ভ্রমণের চেয়েও রোমাঞ্চকর আর কিছু হতে পারে না। কিন্তু টিকিট, পাসপোর্ট, চার্জার কিংবা সানগ্লাসের সঙ্গে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে জিনিসটি থাকে, সেটি হলো পোশাক। ঠিকঠাক পোশাক বাছাই না করলে পুরো ভ্রমণটাই হয়ে যেতে পারে এলোমেলো। গন্তব্যে পৌঁছেই আয়রন খোঁজার ঝক্কি কিংবা ব্যাগ খুলেই ভাঁজভর্তি শার্ট দেখে মুখ গোমড়া হয়ে যাওয়া, এ অভিজ্ঞতা অনেকেরই আছে।
তবে একটু পরিকল্পনা করলেই ভ্রমণ হতে পারে আরামদায়ক, আর পোশাক নির্বাচনও স্মার্ট ও ঝামেলামুক্ত। নিচে রইল এমন কিছু পরামর্শ। যেগুলো মেনে চললে পোশাক আর আপনার মাথাব্যথার কারণ হবে না।
ভাঁজপ্রবণ কাপড়, না-ই রাখাই ভালো
অনেকেই ভাবেন, ভ্রমণে লিনেন পরলে ছবি ভালো আসবে। বাস্তবতা হলো, একটু বসলেই কিংবা হালকা ভাঁজ করলেই কাপড়ে দাগ পড়ে যায়। তাই এমন কাপড় বেছে নিন, যেগুলো সহজে ভাঁজ পড়ে না।
মডাল, টেনসেল, নিট কাপড়, ক্রিঙ্কল কটন কিংবা পারফরম্যান্স ব্লেন্ড, এই ধরনের কাপড় ভ্রমণের জন্য একেবারে উপযোগী। ব্যাগ গুছানোর আগে কাপড়টি হাতে নিয়ে একটু চেপে ধরে ‘স্ক্রাঞ্চ টেস্ট’ করে নিতে পারেন। যদি কাপড়ে স্থায়ী ভাঁজ পড়ে, সেটি বাদ দিন।
ক্যাপসুল ওয়ার্ডরোবই যথেষ্ট
ব্যাগ বোঝাই না করে বরং পরিকল্পনা করে নির্দিষ্ট কিছু পোশাক রাখুন। যেগুলো দিয়ে মিশিয়ে-মেলিয়ে নানা রকম লুক তৈরি করা যাবে। এক জোড়া নিউট্রাল ট্রাউজার, এক-দুটি ট্যাংক টপ, আরামদায়ক বাটন-ডাউন শার্ট, একটি মিডি স্কার্ট, আর ক্রিজমুক্ত একখানা জাম্পস্যুট। এই কটি পোশাক দিয়েই বেশ কয়েক দিন পার করা যায়।
জুতার ব্যাগে ওজন বাড়াবেন না
ভ্রমণের সময় হিল বা বুট পরে হাঁটা যতটা ফ্যাশনেবল মনে হয়, বাস্তবে তা ততটাই অস্বস্তিকর। ব্যাগের অর্ধেক জায়গা জুতা খেয়ে ফেলে, আবার হাঁটার সময় আরামদায়কও নয়। স্মার্ট ভ্রমণের জন্য দরকার সঠিক জুতা। এক জোড়া আরামদায়ক স্নিকার্স, এক জোড়া স্লাইড বা স্যান্ডেল। আর চাইলে একটি মিউল বা এসপাড্রিল রাখতেই পারেন, সন্ধ্যার আড্ডার জন্য।
হালকা লেয়ারই সমাধান
নতুন জায়গায় আবহাওয়া কেমন হবে, তা বলা কঠিন। দুপুরে রোদ, সন্ধ্যায় ঠান্ডা, সবই হতে পারে। তাই ব্যাগে রাখুন একটি ডেনিম জ্যাকেট, একটি পাতলা শ্রাগ বা হালকা ব্লেজার। জায়গা খুব একটা বেশি নেবে না, কিন্তু প্রয়োজনের সময় অনেক উপকারে আসবে।
বাড়তি অ্যাকসেসরিজ নয়
ভ্রমণের সময় অতিরিক্ত গয়না বা সাজসজ্জার জিনিস না নেওয়াই ভালো। বরং এমন কিছু নিন, যা সাধারণ লুককেও স্টাইলিশ করে তোলে। একটা স্কার্ফ, যেটি হেডব্যান্ড হিসেবেও পরা যায়। এক জোড়া স্টেটমেন্ট ইয়াররিং, একটি ক্রসবডি ব্যাগ আর এক জোড়া স্টাইলিশ সানগ্লাস। ব্যাস, এতেই পুরো লুক ফটো রেডি।
ভ্রমণ জীবনের আনন্দময় অংশ। পোশাক যদি সেটির মাঝে বাধা হয়ে দাঁড়ায়, তবে তা শুধরানো দরকার। তাই এবার যখন ব্যাগ গোছাবেন, পোশাক বাছাইয়ের সময় এই কথাগুলো মনে রাখুন। কম পোশাক, বেশি কম্বিনেশন, আরামদায়ক স্টাইল আর ঝামেলামুক্ত ফ্যাশন। এই হোক আপনার ভ্রমণমন্ত্র।