মনে হয়।’