আগামী দুই মাসে দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। চলতি মাসে করা জরিপে, দেশের প্রায় সব জেলাতেই ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার লার্ভার ঘনত্ব বেশি পেয়েছেন কীটতত্ত্ববিদেরা। ফলে মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে আরও জোরদার কার্যক্রম পরিচালনার তাগিদ তাদের। এদিকে ডেঙ্গুতে মৃত্যু ঝুঁকি কমাতে প্রান্তিক পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে জোর দিচ্ছেন জনস্বাস্থ্যবিদেরা।
গত মাসে দেশে ৩ হাজারের মতো মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে। এতে মারা গেছে অন্তত ১৯ জন। যদিও জুন মাসে বৃষ্টি হয়েছে স্বাভাবিকের চেয়ে কম। তবে জুলাইয়ের শুরুতে বৃষ্টি বেড়েছে। একই সঙ্গে বেড়েছে ডেঙ্গু পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কাও।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, এ বছর ১০ জুলাই পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে প্রায় ৮ হাজার, আর মারা গেছে ২৪ জন। তবে কীটতত্ত্ববিদ বলছেন, বর্ষা মৌসুম দেরিতে শুরু হওয়ায় এবার ডেঙ্গু পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে আগস্ট-সেপ্টেম্বরে। তাই মশার প্রজননস্থল এবং লার্ভা ধ্বংস করার তাগিদ তাদের।
কীটতত্ত্ববিদ ড. কবিরুল বাশার বলেন, ‘আগস্ট-সেপ্টেম্বরে বেশ একটা ঝুঁকি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই এখনই আমাদেরকে প্রস্তুত থাকতে হবে, যাতে ওই সময়ে ডেঙ্গু পরিস্থিতি খারাপ আকার ধারণ না করে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এডিস মশার লার্ভার ঘনত্ব সেটি ঢাকা ছাড়াও বাংলাদেশের জেলা এবং উপজেলা শহরে এই ইনডেস্ক ২০ বা তার বেশি আছে। যখন কোনো একটা জায়গায় এডিস মশার ঘনত্ব বা ইনডেস্ক ২০ বা তার বেশি থাকে, তখন ধরে নেওয়া হয় ওই এলাকায় ডেঙ্গসহ পানিবাহিত রোগ কিংবা চিকনগুনিয়া রোগে আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যা বাড়বে।’
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ বলছেন, ডেঙ্গুতে সংকটাপন্ন রোগীর চিকিৎসার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই প্রান্তিক পর্যায়ে। ফলে বাড়ে মৃতের সংখ্যা। ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের জন্য ইউনিয়ন বা উপজেলা পর্যায়ে চিকিৎসা সেবার মান বাড়ানোর তাগিদ বিশেষজ্ঞের।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ বে-নজীর আহমেদ বলেন, ‘বাংলাদেশের সবগুলো জেলা আক্রান্ত হচ্ছে। এই যে এত জেলা আক্রান্ত হচ্ছে এইটার সমস্যাটা হলো, এই জেলাগুলোতে এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে যথেষ্ট ব্যবস্থা নেই, লোকবলও নেই, কীটতত্ববীদ নেই।’
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, এবার সবেচেয়ে বেশি ডেঙ্গু আক্রান্ত চিহ্নিত হয়েছে বরিশালে। সংখ্যায় তা ২ হাজারের বেশি। এরপরই রয়েছে, চট্টগ্রাম ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকা।