‘আমার শরীরের জন্য যে খাবারগুলো ভালো, আমি শুধু সেই সব খাবারই খেতাম। কোনো রকম শরীরচর্চা নয়, দৌড়ানো নয়, অস্ত্রোপচার নয়, কোনো ওষুধও নয়- কিছুই না!’ ইউটিউব চ্যানেল ‘কার্লি টেলস’-এর এক আয়োজনে এভাবেই নিজের ফিটনেস জার্নি প্রসঙ্গে বলেন দক্ষিণ ভারতীয় অভিনেতা আর মাধবন। মিষ্টি হাসি আর নিপুণ অভিনয় দক্ষতায় বলিউডেও দর্শকের মন জয় করে চলছেন তিনি।
‘রকেট্রি: দ্য নামবি ইফেক্ট’ নামে একটি ছবির জন্য বছরখানেক আগে বেশ ওজন বাড়াতে হয়েছিল মাধবনকে। কিন্তু মাত্র ২১ দিনে ওজন ঝরিয়ে ফিট হয়ে তাক লাগিয়ে দেন ৫২ বছরের এই অভিনেতা! কোনো জিমে যেতে হয়নি, বরং মাধবনের সমস্ত মনোযোগ ছিল ডায়েটকেন্দ্রিক।
প্রতিবার মুখে খাবার দেওয়ার পর তিনি ৪৫-৬০ বার চিবন। এটাই নাকি তাঁর সিক্রেট! রয়েছে ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং, দ্রুত ঘুমানো, আর প্রচুর সবুজ শাকসবজি খাওয়ার প্রভাবও।
ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে যেসব ডায়েট অনুসরণ করা হয়ে থাকে, তার মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে জনপ্রিয় পদ্ধতিগুলোর মধ্যে একটি হলো ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং। এই ডায়েট অনুসরণকালে শুধু একটা নির্দিষ্ট উইন্ডো পিরিয়ডের মধ্যে খাওয়া যায়। দ্রুত ওজন ঝরানোর জন্য মাধবনের ভরসাও ছিল এই ডায়েট পদ্ধতির ওপরে।
সিক্স প্যাক নয়, সুস্থ থাকাই মূলমন্ত্র
নিজেকে ‘জিম পারসন’ বলতে নারাজ মাধবন; বরং ভোরের হাঁটা আর ইয়োগায় স্বাচ্ছন্দ্য তিনি। দিনে অন্তত এক ঘণ্টা ইয়োগায় ব্যয় করতেন তিনি। মাধবনের পছন্দের কিছু ইয়োগা আসনের মধ্যে রয়েছে সূর্য নমস্কার, ত্রিকোণাসন, ধনুকাসন। ইয়োগার পর প্রাণায়াম আর মেডিটেশনও মিস করেন না।
ওজন কমাতে মাধবন সমস্ত মনোযোগ দিয়েছেন খাবার নিয়ন্ত্রণের ওপর।
কোনও রকম প্রক্রিয়াজাত খাবার ছুঁয়েও দেখতেন না তিনি। তাঁর দিনের শুরুটা হতো ফল আর দুধ দিয়ে। নাশতায় আরও থাকত ইডলি, উপমা, ব্রাউন ব্রেড, পনির। দুপুরে থাকতো রুটি, সবজি, ভাত, দইয়ের মতো সাধারণ সব খাবার। রাতে খেতেন স্যুপ; এ ছাড়া দিনভর প্রচুর পানি পান করতেন।
এ ছাড়া সন্ধ্যা ৬:৪৫ এর পর সাধারণত আর খান না মাধবন। এমনকি দুপুর ৩টার পর কোনো ধরনের কাঁচা খাবারও খান না! রাতে দ্রুত ঘুমিয়ে পড়েন এই নায়ক। ঘুমানোর অন্তত ৯০ মিনিট আগে সব ধরনের ইলেকট্রনিক ডিভাইস বন্ধ করে দেন।
তথ্যসূত্র: দ্য ইকোনমিক টাইমস, কার্লি টেলস