সঠিক ফিটিংয়ের ব্লেজার কীভাবে কিনবেন?

শীত এলে ছেলেদের কাছে কদর বেড়ে যায় ব্লেজার, কোট বা স্যুটের। ঠান্ডা নিবারণের পাশাপাশি দারুণ স্টাইলিশ পোশাক হিসেবে বেশ জনপ্রিয় এসব ব্লেজার বা কোট। ব্লেজার, কোট বা স্যুট অনেকে একই ক্যাটাগরিতে ফেলেন।

যাই হোক না কেন, নিজেকে ট্রেন্ডি রাখতে বেশ জনপ্রিয় এই পোশাকগুলো। ব্লেজার এবং স্পোর্স কোট, দুটি প্রায় একই রকম। শুধু রঙের ক্ষেত্রে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। তবে কাট বা ডিজাইন একই। আর স্যুট মানে ব্লেজার বা কোটের সঙ্গে একই রঙের প্যান্টও থাকবে।

এবার জেনে নিন, কোনটি ব্লেজার আর কোনটি স্পোর্স স্যুট। একই কাটের হলেও রঙের ক্ষেত্রে রয়েছে ভিন্নতা। ব্লেজার সাধারণত সলিট কালার হয়ে থাকে। সহজ ভাবে বললে, ব্লেজার যে রঙেরই হোক না কেন, একটা কালারই থাকবে। আর এতে কোনো ম্যাচিং প্যান্ট বা ট্রাউজার থাকবে না। কোনো প্যাটার্ন থাকবে না। মেটাল বোতাম হবে। এই বোতাম থাকতেও পারে, আবার নাও পারে।

স্পোর্স কোটে রঙের সেড থাকবে। আবার কয়েকটা রঙের ব্যবহার হয় এই কোটগুলোতে। এই কোটের প্যাটার্নও থাকবে। এই দুটিকে ব্লেজার হিসেবেও ধরতে পারেন। ব্লেজার কেনার সময় কয়েকটি বিষয় আপনাকে মাথায় রাখতে হবে। ব্লেজার কেমন হবে সে সম্পর্কে ধারণা দেন ফ্যাশন ডিজাইনার মেহেবুব জাদু।

ব্লেজার ফর্মাল না ক্যাজুয়াল কিনবেন, সেটি আগে জেনে নিন। ছবি: ভারগো

কেমন হবে ব্লেজার বা কোটের ফিটিং

ব্লেজারের ফিটিংস যদি ঠিক না থাকে, তবে আপনার পুরো আউটফিট বেমানান হয়ে যাবে। যদি দামি ব্লেজারই পরেন না কেন সেটির ফিটিংস যদি ঠিক নাতে কোনো কাজে আসবে না। কীভাবে বুঝবেন আপনার ব্লেজারের ফিটিংস ঠিক নেই। 

তার প্রথম লক্ষণ সোল্ডার। খেয়াল করুন সোল্ডার ঠিকঠাক আছে কিনা। এটা যদি ঠিক না থাকে, তবে ব্লেজার বানানো বা কেনা বৃথা। তাই খেয়াল রাখুন সোল্ডারের পজিশন যেন ঠিক থাকে। সোল্ডার যেন সমান ও প্লেন থাকে।

ব্লেজারটি প্রথম বাটন লাগালে যেন বেশি টাইট মনে না হয় সেদিক খেয়াল রাখুন। যদি টাইট হয়, তবে হাত নড়াচড়া করলে ব্লেজারে ভাজ পড়বে। আর আপনার আউটফিট ভালো লাগবে না।

ব্লেজারের হাতা কেমন হবে, তা অনেকে বুঝতে পারেন না। খেয়াল রাখবে এটি আপনার হাতের কবজির কিছুটা উপরে থাকবে। সঠিক মাপ বললে কবজি থেকে হাফ ইঞ্চি উপরে থাকবে। এর বেশি না, আবার এর কমও না। কারণ আপনি ব্লেজার যখন পরবেন তখন যেন শার্ট দেখা যায়। তাই ব্লেজার কেনার সময় ফুল হাতা শার্ট পরে যেতে পারেন।

ব্লেজারের লম্বা কেমন হবে, জানেন? এর একটি সহজ নিয়ম রয়েছে। যদি আপনার উচ্চতা ৫ ফুট ৯ উপর হয়, তবে লম্বা হবে প্যাটের দুই পায়ের কাটা বরাবর। আর যদি নিচে হয়, তবে প্যাটের শুরু এবং কাটার মাঝ পর্যন্ত আসবে।

এবার আসা যাক ফেব্রিকের ব্যাপারে। এটা কিন্তু আপনাকে অবশ্যই দেখেশুনে নিতে হবে। কারণ সব কাপড় কিন্তু ব্লেজারের কাপড় নয়। ব্লেজার বানানো বা কেনার সময় খেয়াল রাখবেন, কাপড়টা যেন, উলের, কটন, ফ্লানেল ও লিনেন। এগুলোর মধ্যে যেকোনো কাপড় আপনি ব্লেজার বানানোর জন্য কিনতে পারেন।

তারপরই খেয়াল করতে হবে লেপেল। এটা মূলত ব্লেজারের কলার নিচের দিকে আসতে একটা কাটা থাকে, সেটিই লেপেল। এটা সাধারণত দুই ধরনের হয়ে থাকে। একটি নচ লেপেল অন্যটি পিক লেপেল। ক্যাজুয়াল হলে নচ লেপেলই ভালো। আর আমাদের দেশে এই লেপেলের চল বেশি।

ব্লেজারে অনেক ধরনের পকেট থাকতে পারে। তবে আপনি কেনার সময় দুই ধরনের পকেট দেখে কিনতে পারেন। এই দুটি পকেট আমাদের দেশে বেশি দেখা যায়। আর আপনার ব্লেজারকে মানানসই রাখতে যেকোনো একটি বেছে নিতে পারেন। একটি জেটেড, অন্যটি ফ্লাপ পকেট।

ব্লেজারের কালার যত সাধারণ রাখবেন আপনাকে ততোটাই আকর্ষণীয় লাগবে। তাই খুব বেশি রঙ বা ভিন্ন কালারের ব্লেজার কিনবেন না। নিজের রুচির বিষয়টি প্রাধান্য দিয়ে ব্লেজারের রঙ পছন্দ করুন। নেভি, নেভিব্লু, ব্ল্যাক ও গ্রে, এই রঙগুলো অফিসের জন্য সবচেয়ে ভালো। 

প্লেইড ব্লেজার, উইন্ডো পিন ব্লেজার, হেয়ারিং বোন ব্লেজার, পিন স্ট্রাইপ ব্লেজার এই প্যাটার্নের ব্লেজারগুলো ক্যাজুয়াল ফর্মালের জন্য সবচেয়ে ভালো হতে পারে।