যারা ঝাল খেতে পছন্দ করেন, তাদের কাছে পছন্দের একটি সস শ্রীরাচা। বিশেষ করে ফাস্ট ফুড বা বিভিন্ন রেসিপিতে এই সসের ব্যবহার বাড়ছে। কিন্তু কী রয়েছে এই সসের মধ্যে, যা এটিকে এত জনপ্রিয় করে তুলেছে?
শ্রীরাচা সস প্রথম তৈরি হয়েছিল থাইল্যান্ডের সি রাচা শহরে। ১৯৩০ সালে থাইল্যান্ডের থানোম চাক্কাপাক নামক এক ব্যাক্তি প্রথম শ্রীরাচা সস তৈরির কাজ শুরু করেন। তবে বর্তমানে যে সসটি বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে, সেটি তৈরি করেছিলেন ভিয়েতনামী ইমিগ্রান্ট ডেভিড ট্রান। ১৯৮০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে হুয় ফং ফুডস নামক প্রতিষ্ঠান শ্রীরাচা সস তৈরি শুরু করে।
হুয় ফং শ্রীরাচা সসের স্বাদ রয়েছে মিষ্টি, টক এবং রসুনের মিশ্রণ। শ্রীরাচার ঝাল আসে লাল জালাপেনো মরিচ থেকে। তবে তা খুব বেশি ঝাল নয়। এটি মোটামুটি মাঝারি ঝালের। স্কোভিল স্কেলে এর মান ২,২০০ যা টাবাসকো সসের (৩,৭৫০) তুলনায় কম ঝাল। শ্রীরাচা সসের মূল উপাদান মরিচ, চিনি, লবণ, রসুন, ভিনেগার এবং কিছু প্রিজারভেটিভস। এটি কেচাপের মতো ঘন, যা বিভিন্ন খাবারের সঙ্গে সহজেই দেওয়া যায়।
শ্রীরাচা সস যে শুধু ঝাল দেয় এমন নয়। এতে রয়েছে মিষ্টি-ঝালের মিশ্রণ। বিভিন্ন খাবারের সঙ্গে এই সসের ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। আপনি এটাকে স্যান্ডউইচ, বার্গার, সূপ, ফ্রাই বা নুডলসের সঙ্গে ব্যবহার করতে পারেন। এমনকি শ্রীরাচা সস এবং মেওনেজ মিশিয়ে মাইল্ড সসও তৈরি করা যায়। এটি ডিপিং সসের বিকল্প হতে পারে।
বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়তার পরেও শ্রীরাচার সফলতার পেছনে একটি বড় কারণ ছিল বিপণন কৌশল। প্রচারণা ছাড়া শুধুমাত্র ফ্লেভার ও সুস্বাদুতা দিয়েই শ্রীরাচা নিজে থেকেই বাজারে স্থান করে নিয়েছে। হুয় ফং ফুডস এখন একদিনে ৩ হাজার বোতল শ্রীরাচা তৈরি করে। এভাবেই শ্রীরাচা পৃথিবীজুড়ে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
শ্রীরাচারের মিষ্টি-ঝাল মিশ্রণ এখন শুধু রেস্টুরেন্ট বা ফাস্টফুড চেইনে নয়। বরং বাড়ির রান্নাতেও এক অপরিহার্য উপাদান হয়ে দাঁড়িয়েছে। শ্রীরাচা প্রায় সব খাবারের সঙ্গে ব্যবহার করা যায়। আপনি এটি ফ্রাইয়ের ডিপিং সস হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। মাইল্ড স্বাদের জন্য শ্রীরাচা এবং মেওনেজ মিশিয়ে সস তৈরি করতে পারেন।
এছাড়া বার্গার বা স্যালমনের রাইস বোলের ওপর শ্রীরাচা ছড়িয়ে দিন, যা খাবারে অতিরিক্ত ঝাল যোগ করবে। এটি অত্যন্ত বৈচিত্র্যময় সস। তবে সতর্ক থাকুন, কারণ শ্রীরাচা আসলেই এক ধরনের আসক্তি তৈরি করতে পারে।
তথ্যসূত্র: দ্য কিচেন, দ্য টেকআউট