বিধানসভা ভোটের লড়াইয়ে যেসব তারকা

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে এখন নির্বাচনী ঝড়! আজ প্রথম দফায় বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ভোটের লড়াইয়ে রয়েছেন একঝাঁক শোবিজ তারকা। তৃণমূল কংগ্রেস, বিজেপি ও বামজোট—প্রায় সব রাজনৈতিক দলই একাধিক তারকা প্রার্থী দিয়েছে।   

ক্ষমতাসীন দল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী তালিকায় এবার বিনোদন দুনিয়ার দাপট বেশি। সোনারপুর কেন্দ্রে প্রার্থী হয়েছেন অভিনেত্রী লাভলী মৈত্র, বরানগরে সায়ন্তিকা ব্যানার্জি, মানিকতলায় শ্রেয়া পান্ডে এবং করিমপুরে জনপ্রিয় অভিনেতা সোহম চক্রবর্তী। ব্যারাকপুর থেকে তৃণমূলের হয়ে ভাগ্য পরীক্ষায় নেমেছেন নির্মাতা রাজ চক্রবর্তী। অন্যদিকে, রাজারহাট-গোপালপুর কেন্দ্রে রয়েছেন সংগীতশিল্পী অদিতি মুন্সি এবং চন্দননগরে ইন্দ্রনীল সেন।

বিধানসভা ভোটের প্রচারে সায়ন্তিকা। ছবি: ফেসবুক থেকে নেওয়া

তারকা প্রার্থী দেওয়ায় পিছিয়ে নেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিজেপিও। গেরুয়া শিবির থেকে শিবপুরে লড়ছেন রুদ্রনীল ঘোষ, শ্যামপুরে হিরণ চট্টোপাধ্যায় এবং যাদবপুরে অভিনেত্রী শর্বরী মুখোপাধ্যায়। একসময়ের জনপ্রিয় অভিনেত্রী রূপা গাঙ্গুলি লড়ছেন সোনারপুর দক্ষিণ থেকে। এ ছাড়া হরিণঘাটায় রয়েছেন সংগীতশিল্পী অসীম সরকার। 

অন্যদিকে, বামজোট এই তারকানির্ভর সংস্কৃতিতে কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও কৌশলী প্রার্থী নির্বাচনে নজর কেড়েছে। হরিরামপুরে তাদের প্রার্থী হয়েছেন কীর্তনশিল্পী গৌতম গোস্বামী। তিনি মূলত সিপিআইএম’র রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।

বর্তমানে ভোটের মাঠ দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন এসব তারকা প্রার্থীরা। তবে রাজনৈতিক মহলে তাঁদের প্রার্থী হওয়া নিয়ে সমালোচনাও রয়েছে! বহরমপুরের কংগ্রেস প্রার্থী এবং সাবেক কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অধীর রঞ্জন চৌধুরী ভারতীয় গণমাধ্যমে বলেন, ‘আমার মনে হয়, তারা যে পেশায় ছিলেন সেই পেশায় রোজগার কমে গেছে, তাই বিকল্প পেশা হিসেবে রাজনীতিকে বেছে নিয়েছেন। জানি না তারা কেন প্রথমে আসেননি! কিন্তু রাজনীতিও একটা খেলার ময়দান। সেই খেলায় যদি অন্য জগতের খেলোয়াড়রাও আসে, তবে খেলা আরও জমে উঠবে।’     

বিধানসভা নির্বাচন উপলক্ষে এক সমাবেশে রাজ। ছবি: ফেসবুক থেকে নেওয়া

এদিকে, ভিন্নমত পোষণ করে ব্যারাকপুরের তৃণমূল প্রার্থী রাজ চক্রবর্তী বলেন, ‘মানুষ কাজের নিরিখেই ভোট দেয়। কাজের নিরিখে মানুষ এখানকার সরকার নির্ধারণ করবে। প্রার্থীদের যে পেশা থেকেই নিয়ে আসা হোক না কেন, বাংলার মানুষ ঠিক করে ফেলেছেন তারা তৃণমূলকে ভোট দেবেন, তৃণমূলের সরকার হবে এবং চতুর্থবারের জন্য মমতা ব্যানার্জিকে মুখ্যমন্ত্রী করবেন।’  

এ বিষয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ভাষ্য, নির্বাচনী প্রচারণায় তারকাদের সঙ্গে হাত মেলানো, ছবি তোলা, সেলফি তোলা—কোনো কিছুই অপূর্ণ থাকে না ভোটারদের। আর সেখানেই হয়তো প্রাথমিক জয়টা পেয়ে যান তারকা প্রার্থীরা। সেদিকে লক্ষ্য রেখেই বিভিন্ন পেশার তারকাদের নিজদের দলের প্রার্থী করে চলেছে রাজনৈতিক দলগুলো।