আজ বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস। অটিজমে আক্রান্ত মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে জাতিসংঘ ২০০৭ সালের ২ এপ্রিলকে বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। তখন থেকেই প্রতি বছর এই দিবসটি পালিত হয়ে আসছে।
এ বছর বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) পারস্পরিক তাৎপর্যপূর্ণ ইঙ্গিত বহন করছে। যেখানে সমাজের সকল মানুষের সমঅধিকারের কথা বলা হয়েছে। তাই এবার অটিজম নিয়ে ক্ষমতায়নের গল্পগুলো, চ্যালেঞ্জের গল্পগুলো এবং বিজয়ের গল্প গাঁথাকে তুলে আনবার প্রচেষ্টা নেওয়া হয়েছে। যেখানে একজন অটিজম আক্রান্ত মানুষের জীবনে স্বাস্থ্যের পাশাপাশি (এসডিজি ৩), মানসম্মত শিক্ষা (এসডিজি ৪), অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি (এসডিজি ৮), এবং অসমতা হ্রাস (এসডিজি ১০) এর দিকেও লক্ষ্য রাখবার কথা উঠে এসেছে।
প্রশ্ন হল কেন এটা গুরুত্বপূর্ণ?
কারণ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, পৃথিবীতে প্রতি ১০০ জন শিশুর মধ্যে ১ জনের অটিজম আছে। শুধু তাই নয়, বৈশ্বিক চালচিত্রে ১০০ জনের মধ্যে ১জন মানুষ অটিজম স্পেট্রাম ডিসঅর্ডারের মধ্যে পড়ছেন। আমেরিকান একাডেমি অব পেডিয়েট্রিক্স এর বরাত দিয়ে বলা যায়, যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি ৩৬ জনের মধ্যে ১ জন শিশু অটিজম এ আক্রান্ত। আরো ভয়ংকর কথা হল, অটিজমের ব্যাপকতা ২০০০ সালের পর থেকে ১৭৮ শতাংশ বেড়ে গেছে। ছেলেদের আক্রান্তের হার মেয়েদের থেকে চারগুণ বেশি। এদের মধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশ কথা বলতে পারেন না। যুক্তরাষ্ট্রে একজন স্বাভাবিক শিশু থেকে একজন অটিস্টিক শিশুর জন্য ৪.১ থেকে ৬.২ গুন বেশি খরচ ধরে রাখতে হয়।
ক্রমাগত এই হার কিন্তু ঊর্ধ্বমুখী। কাজেই সচেতন হওয়াটা খুবই জরুরি। অটিস্টিক আক্রান্ত শিশুর যত্নে প্রথম এগিয়ে আসে পরিবার। কিন্তু এখনো কি সমাজ এই মানুষগুলোকে এক কাতারে ফেলতে পেরেছে? কিছুদিন আগে উত্তরার মাঠে একজন অটিজম আক্রান্ত তরুণের ভোগান্তির কথা তার মা উচ্চস্বরে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ করেন। কিন্তু আমাদের কতটুকু বোধোদয় ঘটেছে তার জন্য? তাই নিজের চোখে আয়না ধরা প্রয়োজন। এক সময় বলা হতো এমন সন্তান পাপের ফসল। সেইখান থেকে আমরা কতটুকু আসলে এগিয়েছি? মানুষের গড় আয়ু বাড়ছে। কাজেই ধরে নেওয়া যায় অটিজম আক্রান্ত মানুষদের গড় আয়ু কিছুটা হলেও বেড়েছে। যখন বাবা-মা থাকবেন না, তখন এই মানুষগুলোর কি হবে?
বেশকিছু আবাসিক ব্যবস্থাপনার কথা শোনা যায় ইদানীং। যেখানে অটিজমে আক্রান্ত শিশু, কিশোর বা মানুষগুলোকে অর্থের বিনিময়ে রাখা হচ্ছে। এর অধিকাংশের ভেতরের গল্পই ভয়াবহ অমানবিক বললে বা পাশবিক বললে কম বলা হবে। সংবাদ মাধ্যমগুলোর দৃষ্টিপাত সেখানে কাম্য। নিরাময় অযোগ্য এই মানুষগুলোর জীবনের শেষ দিনগুলোর যত্ন কেমন হবে? অটিজম এ আক্রান্ত মানুষের প্যালিয়েটিভ কেয়ারের চাহিদা নিয়ে কোনো আলোচনা হচ্ছে না।
একটা সভ্য সমাজে মমতার ব্যাকরণ সভ্যতার পরিমাপের প্রথম পাঠ। সামান্য একটু যত্ন পেলে এই মানুষগুলো ও মানবিক মর্যাদা নিয়ে বাঁচতে পারে। নিরাময় অযোগ্য অটিস্টিক শিশুদেরকে নিয়ে যতটুকু বা কাজ হচ্ছে, প্রাপ্তবয়স্কদের পুনর্বাসনে সেটুকুও নেই। এই অচলায়তন ভাঙতে আর কত দিন লাগবে? কারণ যে হারে এই প্রবণতা বাড়ছে আগামীতে যদি আপনার বা আমার পরিবারে এমন একটি মানুষ আসেন তখন আমরা কি করব?
লেখক: চিকিৎসক, কাউন্সিলর, সাইকোথেরাপি প্র্যাক্টিশনার, ফিনিক্স ওয়েলনেস সেন্টার, বাংলাদেশ


নিরাময় অযোগ্য রোগে আক্রান্ত শিশুর যত্নে...
শিশুর মানসিক গঠনে প্রয়োজন সঠিক প্যারেন্টিং
প্যারেন্টিং কী? না জেনে সন্তানের ক্ষতি করছেন কি?
