লাবুবু পুতুলের পেছনে হুমড়ি খেয়ে পড়েছে তরুণ প্রজন্ম। সামাজিক মাধ্যমে চোখ রাখলেই বোঝা যায়, এই ছোট্ট পুতুলগুলো ঘিরে তৈরি হয়েছে এক রকম উন্মাদনা। দোকানে দোকানে হুলুস্থুল, রিসেল মার্কেটে অতিরিক্ত দাম, আর মুহূর্তেই ‘সোল্ড আউট’। সব মিলিয়ে এখন লাবুবু পাওয়া মানে যেন লটারি জেতা।
কিন্তু যারা এই ‘ফ্যাশন লটারিতে’ জিততে পারেননি, তাদের জন্যও ভালো খবর আছে। কারণ লাবুবু না পেলেও ব্যাগ সাজানোর কিউট চার্মের অভাব নেই বাজারে। বরং ফ্যাশনপ্রেমীরা এখন নিজের ব্যাগকে সাজাচ্ছেন নানা রকম স্টাইলিশ অলংকারে। যেগুলো একদিকে যেমন নজরকাড়া, অন্যদিকে তেমন ব্যক্তিত্বেরও পরিচায়ক।
পিন্টারেস্টের সাম্প্রতিক এক পরিসংখ্যান বলছে, ‘ব্যাগ চার্ম’ সংক্রান্ত অনুসন্ধান আগের বছরের তুলনায় সাত গুণ বেড়েছে। এমনকি নামিদামি ব্র্যান্ডগুলোও এই ট্রেন্ডে গা ভাসিয়েছে। মিউ মিউ ও কোচের মতো বিলাসবহুল ব্র্যান্ডের র্যাম্পে দেখা গেছে চার্মে সাজানো ব্যাগের ছড়াছড়ি।
কী কী চার্মে সাজানো যায় ব্যাগ?
চাবির রিং, তবে একটু স্টাইল করে
চাবির রিং বা কীচেইন এখন আর শুধু চাবি রাখার বস্তু নয়। বরং ফ্যাশনের একটি অংশ। হিপস্টার বা স্ট্রিট ফ্যাশনপছন্দীদের কাছে এগুলো দারুণ জনপ্রিয়। কখনো কখনো এগুলোর সঙ্গে জুড়ে থাকে কোনও অনুপ্রেরণামূলক বার্তা বা মজার শব্দ। চলার পথে বাজতে থাকা ছোট্ট শব্দও যেন আপাকেই জানান দেয়।
লেদারে তৈরি প্রাণী
কোচ বেশ কিছু দিন ধরেই বাজারে ছেড়েছে ছোট ছোট লেদার প্রাণী। ডাইনোসর, বিড়াল কিংবা ইউনিকর্ন, এই সব প্রাণীই এখন ব্যাগে ঝুলে থাকছে স্টাইল স্টেটমেন্ট হিসেবে। যারা একটু পলিশড, ক্লাসিক ও মজার কিছু চান। তাদের জন্য এগুলো আদর্শ হতে পারে।
ঝকমকে পাথর, তবে বাজেট বুঝে
ইশা আম্বানি নিজের ব্যাগে যেভাবে হীরা ঝুলিয়ে রাখেন, তা হয়তো আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। তবে কাস্টমাইজ করা অ্যামেরিকান ডায়মন্ড বা কৃত্রিম পাথরের চার্ম দিয়ে বেশ ভালোভাবেই ঝলমলে করা যায় আপনার ব্যাগকে।
হাতে বানানো মনছোয়া চার্ম
ইনস্টাগ্রাম আর অ্যামাজন এখন যেন হয়ে উঠেছে ছোট ছোট হস্তশিল্পের গ্যালারি। ক্রোশে দিয়ে বানানো স্ট্রবেরি, টুপি পরা ব্যাঙ, কিংবা ছোট্ট সূচিশিল্পের ভূত। এ রকম হাজার রকম হাতে বানানো চার্ম পাওয়া যায় সেখানে। এই ধরনের চার্ম শুধু ইউনিক নয়, বরং এক ধরনের আর্টও বটে।
লাবুবু না পেলেও মন খারাপের কিছু নেই। ব্যাগ সাজানোর এই রঙিন জগতে আছে আরও অনেক বিকল্প। নিজের স্টাইল আর মনের মতো করে সাজিয়ে নিন ব্যাগ। কারণ ফ্যাশন মানেই তো নিজেকে প্রকাশ করা। একটু অভিনবভাবে, একটু ভিন্নভাবে।