শিশুর ডেন্টাল ইনজুরিতে যা করবেন

শিশুরা একটু চঞ্চল প্রকৃতির হয়ে থাকে। যে কারণে তারা সারাদিন খেলাধুলা ও ছুটোছুটি করে থাকে। কিন্তু একটু অসাবধান হলেই মুখোমুখি হতে হয় ইনজুরির। শিশুদের দাঁতের সমস্যা নিয়ে আমরা প্রায়শই নাজেহাল হয়ে থাকি। দাঁতে ব্যথা, মাড়ি ফুলে যাওয়া বা ক্যাভিটির মতো দৈনন্দিন সমস্যা তো লেগেই থাকে। তবে ডেন্টাল ইনজুরির মত সমস্যা তৈরি হলে, তখন একটু বেশি নজর দেওয়া দরকার।

আঘাত পেয়ে দাঁত পড়ে যাওয়া, দাঁত ভেঙে যাওয়া বা মাড়ির ভেতরে দাঁত ঢুকে যাওয়া ইত্যাদি নানা ডেন্টাল ইনজুরির সমস্যায় ভোগে শিশুরা। জেনে নিন, এই অবস্থায় কী করা উচিত।

কী ধরনের ইনজুরি হতে পারে
১. শিশুর দাঁত দুধের দাঁত (প্রাইমারি টিথ) হলে আঘাতের কারণে সে দাঁত অনেকসময় মাড়ির ভিতরে ঢুকে যায়। আঘাত লাগলে আবার দাঁত পড়েও যেতে পারে। এ ছাড়া ল্যাসারেশন, মানে টিস্যু ইনজুরিও দেখা যায়। 
২. আঘাত লাগার কারণে দাঁতের কিছুটা অংশ ভেঙে যেতে পারে। আবার অনেক ক্ষেত্রে দাঁতের ভিতরের পাল্প বেরিয়ে আসে। বেশি আঘাত লাগলে এর সঙ্গে ব্লিডিং শুরু হয়। 
৩. অনেকসময় আঘাত লাগার পর দাঁত হয়ত ভাঙে না, অল্প ব্যথার ওষুধ খেয়ে ব্যথা কমে যায়। তবে ভাস্কুলার ডিসটার্বেন্স হওয়ার কারণে দাঁত মৃত হয়ে যায়। তাই ২-৩ বছর পর দাঁত লালচে বা কালো হয়ে যায়। দাঁতের রং বদলে যায়।

প্রথমেই কী করণীয়
যেহেতু এই ধরনের আঘাতে দাঁত থেকে রক্ত পড়তে পারে, তাই প্রথমেই রক্ত বন্ধ করার চেষ্টা করতে হবে। আঙুলের ডগা দিয়ে চেপে ধরে রক্ত বন্ধ করতে পারেন। হাতের কাছে বরফ থাকলে, তা দেওয়ার চেষ্টা করুন। এতে রক্ত পড়া বন্ধ হয়ে যাবে। যদি দেখেন যে দাঁত নড়ে গিয়েছে, তাহলে ডাক্তারের পরামর্শ অবশ্যই নেবেন।

চিকিৎসা
১. দুধের দাঁত ও স্থায়ী দাঁতের ক্ষেত্রে চিকিৎসা পদ্ধতি ভিন্ন। দুধের দাঁতের ক্ষেত্রে যদি দাঁত মাড়ির মধ্যে ঢুকে যায়, তাহলে প্রথমে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করুন। অনেক সময় কিছুক্ষণ পরে নিজ থেকেই দাঁত স্টেবল হয়ে যায়। 
২. নরমাল পজ়িশনে আসার পর, অ্যান্টিসেপটিক অয়েন্টমেন্ট লাগাতে পারেন। তবে কোন অয়েন্টমেন্ট লাগাবেন, সেটা অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে কিনবেন। অনেক সময় মেডিকেটেড পেস্ট ব্যবহার করারও পরামর্শ দেওয়া হয়। এতে দাঁত ঠিক হয়ে গেলে পরবর্তীকালে স্থায়ীভাবে দাঁত বের হতে কোনও অসুবিধে হয় না। 
৩. স্থায়ী দাঁত তৈরি হওয়ার ভিত নষ্ট হয়ে গেলে, পরে দাঁত উঠলে তা ডিফর্মেটিভ হতে পারে। অ্যাঙ্কিলোসিস, মানে সেখানে দাঁতের গোড়া স্বাভাবিকভাবে আর দাঁতের টিস্যুর সঙ্গে লেগে থাকে না, ভেতরে ঢুকে যায়। সেক্ষেত্রে টিস্যু ইনজুরি হওয়ায় স্থায়ী দাঁত বের হতে অসুবিধে হতে পারে। এজন্য ডাক্তারের কাছে নিয়মিত চেক-আপের প্রয়োজন।
৪. স্থায়ী দাঁতের ক্ষেত্রে সমস্যা অনুযায়ী চিকিৎসা করানো হয়। যদি দাঁতের ভিতরে পাল্প ইনজুরি হয়, তখন আগে পাল্প ইনজুরির ট্রিটমেন্ট করা হয়, তারপর দাঁত ঠিক করা হয়। এ ছাড়া দাঁতের এনামেলে ক্ষয় হলে আগে দাঁতের ফিলিং করা হয়। 

ইনজুরি পরবর্তী সাবধানতা
১. আপনার শিশুকে হালকাভাবে ব্রাশ করান। 
২. খুব বেশি শক্ত খাবার যেমন মাংসের হাড়, কাঠবাদাম বা পেয়ারা ইত্যাদি না খাওয়াই ভাল। বিশেষ করে সামনের দাঁতের ক্ষেত্রে। 
৩. স্যুপ, একটু নরম ঝাউ ভাত বা খিচুড়িও চলতে পারে। 
৪. আইসক্রিমও খেতে পারে। এতে রক্ত পড়া তাড়াতাড়ি বন্ধ হয়ে যাবে।
৫. যত দ্রুত সম্ভব বিডিএস ডিগ্রিধারী ডেন্টাল ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করুন।

লেখক: ডেন্টাল সার্জন, সিকদার ডেন্টাল কেয়ার, মিরপুর, ঢাকা

আরও পড়ুন: