বর্তমানে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ‘টক্সিক’ শব্দটি বেশ শোনা যায়। বিশেষ করে প্রেম ও দাম্পত্যে। টক্সিক বলতে সাধারণত অসুখী সম্পর্ককে বোঝায়। আমাদের চারপাশে কিংবা সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন অসুখী সম্পর্কের কথা শুনে দাম্পত্য জীবন শুরু করা নিয়েই ভাবনায় পড়ে যান অনেকে।
সম্পর্কে উত্থান-পতন থাকবে। তবে সঙ্গীর সঙ্গে সুসম্পর্ক এবং ভালো থাকার চাবিকাঠি অনেকাংশে নির্ভর করে আমাদের নিজেদের আচরণের ওপর। ভালো খারাপ প্রত্যেকের মধ্যেই থাকে। কখনও শুধু ভালো কিংবা শুধু খারাপ দিকগুলোকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত নয়। বরং নিজেদের ছোট ছোট সমস্যা যদি নিজেরাই সমাধান করা যায় তাহলে তা উভয়ের জন্য ভালো। তবে দাম্পত্য সম্পর্ক সুস্থ স্বাভাবিকভাবে এগিয়ে নিতে কিছু বিষয়ে দুজনকেই গুরুত্ব দিতে হবে।
বিশ্বাস
একটি সুন্দর ও স্বাস্থ্যকর সম্পর্কের মূল উপাদান বিশ্বাস। একে অপরের প্রতি বিশ্বাস সুস্থ দাম্পত্য সম্পর্ক গড়তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। যদি আপনার অতীতের সম্পর্কগুলো নিরাপদ, স্থিতিশীল এবং বিশ্বাসযোগ্য হয়ে থাকে, তাহলে ভবিষ্যতের সম্পর্কের ক্ষেত্রে সঙ্গীকে বিশ্বাস করার সম্ভাবনা বেশি। আর যদি আপনার অতীতের সম্পর্ক হয় অস্থির এবং অবিশ্বস্ত, তাহলে আপনাকে কিছু সমস্যার মধ্য দিয়ে যেতে হতে পারে। এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, আপনি অতীত আঁকড়ে না থেকে বর্তমানকে গুরুত্ব দিন। সঙ্গীর ওপর বিশ্বাস ও আস্থা রাখুন।
পারস্পারিক সম্মান
সুন্দর সম্পর্কের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান পারস্পারিক সম্মান। একে অপরকে অবজ্ঞা বা অশ্রদ্ধা না করে বরং সম্মান করা উচিত। একে অপরের প্রতি সম্মান একটি সুস্থ দাম্পত্য সম্পর্কের জন্য অতি প্রয়োজনীয়।
ভালোবাসা
ভালোবাসা ছাড়া সুস্থ দাম্পত্য বলতে গেলে অসম্ভব। ভালোবাসা না থাকলে সম্পর্ক টক্সিক হয় বা বিষিয়ে ওঠে। সুস্থ দাম্পত্যে ভালোবাসা বা তীব্র আকাঙ্ক্ষা, আবেগ এবং ঘনিষ্ঠতা বজায় রাখা প্রয়োজন। অন্তরঙ্গতা ও ভালোবাসার স্পর্শ দাম্পত্যকে আরও উপভোগ্য করে।
বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক
আপনি একটি সুস্থ সম্পর্কের মধ্যে থাকলে, আপনার সঙ্গীকে সবচেয়ে কাছের বন্ধুদের একজন বলে মনে হবে। একসঙ্গে হাসি-আড্ডা ও খুনসুটির পাশাপাশি যেকোনো সমস্যার বিষয়ে সঙ্গীর সঙ্গে আলোচনা করবেন। দাম্পত্য সম্পর্ক শুধু শারীরিক ঘনিষ্ঠতাকে কেন্দ্র করে হয় না বরং একটি ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্বের ওপর গড়ে ওঠে।
অনেক সময় দেখা যায় দম্পতিদের পছন্দ-অপছন্দের মধ্যে খুব বেশি মিল নেই। এতে অনেক সম্পর্ককে চাপে ফেলতে পারে। একসাথে কথা বলার মতো বিষয়গুলো খুঁজে পাওয়া চ্যালেঞ্জিং মনে হতে পারে। তবে পছন্দের মিল না থাকলেও ধীরে ধীরে ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব গড়ে তোলা সম্ভব।
প্রতিশ্রুতি রক্ষা
সুস্থ সম্পর্কের জন্য অন্যতম বৈশিষ্ট্য প্রতিশ্রুতি রক্ষা। কথা দিয়ে কথা না রাখার অভ্যেস যেকোনো সম্পর্ক বিষিয়ে তোলে। তাই একটি সুন্দর দাম্পত্য সম্পর্কে প্রতিশ্রুতি রক্ষার প্রয়োজনীয়তা কিন্তু অসীম। একে অপরের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকলে এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ সময়ে একসাথে লড়লে সম্পর্ক আরও মজবুত হয়।
সুস্থ দাম্পত্য সম্পর্কে যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রয়োজনীয় যোগাযোগের অভাব সম্পর্কের জন্য বিপর্যয়কর হয়ে উঠতে পারে। তাই নিয়মিত একে অপরের কথা মনযোগ দিয়ে শোনা ও অনুভূতি প্রকাশ সম্পর্ককে সহজ করে। তা ছাড়া দুজনের মধ্যে সব বিষয়ে তৎক্ষণাৎ যোগাযোগ ও আলোচনা হলে ভুল বোঝাবুঝি অনেকাংশে কম হয়।
আন্তরিকভাবে সমস্যার সমাধান
একসঙ্গে থাকলে তর্ক বা বিবাদ হবেই। সুস্থ দাম্পত্যের জন্য এমন টুকটাক বিবাদ মেনে নিতে হবে। সময় নিয়ে ঠাণ্ডা মাথায় দুজনে আলোচনা করে বহু সমস্যা সমাধান করা সম্ভব। দুজনে আন্তরিক হলে সমস্যার সমাধান খুব সহজ হয়। এতে সুখী দাম্পত্য গড়ে ওঠে।
আনন্দ-উদযাপন
সুস্থ সম্পর্কের আরেকটি উপাদান হলো একসঙ্গে আনন্দ-উদযাপন করা। যদিও জীবনে চ্যালেঞ্জ রয়েছে, তারপরও আনন্দময় মুহুর্তগুলো উদযাপন করা উচিত। ছোট ছোট আনন্দের মুহূর্তগুলো দীর্ঘমেয়াদী সুখী দাম্পত্যে ভূমিকা রাখে। হাসির কথা বলে কিংবা মজার কোনো ঘটনা শেয়ার করে একে অপরকে আনন্দ দিন।
কর্মব্যস্ত সময় থেকেও সঙ্গীর জন্য আলাদা সময় রাখুন। একসঙ্গে বাইরে কোথাও বেড়াতে যেতে পারেন। একান্তে দুজনের নানা কথা আলোচনা করতে পারেন। মাঝেমধ্যে কোথাও ঘুরে আসা সম্পর্কে বৈচিত্র্য আনতে সাহায্য করে। এতে একঘেয়েমি কাটিয়ে দাম্পত্য সম্পর্ক সুস্থ ও সুন্দর হয়।
তথ্যসূত্র: বেটারহেল্প, টাইম ম্যাগাজিন, ভেরিওয়েল মাইন্ড