বিশ্ব স্ট্রোক দিবস

নারীর চেয়ে পুরুষের স্ট্রোকের আশঙ্কা কি বেশি?

স্ট্রোক একটি গুরুতর স্বাস্থ্যগত সমস্যা। আমাদের মস্তিষ্কে অসংখ্য ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র রক্তনালী রয়েছে, মস্তিষ্কের কোষগুলোকে অক্সিজেন সরবরাহ করে বাঁচিয়ে রাখে। কোনো কারণে অক্সিজেন সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলে স্ট্রোকের লক্ষণ প্রকাশ পেতে শুরু করে। এই রোগে আক্রান্ত হলে জ্ঞান সংশয় হতে পারে। আর যদি প্রাণে বেঁচেও যান, তাহলে পিছু নিতে পারে পঙ্গুত্ব। তাই এ বিষয়ে একদম অবহেলা করা চলবে না।

স্ট্রোক বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিবছর সারা বিশ্বে তায় ১ দশমিক ২ কোটি মানুষ স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারান। আর যদি প্রাণে বেঁচেও যান, অনেকেই পঙ্গু হয়ে পড়েন। এই কারণেই ওয়ার্ল্ড স্ট্রোক অর্গানাইজেশন প্রতি বছর ২৯ অক্টোবর বিশ্ব স্ট্রোক দিবস পালন করে।

স্ট্রোকের লক্ষণ

১. মুখের কোনো এক অংশ বাঁকা হয়ে যাওয়া।

২. কথা জড়িয়ে যাওয়া যা অস্পষ্টতা।

৩. শরীরে কোনো এক অংশ অবশ, দুর্বল অথবা অনুভূতিহীন হয়ে যাওয়া।

এছাড়া আরও কিছু লক্ষণ থাকতে পারে। তবে, লক্ষণ প্রকাশ পাওয়া মাত্রই রোগীকে যতদ্রুত সম্ভব হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।

প্রতীকী ছবিটি ফ্রিপিক থেকে নেওয়া হয়েছে

গুরুত্ব ও চিকিৎসা

মনে রাখতে হবে, স্ট্রোকে আক্রান্ত রোগীর ক্ষেত্রে সময় খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার ৩–৪ ঘণ্টা। এই সময়ের মধ্যে যথাযথ চিকিৎসা নিলে স্টোক পরবর্তী বিভিন্ন জটিলতা এড়ানো সম্ভব।

স্ট্রোকের প্রকারভেদ

সাধারণ স্ট্রোককে আমরা চিকিৎসাবিজ্ঞানে দুইভাগে ভাগ করে থাকি।

১. ইস্কেমিক স্ট্রোক: মস্তিষ্কের রক্তনালী সংকীর্ণ বা অবরুদ্ধ হয়ে গেলে এটি ঘটে। এর ফলে রক্ত প্রবাহ মারাত্মকভাবে হ্রাস পায়।

২. হেমোরেজিক স্ট্রোক : মস্তিষ্কের রক্তনালী কোনো কারণে ফেটে গিয়ে রক্তক্ষরণ হলে এ স্ট্রোক হয়।

স্ট্রোকের কারণ কী

১. সাধারণত বয়স্ক মানুষ (৬০ বছরের বেশি) এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তবে যেকোনো বয়সেই স্ট্রোক হতে পারে।

২. অনিয়ন্ত্রিত উচ্চরক্তচাপ

৩. অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস

৪. ধূমপান ও মদ্যপান

৫. অতিরিক্ত ওজন

৬. অলসতা বা অলস জীবনযাপন।

৭. কারো কারো ক্ষেত্রে মা-বারা বা পরিবারের স্ট্রোকের ইতিহাস থাকলে।

৮. নারীদের তুলনায় পুরুষদের স্ট্রোকের সম্ভাবনা বেশি।

স্ট্রোক প্রতিরোধের উপায়

১. উচ্চরক্তচাপ, ডায়াবেটিস, কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।

২. নিয়মিত শরীরচর্চা করতে হবে।

৩. ধূমপান পরিহার করাত হবে।

৪. ভাতের সঙ্গে অতিরিক্ত লবণ খাওয়া পরিহার করতে হবে।

৫. ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।

৬. খাদ্যতালিকায় প্রচুর শাক সবজি, সতেজ খাবার রাখতে হবে।

প্রতিবছর বহু মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করছেন। অনেকে আবার পঙ্গুও হয়ে যাচ্ছেন।  তাই এই রোগ সম্বন্ধে মানুষকে সচেতন করাই এই দিবস পালনের সার্থকতা।

লেখক: শিক্ষানবিস, রেডিওলজি ও ইমেজিং বিভাগ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল