কথায় আছে ‘যত্নে রত্ন হয়’। এটা শুধু কোনো প্রবাদ বাক্য নয়, ধ্রুব সত্য। ত্বক বা চুলের যত্নে এই কথাটা পুরোপুরি খাটে। তাই তো, রাতে একটু বেশি যত্ন নিলেই চুল হয়ে উঠতে পারে নরম ও মসৃণ। স্কিনকেয়ারে ‘গ্লাস স্কিন’ ট্রেন্ড যেমন জনপ্রিয়, তেমনি চুলের জন্যও আসছে ‘গ্লাস হেয়ার’ ট্রেন্ড। চুলকে সিল্কি ও ঝলমলে করতে নতুন এক পদ্ধতি জনপ্রিয় হচ্ছে, হেয়ার স্লাগিং।
হেয়ার স্লাগিং কী?
কে-বিউটি অনুপ্রাণিত এই পদ্ধতিতে রাতে ঘুমানোর আগে চুলে ময়েশ্চারাইজিং তেল বা হেয়ার মাস্ক লাগিয়ে একটি মোটা স্তর তৈরি করা হয়। তারপর এটি মোজা বা সিল্ক স্কার্ফ দিয়ে ঢেকে রাখা হয়। যাতে চুলের ভেতরে আর্দ্রতা লক থাকে এবং গভীর পুষ্টি পায়।
হেয়ার স্লাগিংয়ের উপকারিতা
এটি শুধু চুল সুন্দর দেখায় না, বরং শুষ্ক, রুক্ষ ও ক্ষতিগ্রস্ত চুলের জন্য দারুণ কার্যকর। এটি চুলের গভীরভাবে ময়েশ্চারাইজ করে। আরগান, নারকেল বা জোজোবা তেল চুলের ভেতর প্রবেশ করে আর্দ্রতা ধরে রাখে ও ভঙ্গুরতা কমায়। চুলের শক্তি বাড়ায়। এটি স্প্লিট এন্ডস কমায় ও পরিবেশগত ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে। ফ্রিজ নিয়ন্ত্রণ করে। অতিরিক্ত আর্দ্রতা চুলকে ঝরঝরে রাখে ও উড়ে যাওয়া চুল সামলায়। সেই সাথে চুলকে করে চকচকে। পর্যাপ্ত আর্দ্রতা থাকলে চুলে প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা দেখা যায়।
কীভাবে ঘরে বসেই হেয়ার স্লাগিং করবেন?
- সঠিক তেল বেছে নিন: পাতলা চুলের জন্য হালকা তেল, যেমন গ্রেপসিড। আর ঘন চুলের জন্য ভারী তেল, যেমন নারকেল বা ক্যাস্টর বেছে নিতে হবে।
- ভালোভাবে লাগান: শুকনো বা স্যাঁতসেঁতে চুলের গোড়ায় নয়। বরং আগায় ভালোভাবে লাগাতে হবে।
- মোড়ানো: চুল সিল্ক স্কার্ফ বা মোজা দিয়ে ঢেকে রাখুন।
- রাতে রেখে দিন: সারারাত পুষ্টি শোষণ করতে দিন।
- পরদিন ধুয়ে ফেলুন: শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার দিয়ে ধুয়ে চুলকে মসৃণ ও ঝলমলে করুন।
টিকটকে ভাইরাল
টিকটকে এই ট্রেন্ড দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। আফ্রিকান, এশিয়ান, মধ্যপ্রাচ্য ও আদিবাসী সংস্কৃতির পুরনো এই চুলের যত্নের কৌশল এখন বিশ্বজুড়ে হেয়ার কেয়ার কোম্পানি ও বিউটি ইনফ্লুয়েন্সারদের দৃষ্টি কেড়েছে। ঘরে বসেই পার্লারের মতো ঝলমলে চুল পেতে চাইলে হেয়ার স্লাগিং একবার ট্রাই করতেই পারেন।