মাছে মিলছে মাইক্রোপ্লাস্টিক, বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি

মাছের শরীরে মিলছে মাইক্রোপ্লাস্টিক। ময়মনসিংহের পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদ, চলন বিল ও আড়িয়াল খাঁ বিল ও পুকুরসহ বেশ কয়েকটি স্থান থেকে সংগ্রহ করা মাছের অন্ত্র ও মাংসপেশিতে মিলেছে ক্ষুদ্র এসব প্লাস্টিক কণা। এতে দীর্ঘমেয়াদে মানবস্বাস্থ্য ও জলজ জীববৈচিত্র্যে বড় ধরনের প্রভাবের আশঙ্কা গবেষক ও পরিবেশবিদদের। 

জানা গেছে, প্রতিদিনই মানুষের খাবারের তালিকায় থাকছে মাছ। কিন্তু সেই মাছের শরীরেই মিলেছে ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা। ময়মনসিংহের পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদ, চলন বিল ও আড়িয়াল খাঁ বিল এমনকি পুকুর থেকে সংগ্রহ করা মাছেও পাওয়া গেছে প্লাস্টিক। গবেষণাটি করেছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ বিভাগ। পরীক্ষায় মাছের অন্ত্র ও মাংসপেশিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়ার কথা জানান গবেষকরা।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) গবেষক দলের প্রধান মো. শাহজাহান বলেন, ‘কই মাছ, পুঁটি, ট্যাংরা, বাটা মাছ এগুলোতে আমরা মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি দেখতে পেয়েছি। তবে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মাইক্রপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পেয়েছি আমরা লইটকা এবং ছুরি শুটকিতে।’

গবেষকরা বলছেন, তাৎক্ষণিকভাবে শরীরে জমতে থাকা এসব ক্ষুদ্র কণার প্রভাব বোঝা যেতে নাও পারে। তবে দীর্ঘ সময় পর এর ক্ষতিকর প্রভাব পড়বে। 

গবেষণা দলের সদস্য বিপাশা সাহা পড়শী বলেন, ‘প্রাকৃতিকভাবে মাইক্রোপ্লাস্টিক উৎপন্ন হয় না। মাইক্রপ্লাস্টিক আসে আমাদের ব্যবহার করা বিভিন্ন জিনিস থেকে।’

গবেষণা দলের আরেক সদস্য মোখলেছুর রহমান বলেন, ‘পলিথিনে মাছের ডায়ালাইসিস সিস্টেম সমস্যা হয়। ফলে সে  ফিসিস ত্যাগ করতে পারে না। এক সময় তার ডায়ালাইসিস সমস্যার কারণে সে মারা যায়।’

নদী, খাল-বিল কিংবা জলাশয়ে ফেলা প্লাস্টিক সূর্যের আলো, পানির স্রোত ও নানা প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ায় ভেঙে পরিণত হয় ক্ষুদ্র কণায়। যা পরে সহজেই ঢুকে পড়ে জলজ প্রাণীর শরীরে। তবে শুধু মাছ কিংবা মানুষ নয়, প্লাস্টিক দূষণের কারণে হুমকিতে পড়ছে নদ, নদী-খাল, বিলের নানা জলজ প্রাণ। 

বাকৃবি পরিবেশ বিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের মুরাদ আহম্মেদ ফারুখ বলেন, ‘মাইক্রোপ্লাস্টিকগুলো দীর্ঘদিন থাকার ফলে অনেক সময় মাইক্রোবিডসে বা ছোট ছোট প্লাস্টিকের পুথির মতো আকার থেকে যাচ্ছে, যেগুলো আসলে ১০০ ডিগ্রি বেশি তাপমাত্রাতেও গলছে না। মাইক্রোপ্লাস্টিকগুলো বডিতে ডিপোজিশন হতে হতে নানাবিধ ক্ষতিকর প্রাণ সংঘাতের সৃষ্টি করছে মাইক্রোপ্লাস্টিক।’

ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষায়, ব্যবহার কমানোর পাশাপাশি যেখানে সেখানে প্লাস্টিক ফেলা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপের আহ্বান পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের।