বিশ্ব ক্যান্সার দিবসে অনুষ্ঠিত হলো সচেতনতামূলক সেমিনার

‘ক্যান্সার প্রতিরোধে সচেতনতাই সবচেয়ে বড় হাতিয়ার’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বিশ্ব ক্যান্সার দিবস উপলক্ষে রাজধানীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে একটি বিশেষ স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক সেমিনার। মঙ্গলবার গুলশানের আইপিডিসি ফাইন্যান্সের কর্পোরেট অফিসে যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সামাজিক সংগঠন ‘আমরা নারী’ এবং আইপিডিসি ফাইন্যান্স।

সেমিনারে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা ক্যান্সারের ভয়াবহতা রোধ করতে নিয়মিত স্ক্রিনিং ও প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তকরণের ওপর বিশেষ জোর দেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (ডিজিএইচএস) সহকারী অধ্যাপক ডা. মোঃ খাদেমুল বাশার এবং ইউনিকো হাসপাতালের হেমাটোলজি বিভাগের সহযোগী কনসালট্যান্ট ডা. তানজিনা আফরিন।

ডা. মোঃ খাদেমুল বাশার বলেন, 'ক্যান্সার এখন কেবল একটি রোগ নয়, এটি একটি বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জ। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ক্যান্সারের ঝুঁকি অনেকাংশে কমিয়ে দেয়। সঠিক সময়ে চিকিৎসা শুরু করলে অনেক ক্যান্সারই এখন নিরাময়যোগ্য।"

অন্যদিকে, রক্তরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. তানজিনা আফরিন বলেন, 'লক্ষণ দেখা দিলেই অবহেলা না করে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। দ্রুত শনাক্ত করা গেলে অনেক জটিল ক্যান্সার রোগীর জীবন বাঁচানো সম্ভব হয়।' 

অনুষ্ঠানে ‘আমরা নারী’-এর প্রতিষ্ঠাতা এম এম জাহিদুর রহমান বিপ্লব সংগঠনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য তুলে ধরেন। তিনি জানান, নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষা, অধিকার এবং নিরাপদ খাদ্যের পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য রক্ষায় তার সংগঠন নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, 'খাদ্য, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও মানবাধিকার—এই পাঁচটি স্তম্ভের ওপর ভিত্তি করে আমরা একটি সচেতন ও মানবিক সমাজ গড়তে চাই। পেশাজীবী ও সাধারণ মানুষকে সচেতন করার ধারাবাহিকতায় আমাদের আজকের এই আয়োজন।' 

সেমিনার আয়োজনের লক্ষ্য ছিল মূলত চারটি। প্রথমত, ক্যান্সারের প্রাথমিক লক্ষণ ও প্রতিরোধের উপায় সম্পর্কে ধারণা দেওয়ার মাধ্যমে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। দ্বিতীয়ত, আধুনিক ও উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা সম্পর্কে অংশগ্রহণকারীদের অবহিত করা। পাশাপাশি সময়মতো রোগ নির্ণয় ও সঠিক চিকিৎসা পরামর্শ গ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরা। সর্বোপরি জীবনযাপনের নেতিবাচক দিকগুলো পরিহার করে সুস্থ থাকার পরামর্শ, যেগুলো অনুসরণ করার মাধ্যমে ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমানো সম্ভব। 

আইপিডিসি ফাইন্যান্সের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এই সেমিনারে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভবিষ্যতেও সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধিতে এ ধরনের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।