ব্রণপ্রবণ ত্বকে ফেস অয়েল, ভালো নাকি খারাপ?

ব্রণপ্রবণ ত্বকের ক্ষেত্রে অনেকেই মনে করেন, তেল মানেই সমস্যা। ত্বক যেহেতু এমনিতেই তৈলাক্ত, তার ওপর আবার তেল ব্যবহার করলে ব্রণ বাড়বে। এটাই প্রচলিত ধারণা। কিন্তু ত্বকের যত্নের বিষয়টি এতটা সরল নয়। বরং সঠিক ফেস অয়েল বেছে নিলে তা উল্টো ত্বকের জন্য উপকারীও হতে পারে।

চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. রেনুকা নালাওয়াডে রাজালে বলছেন, ‘সব ধরনের তেল এক রকম নয়। তাই সব তেলই যে ব্রণের জন্য ক্ষতিকর। এ ধারণা ঠিক নয়।’

ব্রণ হলে অনেকেই ত্বকের সব তেল দূর করার চেষ্টা করেন। এজন্য ব্যবহার করেন শক্ত ক্লিনজার, অতিরিক্ত স্ক্রাব বা একেবারেই ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার বন্ধ করে দেন।

ডা. রাজালের মতে, ‘এই পদ্ধতি উল্টো ফল দিতে পারে। ত্বক বেশি শুকিয়ে গেলে তেল গ্রন্থি আরও বেশি তেল উৎপাদন শুরু করে। ফলে ত্বক আরও তৈলাক্ত হয়ে যায়, ছিদ্র বন্ধ হয়ে যায় এবং ব্রণ বাড়ে।’

অবাক করার বিষয় হলো, কিছু ফেস অয়েল ব্রণ কমাতেও সাহায্য করতে পারে। যদি সঠিকভাবে ব্যবহার করা হয়।

টি ট্রি অয়েল: এতে অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ও অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল গুণ আছে, যা ব্রণ কমাতে সাহায্য করে।

রোজহিপ অয়েল: এটি ত্বকের দাগ কমাতে এবং ত্বক মেরামতে সহায়তা করে।

জোজোবা অয়েল: এটি ত্বকের প্রাকৃতিক তেলের মতো কাজ করে এবং তেল উৎপাদন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে, পাশাপাশি ছিদ্র বন্ধ করে না।

এই ধরনের হালকা ও নন-কমেডোজেনিক (যা ছিদ্র বন্ধ করে না) তেল ত্বকের ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করতে পারে।

সব তেল কিন্তু ভালো নয়। কিছু তেল ব্রণ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

নারকেল তেল: এটি খুব ভারী এবং সহজেই ছিদ্র বন্ধ করে দিতে পারে

শিয়া বাটার: ঘন হওয়ায় ত্বকের ওপর স্তর তৈরি করে

তিলের তেল ও ক্যাস্টর অয়েল: এসব তেল ত্বকে জমে থেকে ব্রণ বাড়াতে পারে

এই ধরনের তেল ত্বকে ময়লা ও তেল আটকে রেখে ব্রণের পরিবেশ তৈরি করে।

ফেস অয়েল ব্যবহার করতে চাইলে কিছু বিষয় মাথায় রাখা জরুরি। প্রথমে অল্প পরিমাণে ত্বকের ছোট অংশে পরীক্ষা করে নিন। একসঙ্গে অনেক ভারী পণ্য ব্যবহার করবেন না। হালকা ভেজা ত্বকে অয়েল লাগালে ভালো কাজ করে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, নিজের ত্বকের প্রতিক্রিয়া বোঝা।

ফেস অয়েল পুরোপুরি খারাপ, এ কথা ঠিক নয়। আবার সব তেলই ভালো, এটাও সত্য নয়। সঠিক তেল বেছে নিয়ে সঠিকভাবে ব্যবহার করলে তা ত্বকের জন্য উপকারী হতে পারে।

তাই ব্রণপ্রবণ ত্বকে ফেস অয়েল ব্যবহার করার আগে সচেতন হওয়া জরুরি। প্রয়োজনে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই ভালো।