বয়স ত্রিশের কাছাকাছি পৌঁছতে না পৌঁছতেই কপাল, চোখ এবং ঠোঁটের পাশে ভাঁজ পড়ে যাচ্ছে আমাদের। সেই সঙ্গে কুঁচকে যাচ্ছে ত্বক। এসব সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম ভাঁজ থেকে মুখে স্থায়ীভাবে দেখা দিতে পারে বলিরেখা।
আমরা ত্বকে বয়সের ছাপ বা বলিরেখা পড়া হয়তো পুরোপুরি ঠেকাতে পারবো না। কিন্তু চাইলে এই প্রক্রিয়াটিকে কিছুটা ধীর করে নিয়ে আসা সম্ভব। ত্বকের বলিরেখা বা রিঙ্কলস দূর করতে কিছু স্বাস্থ্যকর অভ্যাস আয়ত্ব করতে হবে। জেনে নিন সেগুলো কী কী।
প্রচুর পানি পান
শুষ্ক ত্বকে বলিরেখা দ্রুত পড়ে। তাই ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে প্রচুর পানি পান করতে হবে। পানি ত্বককে ভেতর থেকে উজ্জ্বল রাখবে। শুধু পানি খেতে না চাইলে লেবু, মধু, বিভিন্ন ফল, হলুদ, আদা, মেথি, পুদিনা পাতা ইত্যাদি মিশিয়ে খেতে পারেন। এতে পানির স্বাদ আর পুষ্টিগুণ দুটোই বাড়বে।
অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার
ফল, শাকসবজি এবং গ্রিন টি’র মতো অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করুন। অতিরিক্ত চিনি বা পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেটযুক্ত খাবার ত্বকের বার্ধক্যকে ত্বরান্বিত করতে পারে।
ময়েশ্চারাইজার
গরমে অনেকে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার থেকে বিরত থাকেন। কিন্তু ত্বকের ধরন অনুযায়ী সারা বছরই ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে হবে। কেমিকেলযুক্ত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে না চাইলে প্রাকৃতিক উপাদান হিসেবে নারকেল তেল লাগাতে পারেন মুখে। অ্যান্টি অক্সিডেন্ট এবং ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ নারকেল তেল ত্বকের ভেতর থেকে পুষ্টি জুগিয়ে একে পুনরুজ্জীবিত করে তুলতে বিশেষভাবে সহায়তা করবে।
ফেসিয়াল ম্যাসাজ
ফেসিয়াল ম্যাসাজ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সারাদিনের কাজের চাপ আর চিন্তায় অনেক সময়ই চোখেমুখে ছাপ পড়ে যায়। এ সময় সঠিক উপায়ে ফেস ম্যাসাজ মুখের পেশিকে টানটান করতে সাহায্য করে। এ ছাড়া ফেসিয়াল ম্যাসাজের মাধ্যমে ত্বকে কোনো পণ্য ব্যবহার করলে তা ত্বক দ্রুত শোষণ করে। ম্যাসাজ করলে রক্ত সঞ্চালন এবং ত্বকের কোলাজেন উৎপাদনও বৃদ্ধি পায়।
রেটিনলযুক্ত পণ্য
ত্বকচর্চায় আগ্রহীদের কাছে রেটিনল পরিচিত নাম। অ্যান্টি-এজিং ট্রিটমেন্টের ক্ষেত্রে রেটিনল সমৃদ্ধ পণ্য আজকাল বেশ জনপ্রিয়। রেটিনল ত্বকের মাঝামাঝি স্তরে ইলাস্টিন এবং কোলাজেনের উৎপাদন বাড়াতে সাহায্য করে। এ দুই বিউটি ফ্যাক্টরের প্রভাবে ত্বক টানটান হয় এবং ত্বকে লাবণ্যতা আসে যা বলিরেখা বা বয়সের ভাঁজ কমাতে কাজ করে। ত্বকচর্চায় এখনই রেটিনলযুক্ত পণ্য যুক্ত করুন।
রোদের সংস্পর্শ
সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মির (ইউভি) সংস্পর্শে দ্রুত ত্বক বুড়িয়ে যায়। ঘন ঘন ইউভিএ রশ্মির সংস্পর্শে ত্বকে অকাল বার্ধক্যের ছাপ পড়ে; ত্বক তার সহজাত স্থিতিস্থাপকতা (ইলাস্টিসিটি) হারায় এবং বলিরেখা দেখা দেয়। তাছাড়া নিয়মিত সানস্ক্রিন ব্যবহার না করলে আমাদের ব্যবহৃত অনেক স্কিনকেয়ার পণ্যই ঠিকমতো কাজ করে না। আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে প্রতি দুই ঘণ্টা পরপর ৩০ বা তার বেশি এসপিএফের সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে হবে।