কপ–২৮ সম্মেলন

নেতাদের সামনে গিয়ে ছোট্ট মেয়েটি বলল, ‘আমাদের ভবিষ্যৎ ধ্বংস করো না’ 

সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে চলছে জাতিসংঘের জলবায়ুবিষয়ক সম্মেলন কপ-২৮। সম্মেলন প্রায় শেষের দিকে। আজ মঙ্গলবার আলোচনা চলছে জীবাশ্ম জ্বালানি নিয়ে। আলোচনার মধ্যেই টেবিলের সামনে গিয়ে দাঁড়ায় একটি ১২ বছর বয়সী বালিকা। হাতে প্ল্যাকার্ড, তাতে লেখা, ‘জীবাশ্ম জ্বালানি বন্ধ করো। আমাদের পৃথিবীটা রক্ষা করো, আমাদের ভবিষ্যৎ ধ্বংস করো না।’

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, ১২ বছর বয়সী মেয়েটি ভারতের মণিপুরের। সে একজন জলবায়ুকর্মী। সেখানে যাওয়ার পর কিছু কথা বলারও সুযোগ পায় সে। জীবাশ্ম জ্বালানির বিরুদ্ধে প্রতিবাদী বার্তা দেওয়ার পর সবাই তাকে বাহবা দিলেও দ্রুত সেখান থেকে সরিয়ে নেয় কর্তৃপক্ষ।

কপ–২৮ এর মহাসচিব অ্যাম্বাসেডর মাজিদ আল সোয়াইদি ভারতীয় জলবায়ুকর্মী লিচাইপ্রিয়া কানগুজামের এই প্রতিবাদের প্রশংসা করেন। তবে এজন্য বেশ ঝামেলায় পড়তে হয় তাকে।

এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বেশ কয়েকটি পোস্ট করে লিচাইপ্রিয়া কানগুজাম। তাতে সে দাবি করে, ‘এভাবে প্রতিবাদের পর আমাকে ৩০ মিনিট আটকে রাখা হয়। আমার একমাত্র অপরাধ, আমি জীবাশ্ম জ্বালানি নিয়ে কথা বলেছি। অথচ এই সম্মেলনে তো তা নিয়েই কথা বলা হচ্ছে। পরে আমাকে সম্মেলন থেকে বের করে দেওয়া হয়।’

এবারের সম্মেলনে বিশ্বের ১৯৮ দেশ ও অঞ্চলের ৭০ হাজারের বেশি প্রতিনিধি, বিশেষজ্ঞ, সাংবাদিক ও অধিকারকর্মী যোগ দিয়েছেন। ১৯৯২ সালে শুরু হওয়ার পর কপের আর কোনো সম্মেলনে এতো বেশি মানুষ অংশ নেয়নি। গত ৩০ নভেম্বর শুরু হওয়া এই সম্মেলনের শেষদিন আজ মঙ্গলবার।  

২০২২ সাল ছিল দাবদাহ, খরা, অতিবৃষ্টি বা বন্যা, ঝড় ও ভূমিকম্পসহ নানা দুর্যোগে ভরা একটি বছর। এসব দুর্যোগ নিছক প্রাকৃতিক নয়। এর পেছনে যে মানুষের কর্মকাণ্ডের বড় ভূমিকা আছে, তা নিয়ে এখন আর কোনো বিতর্ক নেই। এসব দুর্যোগ পরিবেশ-প্রকৃতির পাশাপাশি বিশ্ব অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

এমন পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেল ও গ্যাসসমৃদ্ধ সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) আয়োজিত জলবায়ু সম্মেলন বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কিন্তু জীবাশ্ম জ্বালানি নিয়ে এবারও কোনো সমাধান আসবে না বলেই মনে হচ্ছে। 

১০০টির বেশি দেশ এরই মধ্যে জীবাশ্ম জ্বালানি কমানোকে সমর্থন করেছে। জীবাশ্ম জ্বালানি নির্গমনকে শূন্যের কোঠায় আনতে এবং জলবায়ুর দ্রুত পরিবর্তনের প্রভাবগুলোকে সীমিত করা প্রয়োজন বলে দাবি করেছেন তারা।

গুতেরেস গত শুক্রবার কপ–২৮ এর প্রতিনিধিদের বলেন, ‘এটি পরিষ্কার যে, ১ দশমিক ৫ সেলসিয়াস তাপমাত্রার সীমা তখনই সম্ভব যদি আমরা শেষ পর্যন্ত সমস্ত জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানো বন্ধ করি। এটি না কমালে, তাপমাত্রাও কমবে না। একটি স্পষ্ট সময়সীমা বের করে আনুন।’