প্যারিস ফ্যাশন উইকের মঞ্চে এবার আভিজাত্যের সঙ্গে আরামের বিষয়টি মাথায় রেখেছে লুই ভিতোঁ। লুভর মিউজিয়ামের দক্ষিণ উইংয়ে লুই ভিতোঁ’র বসন্ত/গ্রীষ্ম ২০২৬ সংগ্রহে তুলে ধরা হলো এক নতুন ধাঁচের ফ্যাশন। যেখানে বিলাসিতা নয়, পোশাকে স্বস্তি আর প্রশান্তিই হয়ে উঠেছে মূল ভাবনা।
এই প্রদর্শনীর নেপথ্যে আছেন ফ্রেন্স ফ্যাশন ডিজাইনার নিকোলাস ঘেসকিয়ের। তিনি বললেন, ‘আমি পোশাকের মাধ্যমে দর্শকদের এমন এক অনুভূতি ভাগ করতে চেয়েছি, যাতে আপনি পাবেন ঘরের আরাম। সেই আরামের ছোঁয়াই ছিল এই সংগ্রহের মূল অনুপ্রেরণা।’
মিউজিয়ামের ঐতিহাসিক এই অংশ একসময় ছিল ফ্রান্সের রানি অ্যান অব অস্ট্রিয়ার গ্রীষ্মকালীন বাসভবন। সেই স্থানটি সাজানো হয়েছিল আর্ট ডেকো আসন ও উনিশ শতকের ভাস্কর্যে। এই ব্যাকড্রপেই মডেলরা হেঁটেছেন ফ্ল্যাট স্লিপারে। আর তাদের পরনে ছিল নরম নিট টপ, সিল্কের পায়জামা, স্টাইলের প্যান্ট আর ঢিলেঢালা বারমুডা।
এই পোশাকগুলোর নকশা ঘেসকিয়েরের সাম্প্রতিক ফ্যাশন নিয়ে তাঁর চিন্তা-ভাবনাকে স্পষ্ট করেছে। যেখানে গ্ল্যামারের পাশাপাশি থাকে বাস্তব জীবনের আরাম। র্যাম্পে দেখা গেল নিট কার্ডিগান, গভীর পকেটওয়ালা কোট, আর কাঁধ খোলা রাখা গাউন। স্টাইলিশ এসব পোশাক যেন বলে দিল, বিলাসিতা মানে শুধু ঝলমলে কাপড় নয়। বরং পোশাকের মধ্যে নিজের স্বস্তি খুঁজে নেওয়াও একধরনের এলিগ্যান্স।
শোয়ের প্রথম সারিতে ছিলেন কে-পপ তারকা লিসা। যিনি ফ্রান্সের ফার্স্ট লেডি ব্রিজিত মাখোঁ’র সঙ্গে ছবি তুলেছেন। উপস্থিত ছিলেন গায়ক ফেলিক্স, অভিনেত্রী জেন্ডায়া ও এমা স্টোনও। তাঁদের উপস্থিতি যেন শোয়ের গ্ল্যামার বাড়িয়ে তুলেছে আরও কয়েকগুণ।
২০১৩ সাল থেকে লুই ভিতোঁ’র নারী পোশাক বিভাগের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ঘেসকিয়ের। ফ্যাশন দুনিয়ায় যখন একের পর এক ব্র্যান্ডে সৃজনশীল পরিবর্তনের ঢেউ বইছে। তখনও তিনি নিজের জায়গা ধরে রেখেছেন দারুণ দৃঢ়তায়।
এই প্যারিস ফ্যাশন উইক চলবে ৭ অক্টোবর পর্যন্ত। এবারের আসরে নতুন সংগ্রহ তুলে ধরবে শ্যানেল, বালেন্সিয়াগা ও লোয়ের মতো নামী ব্র্যান্ডও। সব মিলিয়ে, প্যারিস যেন এখন ফ্যাশন দুনিয়ার সবচেয়ে আলোচিত শহর। যেখানে প্রতিটি প্রদর্শনী বলছে নতুন এক রুচির গল্প।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স