আজ বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস। প্রতি বছর ৭ এপ্রিল পালিত হয় বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস। প্রতি বছর দিবসটি পালনের জন্য একটি প্রতিপাদ্য বিষয় থাকে। এবারের প্রতিপাদ্য হল ‘আমার স্বাস্থ্য আমার অধিকার’। এই প্রতিপাদ্যের মাধ্যমে স্বাস্থ্য যে মানবাধিকার, এ সত্যকে জোরালোভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস নিয়ে এমন এক সময়ে কথা বলতে হচ্ছে, যখন বিশ্ব জুড়ে লাখ লাখ মানুষের স্বাস্থ্য অধিকার রয়েছে হুমকির মুখে। দ্বন্দ্ব-সংঘাত, হানাহানি জীবনকে ধ্বংসের মুখে এনে দাঁড় করিয়েছে। এতে নানা রোগ মানুষের মৃত্যু আর পঙ্গুত্বের বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জীবাশ্ম জ্বালানি কারণে জলবায়ু সংকট হচ্ছে তীব্র থেকে তীব্রতর। বিশুদ্ধ বাতাস হয়ে উঠেছে অধরা। ঘরের ভেতর আর বাইরের বায়ু দূষণের জন্য প্রতি ৫ সেকেন্ডে হচ্ছে একজনের মৃত্যু। এমন পরিস্থিতিতে পালিত হচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস।
চিকিৎসা, ওষুধ দিয়ে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। বিশুদ্ধ পানি, নির্মল বাতাস, খাদ্য, বাসস্থান—এই নিয়ামকগুলো নিশ্চিত করা সম্ভব হলেই আমাদের স্বাস্থ্য ভালো থাকবে। সবার স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার জন্য পানীয় জল, বিশুদ্ধ বাতাস, পুষ্টিকর খাবার দরকার। নিরাপদ আশ্রয়, সুন্দর পরিবেশ ও বৈষম্য থেকে মুক্তি—এসবও কিন্তু মানুষের অধিকার।
এই দিবসের কিছু গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হলো:
১. বিশ্বের মোট জনগোষ্ঠীর ৩০ শতাংশ মানুষ মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা পাচ্ছে না।
২. সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে। সে কারণে এমন এক সমাজের প্রয়োজন, যেখানে মানুষ সুস্বাস্থ্য নিয়ে সুখী জীবনযাপন করতে পারে।
৩. স্বাস্থ্যের অধিকার হলো মৌলিক মানবাধিকার। মানুষ অসুস্থ হলে যেন স্বাস্থ্যসেবা পায়, এ ক্ষেত্রে অর্থ যেন চিকিৎসাসেবায় বাধা হয়ে না দাঁড়ায়।
৪. এই বিশ্বের ২০০ কোটি মানুষ অর্থের অভাবে স্বাস্থ্যসেবা নিতে পারছেন না। বিশ্বের সুবিধাবঞ্চিত অঞ্চলে এই বৈষম্য প্রকট হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
৫. সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবার উদ্দেশ্য হলো অর্থনৈতিক নিরাপত্তা দেওয়া এবং স্বাস্থ্যসেবা সবার জন্য উন্মুক্ত করা।
এসব বিষয় কেবল কি স্বপ্ন হয়ে থাকবে? সকলের জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজন উচ্চমানের স্বাস্থ্যসেবা, যা মানুষের সার্বিক চাহিদা এবং মর্যাদাকে অগ্রাধিকার দেবে। যাতে তারা নিজেদের ও পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে পারে। এজন্য প্রয়োজন হবে দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মী। যারা মানুষকে উচ্চ মানের স্বাস্থ্যসেবা দিতে পারবে। এই স্বপ্ন বাস্তবায়ন হলে আমরা বুক ভরে নিতে পারব নির্মল বাতাস।
লেখক: সাবেক অধ্যক্ষ, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
আরও পড়ুন: