বিশ্বকাপের আয়োজাক দেশের খাবার মিলবে ঢাকায়

ফুটবল মানেই শুধু গোলের হিসাব নয়। এটি আবেগ আর সংস্কৃতির মহামিলন। আর সেই আবেগ এবার স্টেডিয়াম থেকে সরাসরি পৌঁছে গেছে ঢাকার পাঁচ তারকা হোটেলের ডাইনিং টেবিলে। বিশ্বকাপের উত্তেজনাকে নতুন স্বাদে মাখতে হাজির হয়েছে ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকা। তাদের বিশেষ আয়োজন ‘ওয়ার্ল্ড কাপ ফ্লেভার্স’ নিয়ে।

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ। আয়োজক তিন দেশ- যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো। মাঠের রোমাঞ্চকে ঘিরেই গত ২৪ জুন সন্ধ্যায় আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করেছে এই ব্যতিক্রমী ফুড ফেস্টিভ্যাল। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হোটেলের ডিরেক্টর অব ফুড অ্যান্ড বেভারেজ অলিভিয়ের লোরো, এক্সিকিউটিভ শেফ জুলিয়ান শীতল বোটলেরো এবং ডিরেক্টর অব মার্কেটিং সাদমান সালাহউদ্দিন। গণমাধ্যমকর্মী ও আমন্ত্রিত অতিথিদের সামনে প্রতীকীভাবে বিশ্বকাপের বলে কিক করেই শুরু হয় এই রসনা-উৎসব।

কেন এই আয়োজন? ডিরেক্টর অলিভিয়ের লোরো বলছেন স্পষ্ট করে, ‘ফুটবল শুধু খেলা নয়। এটি মানুষ, সংস্কৃতি আর আবেগকে এক সুতোয় বাঁধে। আমরা চেয়েছি খাবারের মাধ্যমেই তিন আয়োজক দেশের সংস্কৃতিকে অতিথিদের প্লেটে তুলে দিতে।’

আর সেই ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিয়েছেন এক্সিকিউটিভ শেফ জুলিয়ান শীতল বোটলেরো। তাঁর নেতৃত্বে কালিনারি টিম সাজিয়েছে দুই শতাধিক পদ। মেন্যুর মূল আকর্ষণ যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর স্ট্রিট ফুড থেকে শুরু করে সিগনেচার ডিশ পর্যন্ত।

তালিকায় কী নেই? আমেরিকান ক্লাসিক ম্যাক অ্যান্ড চিজ, বার্গার, হটডগ, বাফেলো উইংস আর জুসি বিফ স্টেক। কানাডার ঐতিহ্যবাহী পুটিন আর ম্যাপেল সিরাপের ছোঁয়া। মেক্সিকোর টাকোস, নাচোস উইথ সালসা, চিকেন ফাহিটাস, এনচিলাডাস, চিকেন এম্পানাডাস, কেসাডিয়া। সঙ্গে কাজুন গ্রিলড প্রনস, বারবিকিউ বিফ ব্রিসকেট, চিমিচুরি সসে চিকেন শাশলিক।

সালাদপ্রেমীদের জন্য আছে মেক্সিকান কর্ন সালাদ আর ওয়ালডর্ফ সালাদ। এশীয়, মধ্যপ্রাচ্য আর জাপানিজ সুশি-পিৎজাও জায়গা করে নিয়েছে বুফেতে।

ডেজার্ট স্টেশনে চোখ ধাঁধানো আয়োজন। মেক্সিকোর চুরোস, কি ওয়েস্ট লাইম টার্ট, নিউইয়র্ক চিজকেক, অ্যারোজ কন লেচে, কানাডার নানাইমো বার, অ্যাপল ক্রাম্বল, চকলেট ব্রাউনি আর ময়েস্ট চকলেট কেক। প্রতিটি পদে যেন একেকটি দেশের গল্প।

উৎসবের আমেজ শুধু খাবারেই থেমে নেই। এলিমেন্টস গ্লোবাল ডাইনিং সেজেছে বিশ্বকাপের রঙে। প্রবেশমুখে দর্শনার্থীদের স্বাগত জানাচ্ছে এবারের তিন মাসকট: ম্যাপেল, জায়ু ও ক্লাচ। দেয়ালে দেয়ালে উড়ছে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর পতাকা। আর ওপাস রেস্তোরাঁয় জায়ান্ট স্ক্রিনে চলছে বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচের সরাসরি সম্প্রচার। খেলা দেখুন, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিন, আর প্লেটে তুলে নিন বিশ্বকাপের স্বাদ।

এই বিশেষ বুফে নৈশভোজ চলবে ৩০ জুন পর্যন্ত, প্রতিদিন সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা থেকে রাত সাড়ে দশটা। জনপ্রতি খরচ পড়বে ১১ হাজার ৫০০ টাকা। তবে সুখবর আছে ফুডি আর ফুটবলপ্রেমীদের জন্য। নির্বাচিত ব্যাংক কার্ডে মিলছে একটি কিনলে তিনটি ফ্রি অফার। আর কার্ড না থাকলেও সমস্যা নেই। আইএইচজি ওয়ান রিওয়ার্ডসে তাৎক্ষণিক নিবন্ধন করলেই খাবার ও পানীয়ে পাচ্ছেন ২৫ শতাংশ ছাড়।

মার্কেটিং ডিরেক্টর সাদমান সালাহউদ্দিনের কথায়, ‘আমরা চাই বিশ্বকাপের উত্তেজনা শুধু টিভি স্ক্রিনে আটকে না থাকুক। খাবার, আড্ডা আর উদ্যাপনের মধ্য দিয়ে সেটি ছড়িয়ে পড়ুক সবার মাঝে।’

মাঠে যখন চলছে শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই, ঢাকার প্রাণকেন্দ্রে তখন চলছে স্বাদের বিশ্বকাপ। একদিকে গোলের চিৎকার, অন্যদিকে প্লেটে তিন মহাদেশের ফ্লেভার। ফুটবল আর ফুড, দুই আবেগ এখানে মিলেছে এক বিন্দুতে।