১৪ দেশকে এক সুতোয় গেঁথেছে এই সড়ক

আলাস্কার আর্কটিকের হিমেল প্রান্ত থেকে শুরু করে প্যাটাগোনিয়ার ঝড়ো উপকূল পর্যন্ত, একটি সড়কই বেঁধে রেখেছে দুই মহাদেশকে। এমন এক সড়ক, যা কোনোদিন পেছনে ফিরতে বলে না, শুধু সামনের দিকে এগিয়ে যেতে থাকে। এটাই প্যান-আমেরিকান হাইওয়ে, বিশ্বের দীর্ঘতম আন্তর্জাতিক সড়ক।

এই রুট শুরু হয় আলাস্কার প্রুধো বে-তে, যেখানে বরফে ঢাকা ভূমি আর তেলের খনি মিলেমিশে আছে। সেখান থেকে পথ গিয়ে পৌঁছায় আর্জেন্টিনার উশুয়াইয়া শহরে, যা অ্যান্টার্কটিকার আগে শেষ মানববসতি। এর মাঝেই ১৪ দেশ- কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো, গুয়াতেমালা, এল সালভাদর, হন্ডুরাস, নিকারাগুয়া, কোস্টারিকা, পানামা, কলম্বিয়া, ইকুয়েডর, পেরু, চিলে এবং আর্জেন্টিনা।

এই হাইওয়ে কেবল ডামরের সড়ক নয়; এটি এক সাংস্কৃতিক করিডর। যেন এক মালার মতো গাঁথা নানা রূপের রত্ন। কানাডার পাইন বন, মেক্সিকোর মরুভূমি, কোস্টারিকার অরণ্য, কলম্বিয়ার কফির শহর, চিলির আঙুরখেত আর শেষ প্রান্তে প্যাটাগোনিয়ার খাঁজকাটা পর্বতশৃঙ্গ। অবশ্য পথে এক জায়গায় ভেঙে গেছে এ যাত্রা। পানামা আর কলম্বিয়ার মাঝের দারিয়েন গ্যাপ নামের অরণ্যজঙ্গল। এই ভাঙনই আসলে হাইওয়েকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে।

আমেরিকাগুলোকে এক সড়কে যুক্ত করার ভাবনা আসে ১৯২০-এর দশকে। উদ্দেশ্য ছিল দেশগুলোর মধ্যে ঐক্য, ভ্রমণ ও পর্যটনের প্রসার আর মানুষের যাতায়াত সহজ করা। ১৯৩৭ সালে ১৪টি দেশ একসঙ্গে এই প্রকল্পে সই করে। ষাটের দশকের শুরুতেই আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়, প্যান-আমেরিকান হাইওয়ে খোলা হলো।