জীবনসঙ্গী খুঁজতে গেলে যেসব বিষয় মাথায় রাখতেই হবে

ভালোবাসা আমাদেরকে ভালো থাকতে সাহায্য করে। প্রেমের সম্পর্কে অক্সিটোসিন হরমোন তৈরি হয়। তাই একে আদর করে 'লাভ হরমোন' বলা হয়। প্রেমে পড়ার প্রথম ছয় মাস এটা তুঙ্গে থাকে। কাজেই আপনাকে বুঝে নিতে হবে যে, এই দিন দিন নয়, আরো দিন আছে।

এই অক্সিটোসিন হরমোনের গল্প গর্ভধারণের আগেই শুরু হয়, যা গর্ভধারণ এবং পরবর্তী সময় চলতে থাকে। যা মস্তিষ্ক থেকে শুরু করে হৃদয়ের পথ বেয়ে সমস্ত শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। এটি আপনার আবেগ (আনন্দ, আকর্ষণ, প্রেম, মমতা, ঘৃণা) প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নিয়ন্ত্রণ করে।

আসুন জেনে নিন, জীবনসঙ্গী খুঁজতে কোন বিষয়গুলো মাথায় রাখবেন–

আমি কেমন?

প্রথমেই নিজের চোখে আয়না ধরুন, নিজেকে প্রশ্ন করুন আমার মধ্যে কী কী খুঁত আছে? আমার কোন কোন বিষয়ে সংশোধন করা প্রয়োজন? সমাজে নিজেকে সততার সঙ্গে প্রতিষ্ঠিত করতে গেলে কোন কোন অভ্যাসগুলোর চর্চা করতে হবে।

ভালোবাসা আমাদেরকে ভালো থাকতে সাহায্য করে। ছবি: ফ্রিপিকপেশাগত সাফল্য

চাকরি কিংবা ব্যবসা বা যেকোনো সম্মানজনক পেশা আপনাকে অন্যের জীবনসঙ্গী হিসেবে আকর্ষণীয় করবে। অনেক নারীই মনে করেন, তার সমস্ত খরচ মেটানোর দায়িত্ব তার স্বামীর। এটা কিন্তু ভ্রান্ত ধারণা। মানুষের বাবা-মা যেখানে সবার সব শখ মেটাতে পারেন না, জীবনসঙ্গী কেন সেই দায়ভার নেবেন? আবার অনেক স্বামী তাঁর স্ত্রীকে চাকরি করতে দিতে চান না। ভাবুন তো, যদি কোনো কারণে স্বামী যদি অসুস্থ হন  কিংবা মৃত্যু হয়, তাহলে স্ত্রী কি সন্তানদের নিরাপদ ভবিষ্যৎ দিতে পারবে? যদি না স্ত্রীর নিজস্ব নিরাপদ ক্যারিয়ার থাকে?

সমঝোতা এবং মানিয়ে নেওয়ার মানসিকতা

সম্পর্কে পারস্পরিক অসামঞ্জস্যতা থাকবেই। হাতের পাঁচটি আঙুল সমান নয়। কাজেই মানিয়ে নেওয়ার মানসিকতা প্রয়োজন। কারণ সবকিছু নিজের পছন্দ মতন হবে না। নিজের পছন্দ এবং কখন অন্যের পছন্দকে গুরুত্ব দেবেন সে ব্যাপারে নিজের স্পষ্ট ধারণা থাকা প্রয়োজন।

অন্যের প্রতি যত্নশীল

আমাদের সকলের অন্যের প্রতি যত্নশীল হওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি অন্যের মর্যাদা এবং সম্মান প্রদান করাও প্রয়োজন। সেই সঙ্গে নিজের আত্মমর্যাদা বজায় রাখা দরকার।

উচ্চাকাঙ্ক্ষা বা চাহিদা

মানুষের জীবনে অতি উচ্চাকাঙ্ক্ষা বা চাহিদা সম্পর্ককে নষ্ট করে দেয়। কারণ লোভী মানুষেরা জীবনে সততা আনতে পারেন না। তাকে বেশিরভাগ মানুষ অপছন্দ করেন। তাই লোভ লালসা থেকে দূরে থাকুন।

দায়িত্বশীল এবং সিদ্ধান্ত

দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো যোগ্যতাসম্পন্ন মানুষ জীবনসঙ্গী হিসেবে পাশে থাকলে জীবন যুদ্ধে ঠিকে থাকা কিছুটা হলেও সহজ হয়। এতে অনেক কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হলেও কোনো না কোনো সমাধান খুঁজে পাবেন।

দিন শেষে আমরা একটা মানুষ আরেকটা মানুষের সাথে সংযুক্ত। We are not independent we are interdependent. আমরা ভালোবাসতে চাই, ভালোবাসা পেতে চাই।

প্রণব রায়ের সেই গানের মত,

'হৃদয় আমার সূর্যমুখীর মত

মুখ পানে তব চেয়ে রয়,

চেয়ে রয় অবিরত,

ভীরু ভালোবাসা মম

জ্বলে প্রদীপের শিখা সম

নিজেকে দহিয়া তব উজলায়।'

যারা আন্তঃসম্পর্কের মতামতের অমিল সত্ত্বেও নিজেকে স্বচ্ছতার সঙ্গে তুলে ধরেন, জীবনসঙ্গীকে মর্যাদার সঙ্গে বোঝার চেষ্টা করেন, তাঁদের প্রতি সশ্রদ্ধ ভালোবাসা।

লেখক: কাউন্সিলর, সাইকোথেরাপি প্র্যাকটিশনার ফিনিক্স ওয়েলনেস সেন্টার