মেকআপ নিখুঁত করবে কনসিলার

কনসিলারকে বলা যায় ম্যাজিক স্টিক। কারণ এটি দিয়ে মুখের যাবতীয় দাগছোপ ঢেকে ফেলা সম্ভব। ব্রণের দাগ, চোখের নিচের ডার্ক সার্কেল, ত্বকের রঙের অসামঞ্জ্যতা ইত্যাদি ঢাকতে কনসিলার ব্যবহার করা হয়। ফুল কাভারেজ মেকআপে ফাউন্ডেশনের পর কনসিলার ব্যবহার না করলেই নয়। 

এর বাইরেও বিভিন্ন সমস্যার মোকাবিলা করতে সক্ষম 'মাল্টিপারপাস' এই মেকআপ পণ্যটি।  

চোখের পাতায় আইশ্যাডোর রং পুরোপুরি ফুটিয়ে তুলতে প্রাইমার হিসেবে কনসিলার লাগানো যায়। এতে একদিকে যেমন আইশ্যাডো স্পষ্ট হয়ে ওঠে, তেমনি মেকআপের স্থায়িত্বও বাড়ে।

আবার ঠোঁটের সৌন্দর্য ফুটিয়ে তুলতেও কনসিলারের জুড়ি নাই। ঠোঁটের বাইরের ধার বরাবর প্রথমে কনসিলার লাগিয়ে এরপর স্বাভাবিক লিপলাইন দিয়ে ঢেকে দিন। তারপর কনসিলার ব্রাশ দিয়ে ভেতরের দিকে ব্লেন্ড করে দিন। এতে লিপস্টিকের রঙ খুব সুন্দর করে ফুটবে। 

মনে রাখতে হবে, কনসিলার কিন্তু ফাউন্ডেশনের মতো করে কাজ করে না। এর ফর্মুলা ফাউন্ডেশনের চেয়ে ভারি। তাই প্রয়োজনের চেয়ে বেশি কনসিলার লাগালে মুখের সাজ কৃত্রিম লাগবে।

ব্যবহারের নিয়ম

ম্যাট, ওয়াটারি, শিমার আর অয়েলি- এই চার ধরনের কনসিলার পাওয়া যায় বাজারে। দাগ ঢাকার পাশাপাশি ঘন এবং ভারি কাভারেজের কনসিলারগুলো নিখুঁত বেইজ মেকআপের জন্য ব্যবহার করা হয়। অন্যদিকে নাকের দুইপাশে রঙের ভিন্নতা কিংবা ত্বকের রঙের অসামঞ্জস্যতা ঢাকার জন্য কালার কারেকটিং কনসিলার রয়েছে।

কনসিলার ব্যবহারের আগে ত্বককে সুন্দরভাবে পরিষ্কার করে নিতে হবে। অনেকেই আগে কনসিলার ব্যবহার করে পরে ফাউন্ডেশন লাগায়। এ পদ্ধতিটি ভুল। উচিত আগে ফাউন্ডেশন ব্যবহার করা এবং তারপর প্রয়োজনে কনসিলার ব্যবহার করা। তাহলে খুব অল্প কনসিলার ব্যবহারেই ত্বককে নিখুঁত দেখায়। আগেই কনসিলার ব্যবহার করে তার উপর ফাউন্ডেশন ব্যবহার করলে কনসিলার ত্বক থেকে সরে গিয়ে ত্বকে অসামঞ্জস্যতা দেখা দিতে পারে। 

কনসিলার ঘষাঘষি না করে ভালোভাবে স্পঞ্জ দিয়ে চেপে চেপে বসিয়ে দিতে হবে। দীর্ঘক্ষণ রাখতে এর ওপর লুজ পাউডার ব্যবহার করা ভালো। তবে কনসিলার অবশ্যই স্কিন টোন অনুযায়ী বেছে নিতে হবে।

স্কিন টোন থেকেও এক শেড হালকা কনসিলার মানানসই হয়ে থাকে। চোখের নিচের ডার্ক সার্কেল ঢাকতে ত্বকের চেয়ে এক বা দুই শেড হালকা কনসিলার বেছে নিতে হবে।

আমাদের দেশে এলএ গার্ল আর এবসোল্যুট নিউইয়র্কের কনসিলার তরুণীদের বেশি পছন্দ। দামও নাগালের মধ্যে রয়েছে। এছাড়াও রয়েছে রেভলন, আরবান ডিকে, ডব্লিউ সেভেন, মেবেলিন নিউইয়র্কের মতো ব্র্যান্ডগুলো।

যত দামি আর ভালো ব্র্যান্ডেরই হোক, ত্বকের যে কোন প্রকার সমস্যা ও অ্যালার্জির প্রাদুর্ভাব এড়াতে ১২-১৮ মাসের বেশি কনসিলার ব্যবহার করবেন না।