শীত এলেই ত্বকের ওপর প্রথম আঘাতটা পড়ে আর্দ্রতার ঘাটতি থেকে। যতই ক্রিম বা ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করি, কয়েক ঘণ্টা পরই ত্বক টান টান লাগে, উজ্জ্বলতাও যেন হারিয়ে যায়। এই সময়ে অনেকে দামি স্কিনকেয়ার প্রোডাক্টের খোঁজে ছুটে বেড়ান। তবে ত্বক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রসাধনী বদলানোর আগে প্রতিদিনের চায়ের তালিকায় কিছু ভেষজ চা যোগ করলেই ত্বকের বহু সমস্যা কমে যেতে পারে। গরম ধোঁয়া ওঠা এক কাপ চা শুধু মন ভালোই করে না, ভেতর থেকে ত্বককেও সুস্থ রাখে।
শীতে ত্বকের যত্নে কোন কোন চা উপকারী, জেনে নিন।
রোজ অ্যান্ড হিবিসকাস টি: রুক্ষ ত্বকের টনিক
শীতের রুক্ষতা ত্বককে সবচেয়ে বেশি ক্লান্ত করে তোলে। এই সময় রোজ অ্যান্ড হিবিসকাস টি হতে পারে ত্বকের জন্য দারুণ এক পানীয়। জবাফুলকে অনেকেই বলেন ‘ন্যাচারাল বোটক্স’। এতে থাকে এএইচএএস, যা ত্বকের মৃত কোষ তুলে আনে এবং উজ্জ্বলতা বাড়ায়। অন্যদিকে গোলাপের পাপড়ি অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি ও অ্যান্টিব্যাক্টেরিয়াল গুণসম্পন্ন, শীতের প্রদাহ কমাতে বেশ সহায়ক।
যে উপকার পাবেন
- ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে।
- ইলাস্টিসিটি বা টানটান ভাব বজায় রাখে।
- নিস্প্রাণ, ক্লান্ত ত্বকে ফেরায় জেল্লা।
জিঞ্জার-টার্মারিক টি: প্রদাহ কমিয়ে ত্বক উজ্জ্বল করে
শীতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার মতোই ত্বকের প্রতিরোধ ক্ষমতাও কমে যায়। আদা আর হলুদের চা এই সময় দারুণ উপকারী। হলুদের কারকিউমিন প্রদাহ কমাতে পরিচিত এক উপাদান। ত্বকের র্যাশ, লালচেভাব কমায়। আদা রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়, ফলে ত্বকের উজ্জ্বলতা স্বাভাবিকভাবেই ফিরে আসে।
যে উপকার পাবেন
- ব্রণ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়ার উপদ্রব কমায়।
- ত্বকের রক্ত সঞ্চালন সচল রাখে।
- শরীর–ত্বক দুইই ডিটক্স করতে সাহায্য করে।
মিন্ট গ্রিন টি: ত্বকের ক্লান্তি দূর করে
যারা প্রতিদিন বাইরে থাকেন, দূষণ ও ধুলাবালুতে ত্বক ক্লান্ত হয়ে যায়। মিন্ট গ্রিন টি সেই ক্লান্তি কাটাতে দারুণ কাজ করে। গ্রিন টিতে থাকা ক্যাটেচিন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বককে ডিটক্স করে, ইনফ্লেমেশন কমায় এবং ওপেন পোরস ছোট করতে সাহায্য করে। পুদিনা ত্বকের অস্বস্তি কমিয়ে দেয়, বিশেষ করে শীতকালে ত্বক টান ধরে যাওয়ার সমস্যা কমে।
যে উপকার পাবেন
- দূষণজনিত ক্ষয়ক্ষতি থেকে ত্বককে রক্ষা করে।
- সেবাম ক্ষরণ নিয়ন্ত্রণে রাখে, ফলে ব্রণও কম হয়।
- ত্বকের টানটান ভাব বজায় রাখে।
ক্যামোমাইল-ল্যাভেন্ডার টি: ভালো ঘুম এনে ত্বক ঠিক রাখে
ত্বকের উজ্জ্বলতা হারানোর অন্যতম কারণ হলো পর্যাপ্ত ঘুম না পাওয়া। রাতে ঠিকমতো ঘুম না হলে ত্বক আগে বয়সী দেখায়, ফোলাভাবও বাড়ে। ক্যামোমাইল চায়ের স্নিগ্ধ সুবাস স্নায়ুকে শান্ত করে, অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমিয়ে দেয়। ল্যাভেন্ডার ত্বকের প্রদাহ কমায়, বিশেষ করে স্পর্শকাতর ত্বকের জন্য এটি বেশ উপকারী।
যে উপকার পাবেন
- অনিদ্রা কমাতে সাহায্য করে, ফলে ত্বক স্বাভাবিকভাবে সেরে ওঠে।
- মুখের ফোলাভাব কমায়।
- সেনসিটিভ স্কিনের জন্য নিরাপদ ও আরামদায়ক।
ত্বকের যত্ন শুধু বাইরে নয়, ভেতর থেকেও করা জরুরি। শীতের এই সময়ে এক কাপ ভেষজ চা ত্বকের আর্দ্রতা, উজ্জ্বলতা ও স্বাস্থ্যের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে। তাই ময়েশ্চারাইজারের পাশাপাশি পছন্দমতো একটি চা প্রতিদিনের রুটিনে রাখুন।