জনপ্রিয় হয়ে উঠছে মডিউলার কিচেন, কীভাবে বানাবেন?

সবাই চান তার ঘরটাকে আধুনিকভাবে সাজিয়ে তুলতে। সেক্ষেত্রে বাদ যাবে না রান্নাঘরও। মূলত রান্নার কাজকে সহজ করতে এই ধারণাটি এসেছে। আধুনিক ফ্ল্যাট বা বাড়িতে মডিউলার কিচেন তৈরি করা সহজ। পুরনো বাড়ি বা ফ্ল্যাটের নতুন করে মডিউলার কিচেন তৈরি করা একটু ঝামেলার। তবে করা যাবে না, তা কিন্তু একেবারেই নয়।

রান্নাঘরকে আধুনিক রূপে সাজাতে মডিউলার কিচেনের জুড়ি মেলা ভার। তবে এ ধরনের রান্নাঘর করতে চাইলে কয়েকটি বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে। শুধু নতুন ফ্ল্যাট-বাড়ি হলেই মডিউলার কিচেন বানাতে যাবেন না। আগে নিজের চাহিদা, স্থান এবং বাজেট বিবেচনা করুন। তারপর ডিজাইনার এই মডিউলার কিচেন তৈরি করার উদ্যোগ নিন।

মডিউলার কিচেন আসলে কী?

আজকের দিনে মডিউলার কিচেন চাহিদা অনেকটাই বেড়েছে। এখানে থাকে অত্যাধুনিক গ্যাসওভেন, চিমনি, সিঙ্ক, মাইক্রোওভেন, ফ্রিজ, মিক্সার, টোস্টার, ঝকঝকে কনটেইনার আর কিচেন ক্যাবিনেট। সাজানো গোছানো রান্নাঘর হলে কার না ভালো লাগে। এই মডিউলার কিচেন তৈরি করার পরিকল্পনা থাকলে কয়েকটি বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে।

মিনিমাল ডিজাইন রাখুন

খুব তাড়াহুড়ো করে মডিউলার কিচেন বানাতে যাবে না। আগে নিজের চাহিদা, স্থান এবং বাজেট সম্পর্কে হিসাব কষে নিন। আগে একটা লিস্ট করে নিন কোন কোন ডিভাইসগুলো আপনার দরকার। এ ধরনের কিচেনের ক্ষেত্রে একটু বড় জায়গা দরকার হয়। নতুন রান্নাঘর হলে আপনি সুবিধা মতো ডিজাইন করে নিতে পারবেন। তবে পুরনো রান্নাঘরে নতুন করে মডিউলার করতে গেলে খানিকটা ঝক্কি পোহাতেই হবে। মডিউলার কিচেনের ডিজাইন যতটা মিনিমাল রাখবেন ততই ভালো। তাতে খরচও কম হয়, দেখতেও ভালো লাগে। নিজে ডিজাইন করতে না পারলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে।

তাড়াহুড়ো করবেন না

মডিউলার কিচেন তৈরির আগে ভেবেচিন্তে রান্নাঘর ডিজাইন করুন। তাড়াহুড়ো করলেই বিপদ। ডিজাইনের উপর আগে সঠিক ডিজাইন করুন, তারপর সেই অনুসারে ডিভাইস কিনতে হবে। আপনার পুরনো ডিভাইস যদি ঠিকঠাক থাকে তবে নতুন করে কিছু কেনার দরকার নেই। সেই সঙ্গে মাপজোক যেন ঠিক থাকে সেদিকও খেয়াল রাখুন। স্টোরেজের চাহিদা, রান্নার অভ্যাস এবং পরিবারের আকার অনুযায়ী মডিউলার কিচেন বানানোর পরিকল্পনা করুন। ভুল ফিটিং বা বড় আকারের ক্যাবিনেট এড়াতে ঠিকমতো মাপজোক করতে হবে।

কোনটি কোথায় রাখবেন

রান্নাঘরের কাজের গতি বাড়াতে মডিউলার কিচেনের ভূমিকা অনেক। এর কার্যকারিতাকে ভুলেও উপেক্ষা করতে যাবেন না। গ্যাসওভেন, সিঙ্ক, রেফ্রিজারেটর এবং মাইক্রো ওভেনসহ এসব ইলেক্ট্রনিক্স ডিভাইসগুলো কাছাকাছি রাখবেন না। একটি পণ্য থেকে অন্যটির মধ্যে যেন যথেষ্ট দূরত্ব থাকে। যাতে কাজের সময় অসুবিধা না হয়।

ভাবতে হবে খরচের কথাও

মডিউলার কিচেন তৈরি বেশ খরচ সাপেক্ষ। সস্তা জিনিসপত্র দিয়ে কিচেন তৈরি করলে পরবর্তীতে পরবর্তীতে আপসোস করতে হবে। তাই এ ধরনের কিচেন তৈরিতে ভালো মানের পণ্য ব্যবহার করতে হবে। কম খরচে নিম্নমানের উপকরণ বা যন্ত্রপাতি কিনলে প্রাথমিকভাবে লাভজনক মনে হলেও, পরে ঝামেলাই বেশি হবে। পণ্যগুলো দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার করতে চাইলে ক্যাবিনেট, কাউন্টার টপ এবং যন্ত্রপাতির জন্য টেকসই উপকরণ এবং তা নামী ব্র্যান্ডের হওয়া জরুরি।

আলোর দিকটিও খেয়াল রাখুন

রান্নাঘরের আলোর দিকটি বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। রান্নাঘরে আলো ঠিকঠাক না থাকলে, কতটা অসুবিধা তা ভুক্তভোগী মাত্রই জানেন। কিচেনে উজ্জ্বল ছাড়াও আন্ডার-ক্যাবিনেট লাইট লাগাতে হবে। কিচেনের দেওয়ালে ওয়াশেবল টাইলস্ হলে ভালো।