খাবার অনেকবার গরম করে খান? হতে পারে যেসব ক্ষতি

সকালে বানানো খাবার রাতে গরম করে খাওয়ার রেওয়াজ প্রায় সবার বাড়িতেই আছে। আবার এমন অনেকেই আছেন, যারা ফ্রিজে রাখা খাবার পরের দিন বা বেশ কয়েকদিন পরেও গরম করে খান।

কিন্তু এমন কয়েকটি খাবার রয়েছে, যা বার বার গরম করলে শারীরিক সমস্যার কারণ হতে পারে। এতে যেমন ওই খাবারের পুষ্টি কমে যায়, তেমনি বাড়ে নানা ধরনের ক্ষতিকারক রাসায়নিকের পরিমাণ।

আসুন জেনে নিন, কোন কোন খাবার বারবার গরম করে স্বাস্থ্যের ক্ষতি হতে পারে।

চা
এই তালিকায় সবার প্রথমেই আসবে সকলের প্রিয় পানীয় চায়ের নাম। অনেকেই আছেন যারা একবার চা বানিয়ে রেখে বার বার ফুটিয়ে খান। এই অভ্যাস একেবারেই স্বাস্থ্যকর নয়। চায়ের মধ্যে থাকে ট্যানিক অ্যাসিড। যা বার বার গরম করে পান করলে অ্যাসিডের মাত্রা বেড়ে যায় এবং লিভার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই চা খেলে হজমের গোলমাল হওয়ার ঝুঁকিও বেড়ে যায়।

ভাত
বাঙালিদের প্রধান খাদ্য ভাত। সময় ও গ্যাস বাঁচাতে অনেকেই দু’বেলার ভাত একসঙ্গে করে রাখেন। কিন্তু একবার ভাত নামানোর পর ঠাণ্ডা হয়ে গেলে তাতে নানা ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে শুরু করে। সেই ঠান্ডা হওয়া ভাত আবার গরম করা হলে ব্যাকটেরিয়াগুলোর ক্ষতিকারক প্রভাব বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

শাক
বাঙালিদের খাবারে একবেলা ভাজি বা শাক থাকবেই। পুঁইশাক, পালংশাক, লালশাক, ডাঁটাশাক ইত্যাদি ছাড়া গরম ভাত যেন জমেই না। অনেকেই দুপুরের বেঁচে যাওয়া শাক রাতেও খেয়ে থাকেন। অথচ শাকও দ্বিতীয়বার গরম করে খাওয়া উচিত না। এক্ষেত্রে পালংশাকের কথা বলা যায়। এই শাকে ভরপুর মাত্রায় আয়রন থাকে। বারবার গরম করলে এই আয়রন অক্সিডাইজ হয়ে যায়। সেই শাক তখন আর স্বাস্থ্যকর থাকে না।

রান্নার তেল
ভাজাভুজি করার পর অনেকেই অতিরিক্ত তেল বাঁচিয়ে রেখে দেন। হোটেল, রেস্তোরাঁ কিংবা ফুটপাতের খাবারের দোকানগুলোতে এই প্রবণতা বেশি দেখা যায়। তারা একই তেলে বারবার খাবার রান্না করে থাকেন। কিন্তু যখন কোনো কিছু ভাজার জন্য তেল বেশি গরম করা হয়, তখন তেলের গঠনে পরিবর্তন আসে এবং বিষাক্ত উপাদান তৈরি হয়। তেল বারবার গরম করা হলে কিন্তু সেটি ট্রান্সফ্যাটে পরিণত হয়। এই ট্রান্সফ্যাট আমাদের শরীরে প্রবেশ করলে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি এবং কোলেস্টেরলের মাত্রা  কয়েকগুণ বেড়ে যায়।