গরম পড়লেই চুল ছোট করার কথা মাথায় আসে অনেকেরই। কিন্তু হেয়ার কাট শুধু গরমের স্বস্তির জন্য নয়। চুলের স্বাস্থ্যের সঙ্গেও রয়েছে সম্পর্ক। তবে এ বিষয়টি অনেকেই খেয়াল করেন না। নিয়মিত ট্রিম বা হেয়ার কাট চুলকে রাখে ঝরঝরে, সুস্থ ও প্রাণবন্ত। তাই শুধু সময় বা আবহাওয়া নয়, চুলের ধরন ও অবস্থা বুঝেই কাটানো উচিত। নইলে চুল যতই লম্বা হোক, তা দেখতে নিস্তেজ ও প্রাণহীন লাগতে পারে।
প্রশ্ন হলো, কতদিন পরপর চুল কাটা উচিত? আর কেনই বা এটি জরুরি? চলুন বিষয়টি জেনে নেওয়া যাক।
চুল কত দ্রুত বাড়ে
সাধারণভাবে একজন মানুষের চুল প্রতি মাসে প্রায় ১ থেকে ১.৫ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বাড়ে। অর্থাৎ বছরে ১২ থেকে ১৫ সেন্টিমিটার পর্যন্ত চুল লম্বা হতে পারে। তবে এই হার সবার ক্ষেত্রে একরকম হয় না।
চুলের বৃদ্ধি নির্ভর করে কয়েকটি বিষয়ের ওপর। তার মধ্যে রয়েছে জিনগত বৈশিষ্ট্য, প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাস, শরীরের হরমোন, মানসিক চাপ এবং চুলের যত্ন নেওয়ার অভ্যাস। তাই কেউ দ্রুত চুল বাড়াতে পারলেও, কারও ক্ষেত্রে তা তুলনামূলক ধীরগতির হতে পারে।
কেন নিয়মিত চুল কাটা দরকার
সময়ের সাথে সাথে চুলের ডগা ধীরে ধীরে শুকনো হয়ে যায়। এতে ফাটল ধরে, যাকে আমরা ‘স্প্লিট এন্ডস’ বলি। এই ফাটা ডগা ঠিকমতো কাটা না হলে তা উপরের দিকে ছড়িয়ে পড়ে। এতে চুল দুর্বল হয়ে যেতে পারে।
নিয়মিত চুল না কাটলে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে। যার মধ্যে চুলের ডগা ফেটে যাওয়া অন্যতম। এছাড়াও চুল পাতলা হয়ে যায়। সহজেই ভেঙে যায়। আবার চুল বড় হলেও তা ঘন বা সুন্দর দেখায় না। ফলে চুল বাড়লেও তার সৌন্দর্য অনেকটাই নষ্ট হয়ে যায়।
কতদিন পরপর চুল কাটা ভালো
চুলের ধরন, অবস্থা এবং আপনার লক্ষ্য, এই তিনটি বিষয় বিবেচনায় রেখে চুল কাটার সময় নির্ধারণ করা উচিত। যদি আপনি চুল লম্বা করতে চান। তাহলে প্রতি ১০ থেকে ১২ সপ্তাহে (প্রায় ২.৫ থেকে ৩ মাসে) একবার ট্রিম করা ভালো। এতে চুলের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ কেটে যায়, কিন্তু দৈর্ঘ্য খুব বেশি কমে না।
যাদের চুল ড্যামেজড বা কেমিক্যাল ট্রিটমেন্ট করা। তাদের ক্ষেত্রে ৬ থেকে ৮ সপ্তাহে একবার ট্রিম করা ভালো। এতে চুলের ক্ষতি নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। ছোট চুল বা নির্দিষ্ট কোনো স্টাইল বজায় রাখতে চাইলে প্রতি ৪ থেকে ৬ সপ্তাহে একবার চুল কাটা উচিত। এতে স্টাইল ঠিক থাকে।
আর যাদের চুল কোঁকড়া বা টেক্সচার্ড। তারা ৮ থেকে ১২ সপ্তাহ পরপর ট্রিম করলেও যথেষ্ট। কারণ এই ধরনের চুলে ফাটা ডগা সহজে চোখে পড়ে না।
একেবারেই চুল না কাটলে কী হয়
অনেকে মনে করেন, চুল বড় করতে হলে একেবারেই কাটবেন না। কিন্তু এতে উল্টো সমস্যা বাড়তে পারে।
চুলের ডগা তখন আরও শুকনো ও রুক্ষ হয়ে যায়। জট বেশি পড়ে, যা চুলের গোড়ায় টান তৈরি করে। এতে চুল ভাঙা শুরু হয় এবং চুল অসমান দেখায়। ফলে চুল যতই বড় হোক, তা স্বাস্থ্যকর বা সুন্দর দেখায় না।
কখন বুঝবেন চুল কাটার সময় হয়েছে
চুল কাটার সঠিক সময় বোঝাও গুরুত্বপূর্ণ। কিছু লক্ষণ দেখলেই বুঝবেন, এখন ট্রিম করার সময়। সেগুলো হলো-
- চুলের ডগা ফেটে গেলে।
- চুল রুক্ষ ও শুষ্ক লাগলে।
- চুলে অতিরিক্ত জট পড়লে।
- চুলের উজ্জ্বলতা কমে গেলে।
- ডগা পাতলা হয়ে গেলে।
এই লক্ষণগুলো দেখা দিলে দেরি না করে চুল কেটে নেওয়াই ভালো।
ট্রিম করলে কি চুল দ্রুত বাড়ে?
এটি সবচেয়ে বড় ভুল ধারণাগুলোর একটি। চুল কাটলে চুল দ্রুত বাড়ে না। কারণ, চুলের বৃদ্ধি স্ক্যাল্প থেকে নিয়ন্ত্রিত হয়, ডগা থেকে নয়। তবে নিয়মিত ট্রিম করলে চুলের ফাটা ও ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দূর হয়। এতে চুল দেখতে ঘন ও স্বাস্থ্যকর লাগে। চুল কম ভাঙে, ফলে দৈর্ঘ্য ধরে রাখা সহজ হয়। তাই অনেকের কাছে মনে হয় চুল দ্রুত বাড়ছে।
চুল ভালো রাখতে হলে কেবল কাটাই যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন সঠিক যত্নও। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ডিম, বাদাম, শাকসবজি ও প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার রাখা জরুরি। স্ক্যাল্প পরিষ্কার রাখা, নিয়মিত তেল ব্যবহার, অতিরিক্ত হিট স্টাইলিং এড়িয়ে চলা এবং হালকা হাতে চুল আঁচড়ানো। এই অভ্যাসগুলো চুলের স্বাস্থ্যের জন্য ভালো।