হঠাৎ ফ্লাইট বাতিল, কী করবেন?

হঠাৎ ফ্লাইট বাতিল হলে যাত্রীরা হতবাক ও সমস্যায় পড়েন। কখনো নিরাপত্তা হুমকি, আবহাওয়া, বিমানবন্দর দুর্ঘটনা বা অপারেশনাল জটিলতার কারণে বিমান সংস্থা ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য হয়।

সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা ভালো উদাহরণ। দুবাই যাচ্ছিল ইমিরের্সের একটি ফ্লাইট মাঝপথে ফিরে আসে। কারণ দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে ড্রোন হামলার ফলে আগুন লেগে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। একই সময় অনেক এয়ারলাইন্স ফ্লাইট বাতিল বা স্থগিত করে। যা যাত্রীদের জন্য বিশাল ঝুঁকি এবং অসুবিধা সৃষ্টি করে।

কেন ফ্লাইট বাতিল হয়?

প্রাথমিকভাবে ফ্লাইট স্থগিত হওয়ার মানে সাধারণত কোন রকম বিলম্ব। তবে কখনো এটি নিরাপত্তা, সুরক্ষা বা লজিস্টিক সমস্যার কারণে হয়। বিশেষ করে বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্য বা অন্যান্য অঞ্চলে চলমান সংঘাতের কারণে আকাশপথ অনিশ্চিত হয়ে যাচ্ছে।

সাধারণত ফ্লাইট স্থগিত হওয়ার প্রধান কারণগুলো হলো-

  • সরকারের আকাশপথ বন্ধ করা।
  • বিমান বা ক্রু সম্পর্কিত সমস্যা।
  • অতি তীব্র আবহাওয়া।
  • বিমানবন্দর দুর্ঘটনা, আগুন ও ড্রোন হামলা।
  • নিরাপত্তা হুমকি বা সামরিক সংঘাত।

বাতিল হওয়ার পর কি করবেন?

পুনরায় বুকিং: বিমান সংস্থা সাধারণত বাতিল হওয়া যাত্রীদের অন্য ফ্লাইটে পুনরায় বুকিং দেয়। কখনো কাছের শহর থেকে বিকল্প ব্যবস্থা করা হয়।

ডাইভারশন বা ফিরিয়ে আনা: যদি বিমান আকাশপথে থাকে, তবে এটি মূল বিমানবন্দরে ফিরানো বা নিকটতম বিকল্প বিমানবন্দরে অবতরণ করানো হয়।

রিফান্ড ও বিনামূল্যে পরিবর্তন: প্রয়োজনে সংস্থা টিকিট বাতিল, পূর্ণ রিফান্ড বা পুনরায় বুকিং করতে দেয়।

যাত্রী অধিকার

  • ২ ঘণ্টা বা তার বেশি বিলম্বে খাবার বা রিফ্রেশমেন্ট প্রদান করা হয়।
  • ৬ ঘণ্টার বেশি বিলম্ব হলে রিফান্ড বা বিকল্প ফ্লাইটের দাবি করা যায়।
  • রাতভর বিলম্ব হলে হোটেল ব্যবস্থা ও ট্রান্সফার দেওয়া হয়।
  • রিফান্ড প্রক্রিয়া করতে হবে ১৪ কার্যদিবসের মধ্যে।

তবে যুদ্ধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার মতো ‘অসাধারণ পরিস্থিতি’ হলে ক্ষতিপূরণ প্রযোজ্য নাও হতে পারে।

হঠাৎ ফ্লাইট বাতিল হলেও যাত্রীদের পুনর্ব্যবস্থা, রিফান্ড এবং প্রয়োজনীয় সুবিধা পাওয়ার অধিকার থাকে। পরিস্থিতি অনুযায়ী বিমান সংস্থার নির্দেশনা মেনে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।