আক্কেল দাঁত সম্পর্কে আমরা সবাই কমবেশি জানি। তবে এই দাঁতের সঙ্গে আক্কেল বা জ্ঞানবুদ্ধির তেমন কোনো সম্পর্ক নেই। সাধারণ দাঁতের সঙ্গে আবার আক্কেল দাঁতের পার্থক্য আছে। অন্য দাঁতের তুলনায় আক্কেল দাঁত বড় হয়। আক্কেল দাঁতের ব্যথায় মানুষ অনেক বেশি কাবু হয়ে পড়ে।
আমাদের মুখে দাঁতের দুই পাটিতে মোট ৩২টি দাঁত থাকে। ক্ষেত্র বিশেষে এই সংখ্যা কমবেশিও হতে পারে। আক্কেল দাঁত হলো মুখের ভেতরের দাঁতের পাটির শেষ দিকের দাঁতগুলো। ওপরের নিচের শেষ চারটি দাঁতকে বলা হয় আক্কেল দাঁত বলা হয়। এই দাঁতগুলো মাড়ির দাঁত নামেও পরিচিত। একটা নিদিষ্ট বয়সের পর আক্কেল দাঁত পড়ে যায়।
আক্কেল দাঁতের প্রয়োজন কতটুকু, এই বিষয়ে ডেন্টাল সার্জন পূজা সাহা বলেন, ‘সবার কিন্তু আক্কেল দাঁত হয় না। যাঁদের চোয়াল তুলনামূলকভাবে বড়, তাঁরা আক্কেল দাঁত উঠলে টের পান না। আক্কেল দাঁত যদি সমস্যা তৈরি করে, তবে এই দাঁত তুলে ফেলা উচিত। আক্কেল দাঁত তোলার পরই অনেকের মুখ বা মাড়ি ফুলে যায়, ব্যথা হয়। তবে সেটা দীর্ঘস্থায়ী নয়। যদি ব্যথাটা থেকেই যায় বা ফিরে আসে, সেক্ষেত্রে অ্যান্টিসেপটিক মাউথওয়াশ দিয়ে মুখ ধুলেই সমস্যা দূর হবে।’
অনেকের ক্ষেত্রে আক্কেল দাঁত তেমন সমস্যা তৈরি করে না। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে আক্কেল দাঁত এমনভাবে উঠে তাতে মুখে ঘষা লাগে। এতে ব্যথা হতে পারে। এই ব্যথা বেশি হলে আক্কেল দাঁত তুলে ফেলা সমীচীন। আবার আক্কেল দাঁত তির্যক ভাবে বেরোলে, দাঁতের ফাঁকে খাবার আটকে যেতে পারে। এতে আক্কেল দাঁত ও তার পাশের দাঁতে ক্যাভিটি হতে পারে।
দন্ত বিশেষজ্ঞ পূজা সাহা মনে করেন, আক্কেল দাঁত মাড়ির শেষের দিকে থাকে। তাই বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ব্রাশ করার সময় আক্কেল দাঁত পর্যন্ত ব্রাশ পৌঁছায় না। এতে সেসব দাঁতে খাদ্যকণা জমে আবরণ পড়তে পারে। ফলে অনেক সময় ইনফেকশনও দেখা দিতে পারে। আবার এ দাঁতের কারণে মুখের ভেতরে আলসার বা ওই দাঁতসংলগ্ন টিস্যুতে সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। তাই আক্কেলদাঁত ফেলে দেওয়া যেতে পারে।
যা করবেন না
১. এই সময় ভুলেও শক্ত খাবার খাওয়া খাবেন না।
২. পাশাপাশি গরম খাবারও খাবেন না। এতে দাঁতের সমস্যা বাড়তে পারে।
৩. আক্কেল দাঁতের ব্যথায় গরম সেঁক দেওয়া যাবে না।
৪. হালকা গরম পানিতে এক চিমটি লবণ দিয়ে কুলকুচি করবেন।
৫. ব্যথা চলাকালীন শক্ত খাবার না খেয়ে নরম খাবার খাবেন।
৬. দাঁত সবসময় পরিষ্কার– পরিচ্ছন্ন রাখুন। নিয়ম করে ব্রাশ করুন।
৭. এই সময় নিজেকে সুস্থ রাখতে ধূমপান পরিহার করুন।
৮. যদি দেখেন সমস্যা বাড়ছে তবে অবশ্যই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
আরও পড়ুন:


লিভারে চর্বি জমলে কী হয়?
