পোশাকে যেসব রঙ ব্যবহার হয়, তার বেশিরভাগই কেমিক্যাল। আর এসব রঙ পরিবেশ ও মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। শুধু তা-ই নয়, এই রঙ মাটির উর্বরতা কমায়, বায়ুমণ্ডল, নদী ও জলাভূমি দূষিত করে। তাই এসব ক্ষতিকর রঙের বদলে প্রাকৃতিক রঙের পোশাক নিয়ে কাজ করতে দেশীয় ফ্যাশন ব্র্যান্ড ‘উৎসব বুনন’।
প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী মঈন হাসান প্রিন্স জানান, ‘উৎসব বুনন পোশাক তৈরির প্রতিটি পর্যায়ে পরিবেশবান্ধব উপকরণ ব্যবহার করে। প্রকৃতি ও প্রতিবেশের ক্ষতি যেন না হয়, এ ব্যাপারে সচেষ্ট থাকে। আমাদের পোশাক ও অলংকারে বিশেষ নকশা, প্যাটার্ন এবং কারুকার্যে রয়েছে দেশের নানান জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যের প্রতিফলন। সেই সাথে আমরা চেষ্টা করছি বিভিন্ন আঞ্চলিক ও পাহাড়ি মানুষকে আমাদের কাজের সাথে যুক্ত করতে।’
কাপড় ডাইং করতে সম্পূর্ণ প্রকৃতি থেকে প্রাপ্ত উপাদান যেমন- উদ্ভিদ, প্রাণী, পোকামাকড় এবং খনিজ উৎস ব্যাবহার করার প্রক্রিয়াকে বলা হয় ন্যাচারাল ডাই। সবই প্রাকৃতিক রঙ। যেমন- কমলা রঙ পেঁয়াজের খোসা থেকে পাই। ব্রাউন পাই ড্যান্ডিলিয়ন শিকড়, চা পাতা, কফি ও খয়ের ইত্যাদি থেকে। গোলাপি রঙটা খুব ইন্টারেস্টিং এটা চেরি, লাল এবং গোলাপি গোলাপ, মন্জিত ইত্যাদি থেকে পাওয়া যায়।
নীল হলো ন্যাচারাল ডাই জগতের শ্রেষ্ঠ বা প্রাইম রঙ। যা শুধুমাত্র ইন্ডিগো থেকেই নেয়া হয়। এছাড়া হরতকি ছোট বড়, গাঁদা ফুল, আম পাতাসহ আরও নানান জায়গা অনেক রং নেয়া যায়। তবে সব ধরনের ফেব্রিক ন্যাচারাল ডাইয়ের জন্য ব্যবহার করা যায় না।
সম্প্রতিকালে প্রতিষ্ঠানটি ইকো প্রিন্ট নিয়ে কাজ শুরু করেছে। যা বাংলাদেশে নেই বললেই চলে। আমাদের দেশে বাণিজ্যিক ভাবে এখনও ইকো প্রিন্ট শুরুই হয়নি। উন্নতি বিশ্বে দিনকে দিন ইকো প্রিন্টের চাহিদা বাড়ছে। তাই তো উৎসব বুনন ইকো প্রিন্টের তৈরি পোশাক ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ ট্যাগের মাধ্যমে বিদেশে রপ্তানি করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
ইকো প্রিন্ট একটি প্রাকৃতিক ছাপা কৌশল। যেখানে উদ্ভিদ, ফুল, পাতা, এবং অন্যান্য প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করে কাপড়ে সরাসরি ছাপানো হয়। এই প্রক্রিয়ায় প্রাকৃতিক রঙ এবং ডিজাইন তৈরির জন্য উদ্ভিদের রঙিন রস এবং ট্যানিন ব্যবহার করা হয়। ইকো প্রিন্টের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এটি পরিবেশবান্ধব এবং রাসায়নিক মুক্ত। যা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে ধরে রাখে এবং পরিবেশের কোনো প্রকার ক্ষতি করে না।
দেশীয় এই পোশাকের ব্র্যান্ডটি কাজ করছে বাংলার ঐতিহ্যবাহী মসলিন, রাজশাহী সিল্ক ও কটনসহ নানান ফেব্রিক নিয়ে। তাদের রয়েছে ন্যাচারাল ডাই বা প্রাকৃতিক রঙের পোশাক। তাদের মেয়েদের কালেকশনে রয়েছে শাড়ি, কাফতান, ফতুয়া এবং কামিজ। নারীদের শাড়ির মধ্যে থাকছে মসলিন, সিল্ক, কটন এবং এন্ডি কটন। আর ছেলেদের জন্য মিলবে পাঞ্জাবি, ফতুয়া ও শার্ট। যেখানে ফেব্রিক হিসেবে ব্যবহার হয়েছে মসলিন, কটন এবং এন্ডি কটন। এছাড়াও রয়েছে সাসটেইনেবল ব্যাগ, শাল, স্কার্ফ এবং নানা ধরণের অলংকার।
প্রাকৃতিক রংয়ের পোশাক কিনতে চাইলে ঘুরে আসতে পারেন তাদের ফেসবুক পেজ www.facebook.com/share/1CbiqmoNgh/ থেকে।