দাঁত নিয়ে মানুষ সচেতনতা খুব কমই দেখা যায়। দন্তক্ষয় থেকে দাঁতের ব্যথায়ও অবহেলা দেখা যায়। পাড়ার ফার্মেসি থেকে একটা ব্যথার ওষুধ খেয়ে ব্যথা সেরে গেলে সে দাঁতের যে চিকিৎসা প্রয়োজন তা অনেকেই বেমালুম ভুলে যায়। এ অবহেলার কারণে সামান্য দন্তক্ষয় থেকে দাঁতের গোড়ায় সংক্রমণ/ইনফেকশন দেখা দেয়। গবেষণা বলছে- দাঁতে জীবাণুর সংক্রমণ দীর্ঘস্থায়ী হলে তা থেকে দেখা দিতে পারে বিভিন্ন জটিল রোগের সমস্যা।
সংক্রমণের লক্ষণ ও উপসর্গ
দাঁতের সংক্রমণে সবচেয়ে বেশি দেখতে পাওয়া লক্ষণ হল ক্রমাগত দাঁতে ব্যথা। যার ফলে মাড়ির নিচে শিরা উপশিরাগুলি ফুলে যায়। দাঁতের সংক্রমণের সাথে জড়িত অন্যান্য উপসর্গগুলি হল–
১. দাঁতে ঠান্ডা বা গরমের স্পর্শে সংবেদনশীলতা।
২. জ্বরের অনুভূতি।
৩. কিছু খাওয়ার সময় কামড়াতে বা চিবাতে অসুবিধা ও ব্যথার অনুভূতি।
৪. মুখে দুর্গন্ধ সৃষ্টি।
৫. মুখে তিক্ত স্বাদ।
সংক্রমণের কারণ
চিনিযুক্ত খাবার এবং কোমল পানীয় পান, ধূমপান এবং নিয়মিত চেকআপ এবং দাঁত পরিষ্কারের জন্য ডেন্টিস্টের কাছে না যাওয়া সংক্রমণের কারণ। দাঁতের সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়াতে পারে এমন অন্যান্য কারণগুলির মধ্যে রয়েছে ডায়াবেটিস, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল এবং লালা উৎপাদন হ্রাস করে এমন কিছু ওষুধ গ্রহণ করা। অন্যান্য ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে মুখের আঘাত, চিকিৎসা না করা গহ্বর, মাড়ির রোগ এবং ফাটা দাঁত।
কীভাবে এর নির্ণয় ও চিকিৎসা করা হয়?
ওপরের দেওয়া লক্ষণ ও উপসর্গগুলি দেখার পর প্রথমে এবং সর্বপ্রথম কাজ হল দন্ত চিকিৎসকের কাছে যাওয়া। যাতে উনি পর্যবেক্ষণ করে দেখতে পারেন যে দাঁত ও মাড়ির কতটা অংশে পুঁজের সংক্রমণটি ছড়িয়েছে। দন্ত চিকিৎসক কিছু পরীক্ষা করার পরামর্শ দিতে পারেন যা থেকে সংক্রমণটির বৃদ্ধি ও ছড়িয়ে পরার বিষয়ে জানা যাবে।
ব্যাকটেরিয়াকে মেরে ফেলার জন্য চিকিৎসায় অন্তর্ভুক্ত অ্যান্টিবায়োটিকের সঙ্গে কিছু চিকিৎসা পদ্ধতি ব্যবহার করা হয় তা হল–
১. পুঁজ ভর্তি ফোঁড়াগুলি চিড়ে বাদ দেওয়া: পুঁজ ভর্তি ফোঁড়া গঠিত হলে, ব্যথা কমাতে চিকিৎসক ফোঁড়াগুলি থেকে পুঁজ বের করে দেন।
২. রুট ক্যানেল পদ্ধতি: দন্ত চিকিৎসক রুট ক্যানেল পদ্ধতির মাধ্যমে মাড়িতে ছড়িয়ে পরা সংক্রমণ ও জমা হওয়া পুঁজ বের করেন।
৩. প্রভাবিত দাঁতটি উপরে ফেলা: প্রভাবিত দাঁতটিতে রুট ক্যানেল পদ্ধতি যখন কার্যকরী হয় না, তখন শেষ পদক্ষেপ হিসাবে দাঁতটি তুলে ফেলা হয়।
লেখক: ডেন্টাল সার্জন, সিকদার ডেন্টাল কেয়ার, মিরপুর