স্কিনকেয়ার ব্র্যান্ড ‘রোড’ নিয়ে বড়সড় এক চমক এনেছিলেন মার্কিন মডেল ও উদ্যোক্তা হেইলি বিবার। তাঁর এই নীরব বিলাসিতার ব্র্যান্ড কিনে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিউটি কোম্পানি ইআইএফ। মূল্য এক বিলিয়ন ডলার। যা বাংলাদেশী মূদ্রায় ১২ হাজার ২২৪ কোটি টাকা।
এই অঙ্ক শুনেই অনেকের চোখ কপালে উঠেছে। কিন্তু এই চুক্তির পর নতুন করে প্রশ্ন উঠছে, যে ব্র্যান্ড একসময় ছিল সাদামাটা সৌন্দর্যের প্রতীক, সেটা কি আর আগের মতো থাকবে?
হেইলি বিবারের ‘রোড’ ব্র্যান্ড শুরু থেকেই ছিল অন্যরকম। বড় কোনো লোগো নেই, চকচকে প্যাকেজিং নেই। বরং পরিপাটি আর মার্জিত এক সৌন্দর্যবোধ। পণ্যের সংখ্যাও হাতে গোনা। যেমন পেপটাইড গ্লেজিং ফ্লুইড কিংবা ব্যারিয়ার রিস্টোর ক্রিম। দামটাও রাখা হয়েছিল অনেকের নাগালের মধ্যে, ৩০ ডলারের কম। এই সাশ্রয়ী আর কার্যকরী স্কিনকেয়ার তরুণদের, বিশেষ করে জেন–জি প্রজন্মের পছন্দের তালিকায় খুব দ্রুত জায়গা করে নেয়।
‘রোড’ যেমন জনপ্রিয় হয়েছিল অনলাইনে, এবার সেটাই যাচ্ছে বড় পরিসরে। কারণ, ইআইএফ রোডকে শুধু কিনেই থেমে থাকছে না। তারা এই ব্র্যান্ডকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে চায়। সুপারশপ থেকে শুরু করে ড্রাগস্টোর, সবখানেই হয়তো পাওয়া যাবে রোডের প্রোডাক্ট। তবে হেইলি বিবার পুরোপুরি সরে যাচ্ছেন না। তিনি থাকছেন চিফ ক্রিয়েটিভ অফিসার এবং ইনোভেশনের প্রধান হিসেবে। মানে তাঁর চিন্তাভাবনা থাকবে রোডের প্রতিটি ধাপেই।
তবে এও ঠিক, রোডের যে ‘নীরব বিলাসিতা’ ভাবমূর্তি, সেটা ধরে রাখা এখন বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ, যে পণ্য সবার নাগালে চলে আসে, সেটা আর কতটা এক্সক্লুসিভ থাকে? তবে নতুন প্রজন্ম এখন দাম নয়, গুণাগুণ দিয়ে পণ্যকে মূল্যায়ন করে। তারা চায় এমন কিছু যা দেখতে সুন্দর, কাজে ভালো এবং দামে যুক্তিসংগত। এই মনোভাব থেকেই এসেছে ‘সাশ্রয়ী বিলাসিতা’র ধারনা।
ইআইএফ বহুদিন ধরে কাজ করছে এমন একটা মডেল নিয়ে, যেখানে কম দামে ভালো মানের বিউটি প্রোডাক্ট দেওয়া হয়। তাই রোডকে কিনে তারা এক ধরনের বাজি ধরেছে। বিলাসিতা আর সহজলভ্যতা কি একসঙ্গে চলতে পারে?
হেইলি বিবারের তারকা প্রভাব, ইআইএফের বাজারজাত করার ক্ষমতা আর রোডের মানসম্মত পণ্য, এই তিনে মিলে ভবিষ্যতের বিউটি জগতে নতুন ধারা তৈরি হতে পারে। নীরব বিলাসিতা টিকে থাকবে কিনা, সেটা সময় বলবে। তবে এই চুক্তি যে বিশ্ব সৌন্দর্যপণ্য বাজারে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে, তা বলাই যায়।